নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট সরকারী কলেজের সামনে সিলেট তামাবিল মহাসড়কে সমাবেশ ও মিছিল করে প্রতিবাদী বিক্ষুব্ধ জনতা। এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে মিছিলকারীদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা দাওয়া হয়। এতে পুলিশ ও বিএনপির বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এঘটনায় এসএমপি’র শাহপরাণ থানার এস.আই মো: মশিউর রহমান বাদী হয়ে ৩০ জনকে এজহারভূক্ত করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা দায়ের করেছে।মামলা নং-১৮/১৬৮,তারিখ-১৫/০৯/২০১৮ইং।ধারা ১৪৩/১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩৫৩/৩৩২/৩০৭/৪২৭ পেনাল কোড ১৮৬০।
এব্যাপারে শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আসামীরা মারাত্মক অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রেখেছিল। তারা পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেছে, যানবাহনের ক্ষতিসাধন ও ভীতিকর অবস্থা তৈরী করেছিল। তারা বেআইনী ভাবে সমাবেশ মিছিল করে জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি ও সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে সহায়তা করছিল। ওসি আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে জানান।
মামলায় সিলেট জেলা ছাত্রদলের সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন দিনার, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাহবুবুল হক চৌধুরী,সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক মিল্টন,সাবেক যুবদল নেতা টিটন মল্লিক, সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দীন রুকন, জেলা বিএনপির সদস্য নাজিম উদ্দিন লস্কর, লামাপাড়ার আব্দুল গফুরের ছেলে নজরুল ইসলাম, সিলেট এম সি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক বদরুল আজাদ রানা, জেলা ছাত্রদলের নেতা শেখ আল মামুন রাজু, স্বেচ্ছাসেবক দলের দীপক রায়, সৈয়দপুরের পাখি মিয়ার ছেলে তারেক আহমদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহিদ সোহেল, বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আহমদ চৌধুরী, বিএনপি সদস্য সাইফুদ্দিন আহমদ ছাবিল, তারেক আহমদ, সাইফুল ইসলাম খালেদ, দিপু, আল আমিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, ছাত্রদল সদস্য আব্দুল্লাহ জাবেদ, বিএনপি সদস্য বিল্লাল, সিলেটের কানাইঘাটের হালাবাদি ৩য় গ্রামের আব্দুন নুরের ছেলে সিলেট জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম জনসংযোগ সম্পাদক সায়েম আহমদ(১৯),শাহপরাণ থানার সোনারপাড়ার ডা: এম এ জলিলের ছেলে জেলা ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান (৩২),শিবগঞ্জের কুটু মিয়ার ছেলে কয়েস আহমদ, বিএনপি সদস্য মকবুল, ইফতেখার, শিবগঞ্জের লাকড়ীপাড়ার বাবু মিয়ার ছেলে সাজু মিয়া(৩৩),বিএনপি নেতা মুনিম লস্কর, ছাত্রদল কর্মী মুন্না আহমদ, কামরান আহমদ সজল এজাহার ভুক্ত আসামী করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ আরো অনেককে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, গত ০৮/০২/১৮ইং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক রহমান সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা হয়। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বিএনপি নেতাকর্মীরা শনিবার মিছিলের আয়োজন করে। মিছিলকারারীরা সিলেট তামাবিল মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। রামদা, হকিস্টিক ইত্যাদি অস্ত্র হাতে নিয়ে সরকার বিরোধী শ্লোগান দিছে থাকে।পুলিশ যান চলাচলে ও রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার অনুরোধ করে।বিক্ষুব্ধ মিছিলকারীরা রাস্তায় চলাচলরত গাড়ীর গ্লাস ভাঙ্গচূর করে, পুলিশের সরকারী কাজে বাঁধা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে আঘাত করে, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হন।বাদীর বাম হাত, পিঠ ও কোমরে জখম হয়।অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে দাঙ্গাকারী আসামীরা পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মিছিলকারীদের মিছিলে পুলিশ বাঁধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়।পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ,টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম জনসংযোগ সম্পাদক সায়েম আহমদ সহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। সিলেট জেলা বিএনপি পুলিশের এ ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানান। পুলিশের ফ্যাসিবাদী আচরণ থেকে বিরত থাকতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
