মনজুর আহমদ, গোয়াইনঘাট থেকেঃ সিলেটের গোায়াইনঘাট উপজেলায় পাহাড়ী ঢল আর অবিরাম বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ এলাকার মানুষ পানিবন্ধি রয়েছে। উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ সর্ম্পন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কয়েক হাজার হেক্টর জমির আউশ ইরি ও সব্জি চাষ‘র ব্যাপক ক্ষতি দেখা দিয়েছে। দেশেরে বৃহত্তম দু‘টি পাথর কোয়ারীসহ সকল প্রকার কার্যক্রম বন্দ থাকায় লাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। এতে শ্রমিক ও অসহায় মানুষ তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে রয়েছে বিপাকে। এছাড়া জাফলং চা-বাগানে চা-শ্রমিকদের বসত বাড়ীসহ ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। অবিরাম বৃষ্টি আর ভারত থেকে নেমে আসা পিয়াইন ও সারী নদী‘র ঢলে উপজেলার সর্বত্র প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রোপা ও বোনা আমন, বীজতলা, এবং পাকা আউশ ও ইরি েেতর ব্যাপক তির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে পাথর ব্যবসায়ী ও পাথর বহনকারী যানবাহনের মালিক গন‘র ব্যাপক তি দেখো দিয়েছে। এছাড়া তাছাড়া বাড়ীর পুকুর এবং ফিশারী গুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কয়েক কোঠি টাকার মাছ বাসিয়ে গেছে। পিয়াইন ও সারী নদী দিয়ে আসা পাহাড়ী ঢলে উপজেলার পুর্ব জাফলং ইউনিয়ন, আলীরগাঁও ইউনিয়ন, রুস্তমপুর ইউনিয়ন, ডৌবাড়ী ইউনিয়ন, লেঙ্গুড়া ইউনিয়ন, তোয়াকুল ইউনিয়ন, নন্দীরগাও ইউনিয়ন ও পশ্চিম জাফলংসহ উপজেলার সর্বত্র পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে হাজার হাজার মানুষ পানি বন্ধি রয়েছেন। তাছাড়া উপজেলার সদরের সাথে যোগাযোগের দু‘টি রাস্ত্ াসারী-গোয়াইন ও সালুটিকর-গোয়াইনঘাট রাস্তার বিভিন্ন স্থানে সড়কের অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন শিা প্রতিষ্টানে চুতুরদিকে পানি থাকায় এবং অবিরাম বৃষ্টির কারনে শিার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্টানে যেতে পারেনি। অফিস পাড়ায় সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত থাকলেও সাধারন মানুষ এর উপস্থিতি খুবই নগন্য। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরির্দশকালে দেখা যায় অধিকাংশ গ্রামের চতুর পাশে পানি রয়েছে। তাই বাড়ী থেকে লোকজন বাহির হতে পারেনি। সারী-গোয়াইনঘাট-সড়কের লাফনাউট, কমপুর, বেকরা, বার্কীপুরসহ বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া সালুঠিকর-গোয়াইনঘাট সড়কের তুকুইর, কাটাখাল, দামারিসহ বিভিন্ন স্থান পানি উটতে শুরু করেছে। এতে করে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। অত্যান্ত কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছে শ্রমিকসহ উপজেলাবাসী। জাফলং পিয়াইন নদীতে ডাউকী নদীর ঢলে কোয়ারী বন্দ রয়েছে। হাজার হাজার নৌকা সারী বদ্ধভাবে নদীর তীরবর্তী এলাকায় শ্রমিকরা বেঁেধ রেখেছেন। পাথর শ্রমিক আলমাছ মিয়া জানান জানান ঢলের পানিতে কোয়ারী তলিয়ে যাওয়ায় শ্রমিকরা খুব কষ্টে রয়েছেন। কৃষক আব্দুর রহিম জানান ৭ম দফা বন্যায় এলাকার অনেক ক্ষতি হয়েছে, লোকজন অতি বৃষ্টি ও বন্যার কারনে চলাচল করতে পারেনি। বারহাল বাজারের ব্যবসায়ী আলাল জানান পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকর মানুষ পানিবন্দি রয়েছে, শ্রমিকরা বেকার রয়েছেন, ব্যবসায়ীরা ব্যবপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এরির্পোট লেখা পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে আরও পানি বৃদ্ধি হলে বড় তি হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। অদিবাসী নেতা ও খাসিয়া পনরয় সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি ওয়েলকাম লম্বা জানান বন্যায় পুঞ্জি এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে। পান ও সুপরী বাগান ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। তোয়াকুল ইউপি সদস্য শামছুদ্দিন আল আজাদ জানান তোয়কুল ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ পানি বন্ধি রয়েছে, রাস্তাঘাটে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্টানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। রস্তমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান আমার এলাকা সম্পন্ন তলিয়ে গেছে দেশের বৃহত্তম বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় প্রায় অর্ধলক্ষ শ্রমিক বেকার রয়েছেন এবং এলকার খোজ খবর রাখছি। উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সালাহউদ্দিন জানান সর্বক্ষনিক বন্যার খোজ খবর নিচ্ছি এবং ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিঠির সভা করে বন্যা কবলিত এলকার খবর নেওয়ার জন্য দায়িত্ব বন্ঠন করা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ানম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী জানান বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং সার্বক্ষনিক খোজ খবর রাখছি। ক্ষতিগ্রস্থদের সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ রাখছি।
গোায়াইনঘাট‘র সর্বত্র প্লাবিত, পাহাড়ী ঢল আর অবিরাম বৃষ্টি অব্যাহত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, অধিকাংশ মানুষ পানিবন্ধি, দু‘টি কোয়ারী বন্ধ, শ্রমিকরা বেকার
158
