রাফিদুল ইসলাম চৌধুরী:
ঢাকার মেয়ে জাহিয়ান ফাতিমা মায়ীশা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী। যার প্রিয় কাজ হলো অবসর সময় পেলেই ঘুমানো। তবে আরও একটি পছন্দের জিনিস হলো ভ্রমণ। ভ্রমণের নেশা থেকে আগ্রহ বাড়ে সাইক্লিংয়ের প্রতি।
২০১৩ সালে মায়ীশার বাবা মা সিলেটে বেড়াতে আসেন। অর্জুন তলায় বসে যখন বাবার সঙ্গে গল্প করছিলেন তখনই চোখে পড়ে ভার্সিটির একজন ছাত্রী সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে বাবার কাছে সে বছরের বার্থ ডে গিফট হিসেবে একটি সাইকেল চান। তবে মায়ীশা কল্পনাও করতে পারেননি তার বাবা তাকে জন্মদিনের উপহার হিসেবে সত্যিই সাইকেল কিনে দেবেন। সিমন নামের সেই মেয়ে সাইক্লিস্টকে দেখে অনুপ্রাণিত হলেও সাইকেল চালানো শিখছেন শাবিপ্রবির আরেক ছাত্র অরিয়নের কাছ থেকে।
মায়ীশা যখন সাইকেল চালানো শিখেছেন তখন সিলেটে সাইক্লিং তেমন একটা জনপ্রিয় ছিলনা। ছেলে সাইক্লিস্ট দেখলেই মানুষ এ্যালিয়েন দেখার মত চমকে উঠত। সেখানে মেয়ে সাইক্লিস্টদের কথাতো ভাবাই যায়না। কিন্তু সেই ২০১৩ সালেই তিনি যাতায়াতের বাহন হিসেবে বেছে নেন বাই সাইকেল। সেই সময় মায়ীশা সাইক্লিংটাকে খুব উপভোগ করতেন। সেই সময়ের মজার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে েিগয় বলেন, “মদীনা মার্কেটের কাছে তখন ড্রেনের সংস্কার কাজ চলছিল। যার ফলে অনেক ড্রেনের ঢাকনাই খোলা ছিল। তখন আমি সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলাম। এমন সময় একজন আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে হাটতে হাটতে হঠাৎ করেই ড্রেনে পড়ে যায়।” তাছাড়া প্রথম দিকে যখন সাইক্লিং শুরু করেন তখন সাইকেল চালিয়ে আসছেন। হঠাৎ সামনে একটা রিক্সা পড়ল। তিনি ব্রেক ধরার কথা ভয়ে ভুলেই গেলেন। অবশেষে ব্রেক ধরলেন ঠিকই কিন্তু ততÿণে রিক্সা উল্টে যায়। আশেপাশের সবাই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যায়। যদিও বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে ব্যাপারটা মায়ীশা খুব উপভোগ করেছিলেন। আরও অনেক মজার অভিজ্ঞতা আছে যেগুলো মনে হলে তার এখনও হাসি পায়। সেই সাথে ২০১৪-১৫ সালে সাস্টিয়ান সাইক্লিস্টের মডারেটরের দায়িত্বে ছিলেন। সাইক্লিংয়ে তার বেষ্ট পার্টনার শাহ রাজী সিদ্দিকি, অরিয়ন, অরাকাতুল জান্নাত এবং সিমন। মায়ীশার সাইকেলে সবচাতে বড় ট্যুর সুতারকান্দিতে। সে রাইডে তার সাথে ছিলেন শাহ রাজী সিদ্দিকি। আরেকটা রাইড ছিল হাসন রাজার নানা বাড়ি।
পথচারিদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পেয়ে থাকেন এই প্রশ্নের উত্তরে মায়ীশা বলেন, “আমি এখন পর্যন্ত সিলেটেই বেশি সাইক্লিং করেছেন। একটা ব্যপার লÿ্য করেছি। আমার সমবয়সী যারা তারা সাইক্লিংয়ে উৎসাহের পরিবর্তে বিদ্রæপ করেছেন। অথছ যারা বয়স্ক তারাই সাইক্লিংয়ে উৎসাহ দিয়েছেন। যদিও জিনিসটা উল্টো হওয়ার কথা ছিল।”
সাইক্লিংয়ে মায়ীশার বর্তমান কার্যক্রম কেমন তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বর্তমানে সাইক্লিং নিয়ে গবেষণা করছি। আশা করি এক বছরের মধ্যেই শেষ হবে।
সাইক্লিং নিয়ে ভবিষ্যৎ ভাবনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বয়স যতই হোক পরিবারের অনুমতি যেহেতু আছে তাই সাইক্লিংয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই। তাছাড়া আমার সাইক্লিং শুরু হয়েছে সিলেট থেকে। তাই সিলেট শহরটাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি। আশা করি নেদারল্যান্ডের আমষ্টারডাম শহরের মত সিলেট শহরেও মানুষের প্রধান বাহন থাকবে বাই সাইকেল। শুধু সিলেটেই নয়। সারা বাংলাদেশের নারী পুরুষ সকলের প্রধান বাহনই যেন হয় বাই সাইকেল।
নতুন যারা সাইক্লিংয়ে এসেছে এবং সাইক্লিং করতে ইচ্ছুক বিশেষ করে সাস্টের মেয়ে সাইক্লিস্টদের উদ্দেশ্যে মায়ীশা বলেন, “প্রতিদিন বিকেল বেলা ক্যাম্পাসের এক কিলোর মধ্যে অনেক মেয়কেই সাইকেল চালাতে দেখি। কিন্তু কখনও তাদের ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে দেখিনা। তারা যেন ক্যাম্পাসের বাইরে সাইকেল নিয়ে যেতে সাহস পায় সেই সাহস যোগানোর দায়িত্ব সকলকে নেয়ার আহবান জানাই।” বিয়ের দিনেও সাইকেলে চড়ার ইচ্ছে আছে কিনা জানতে চাইলে মুচকি হাসি দিয়ে বলেন, “যেহেতু আমি একজন সাইক্লিস্ট আশা যে আমার জীবনসঙ্গী হবে সেও যেন সাইক্লিস্ট হয়। তবেই বিয়ের দিনে সাইকেলে চড়তে পারব। কেননা আমি বিয়ের দিনও সাইকেল চালাতে চাই।”
বিয়ের দিনও সাইকেল চালাতে চাই:জাহিয়ান ফাতিমা
309
