সিলেটে মিথ্যা ও সাজানো ধর্ষণ মামলায় আসামী হাজী সোহেল আহমদ কে আদালত মামলার অভিযোগের দায় হতে অব্যাহতি দিয়েছেন। অভিযুক্ত সোহেলের বিরুদ্ধে কথিত মামলার অভিযোগ গঠনের উপাদান বিদ্যমান আছে বলে প্রতীয়মান না হওয়ায় সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক(জেলা জজ) গত ১০ মার্চ’২০ ইং তারিখে এ আদেশ প্রদান করেন।ফলে অভিযুক্ত সোহেল এ মামলার দায় থেকে মুক্তি পান।
জানা গেছে, সিলেট নগরীর ডহর কলাপাড়ার ফজল মিয়ার কলোনীতে বসবাস করতো সুনামগঞ্জ তাহিরপুরের সোহেল মিয়া ও তার স্ত্রী তানজিনা বেগম। তানজিনা তার বোন সুনিমা ওরফে সুনজিনাকে ও (১৯) ওই কলোনীতে নিয়ে আসে এবং বিভিন্ন বাসায় কাজে দিতো। এসময় সুনিমার দৈহিক সর্ম্পক গড়ে ওঠে স্থানীয় বখাটে ও লম্পটদের সাথে। এক পর্যায়ে সুনিমা অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়লে তার দুলাভাই সোহেল স্বামী সেজে সুনামগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে সুনিমার গর্ভপাত ঘটায়। আর এ সুযোগে এলাকার একটি কুচক্রী মহল প্ররোচনা ও ইন্ধন দিয়ে তানজিনাকে দিয়ে ২০১৮ সালের ২২ এপ্রিল সিলেট কোতোয়ালি থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করায় যা কোতোয়ালি মডেল থানার মামলা নং-৪৯ (৪)১৮। এ মামলায় মিথ্যা ভাবে ডহর কলাপাড়া এলাকার হাজী সোহেল আহমদ কে একমাত্র ধর্ষক সাজিয়ে আসামী করা হয়। তদন্তে মামলা মিথ্যা প্রমানিত হলে পুলিশ আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দিলে বাদী নারাজি দাখিল করলে পুনঃতদন্তে দেওয়া হয়। পরবর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হলে আদালতে শুনানী হয়। র্দীঘ শুনানী শেষে মামলাটি মিথ্যা ও সাজানো প্রমানিত হয়।তাই সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হাজী সোহেল আহমদ কে নির্দোষ বলে অব্যাহতি প্রদান করেন। হাজী সোহেল আর্থিক ও সামাজিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন জানিয়ে একই ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ২০০০ এর ১৭ ও ৩৪ ধারায় একটি পাল্টা মামলা দায়ের করেন,যাহার নং ৩৫৫/২০২০। আদালত হাজী সোহেল আহমদের মামলাটি গত ২৮ সেপ্টেম্বর’২০ আমলে নেন এবং মিথ্যা ধর্ষণ মামলার বাদী তানজিনা বেগম ও ভিকটিম সুনিমা ওরফে সুনজিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। এ মামলায় অভিযুক্ত তানজিনা ও সুনিমা পলাতক রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
