সুনামগঞ্জের প্রবীণ সাহিত্যিক সমাজসেবী ডাক্তার মোহাম্মদ করম আলী ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সুনামগঞ্জ পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর আবাসিক এলাকার তাঁর নিজ বাসায় রবিবার দুপুর সাড়ে বার টায় ডাক্তার করম আলী শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যু কালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তিনি পাঁচ নাতি দুই নাতনি সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে গেছে।
বেশ কিছু দিন থেকে তিনি বার্ধক্য জনিত রোগে ভূগছিলেন।
ডাক্তার করম আলীর জানাযার নামাজ আজ(২৫ এপ্রিল) রবিবার মোহাম্মদপুর ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। পরে মোহাম্মদপুস্থ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
ডাক্তার মোহাম্মদ করম আলীর অসুস্থতার সংবাদ শুন রবিবার সকালে তাঁর বাড়িতে রাজনৈতিক ও সামাজিক কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হন।
তাঁর মৃত্যুর সংবাদ শুনে মরহুমের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে সমবেদনা জানান সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত।
জানাযা পূর্ব সমাবেশে মুসল্লিদের উদ্দ্যশ্যে বক্তব্য রাখে জামেয়া ইসলামিয়া আল হেরা ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা তোফায়েল আহমদ খান, বিশিষ্ট মুরব্বি মাষ্টার আরশাদ আলী ও পরিবারের পক্ষে মরহুমের নাতি আব্দুস সাত্তার মোহাম্মদ মামুন।
ডাক্তার করম আলীর জীবনী-
১৯৩০ সালের ২৮ জানুয়ারী সুনামগঞ্জ পৌরসভার এক নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর আবাসিক এলাকায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন । তাঁর পিতা মরহুম মুনশী হামিদ আলী ও মাতা মরহুমা জরিনা খাতুন । তিনি তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনামলে মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহন করেন । ডাক্তার মুহাম্মদ করম আলী নুরুন্নেছা খাতুন এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
তিনি ব্যাক্তিগত জীবনে এক সন্তানের জনক ।
কর্মজীবনের তিনি লেখালেখি, সাংবাদিকতা, দলিল লেখক ও হোমিওপ্যাথি ডাক্তর হিসেবে কাজ শুরু করেন । তিনি সমাজের নানা পেশায় জড়িত করে সমাজ গঠনে গুরুত্পূর্ন ভূমিকা পালন করেন । তিনি সুনামগঞ্জ ঐতিহ্যবাহী আল হেরা ফাজলি ডিগ্রী মাদ্রাসার অন্যতম প্রতিষ্টাতা ।
পাকিস্তান আমলে তিনি ’জাহানে নও’ পত্রিকার নিজস্ব সংবাদদাতা নিযুক্ত হন । এক পর্যায়ে তিনি শিক্ষকতার মহান পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেন । ষাটের দশকে তিনি স্থানীয় ফুরকানিয়া মক্তবে (তৎকালীন প্রাইমারি) শিক্ষকতার দায়িত্ব নিয়ে আদর্শ সমাজ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেন । ১৯৫৭ খৃষ্টাব্দে রংপুর দি হোমিও রইসি ম্যাডিক্যাল কলেজ’ থেকে হোমিও চিকিৎসার উপর এইচ.এল.এম.এস ডিপ্লোমা ডিগ্রী লাভ করেন ।
লেখালেখির জীবনে ডাক্তার মুহাম্মদ করম আলীর রয়েছে নিজস্ব ভান্ডার । নিজে গড়ে তুলেছেন ব্যাক্তিগত লাইব্রেরী । এখন পর্যন্ত লেখকের ১৩টি বই প্রকাশিত হয়েছে । বইি গুলো হলো-কবর পূজা, এখতেলাফ ও দ্বীনি দায়িত্ব, গান তবু গান নয়,একাত্তরের খগড়া নল, ভব ঘুরের ডায়েরী, মুহাম্মদপুর দরগাহ, ভোট এসেছে ভোট, আমার বাল্যকাল, আমার যৌবন ও বার্ধক্য, সোনার মানুষ। এছাড়া তারউপদেশ মূলক লেখা বই স্নেহাশীষ” ।
