সিলেটে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ তথা হিজড়াদের উপস্থিতি ও উপদ্রব অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। আচমকা গাড়িতে উঠে যাত্রীদের কাছে চাঁদা দাবি করাসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে চাঁদা আদায় করে আসছে তারা।
নিজেদের মতো করে অঙ্গভঙ্গি আর হাততালি দিয়ে ইচ্ছে মতো যার কাছ থেকে যেমন পারে টাকা আদায় করে। অনেকটা ফিল্মি স্টাইলে দিন-দুপুরে চাঁদাবাজি! আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও তাতে কোনো তোয়াক্কা নেই। অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে অসহায়ের মতো চেয়ে থাকতে দেখা যায়!
জানা যায়, সিলেট নগরীর অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিজড়াদের দেখলে দোকানের গ্লাস বন্ধ করে দেন। তবে সব চাইতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে পথচারি ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদেরকে। হিজড়াদের দাবিকৃত টাকা কেউ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে চলে যাচ্ছেতাই গালাগাল। নিজেকে অশ্লীলভাবে উপস্থাপন করে হরহামেশা অপমান-অপদস্থ করা হয় সাধারণ মানুষকে। এমনকি অল্প টাকা বা তাদের চাহিদামাফিক টাকা না দিলেও সামলাতে হয় বিব্রতকর পরিস্থিতি। তবে অধিকাংই অপমানজনক অবস্থার ভয়ে বা আত্মসম্মানের স্বার্থে অনিচ্ছা সত্ত্বেও মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে রাখেন। চাওয়ামাত্র দিয়ে দেন! এক্ষেত্রে প্রকাশ্যে এই চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করলে তো আর রক্ষা নেই। এতে ঝামেলা কমে না, বরং বাড়ে। ফলে দিন দিন এদের অপতৎপরতা বেড়েই চলেছে, যাচ্ছেতাই করে বেড়াচ্ছে। অথচ দেখার কেউ নেই। সংশ্লিষ্ট সবাই নীরব-নিশ্চুপ।
সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকার ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান বলেন, গত সপ্তাহে হিজড়ারা সোবাহানীঘাট এলাকায় এক প্রবাসীর গাড়ি আটকিয়ে ২ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছে। ওই প্রবাসী ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা তুলার সময় হিজড়াদের খপ্পরে পড়েন। টাকা দিতে প্রথমে অপরাগতা প্রকাশ করলে হিজড়াদের কয়েকজন গাড়িতে উঠে যায়। এরপর সম্মানের ভয়ে বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার আশরাফ উল্যাহ তাহের জানান, হিজড়াদের সংগঠনের সাথে কথা বলে এদেরকে সহায়তা করা হয়েছে। তবুও বিচ্ছিন্নভাবে যারা চাঁদাবাজিসহ নানা অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া আছে। সেই সাথে সংগঠনের নেতৃবৃন্দও এসব বিষয় তদারকি করে পুলিশকে সহযোগীতা করে যাচ্ছেন।
