সকলে মিলে সমবায়ের ভিত্তিতে সকল দায়-দায়িত্ব কাধে নিয়ে অগ্রসর হলে দেশ এগিয়ে যাবে:বিভাগীয় কমিশনার

by News Room

সিলেটের সদ্য বিদায়ী বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ ও এদেশের মাটি সমবায়ের জন্য একটি উর্বর ভ‚মি। দেশে অনেক বড়বড় সমবায় সমিতি রয়েছে যারা দেশ ও সমাজের উন্নয়নে কাজ করছে। সকলে মিলে সমবায়ের ভিত্তিতে সকল দায়-দায়িত্ব কাধে নিয়ে অগ্রসর হলে দেশ এগিয়ে যাবে। শনিবার সকালে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সমবায় অধিদফতর সিলেট বিভাগ আয়োজিত ৫০তম জাতীয় সমবায় দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সমবায়ে উন্নয়ন – এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারে দিবসটি উপলক্ষ্যে শ্রেষ্ঠ সংগঠন হিসেবে পুরস্কার পেল ব্র্যাক ও শেভরনের জীবিকা প্রকল্পের সমবায় সমিতি।

সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিভাগীয় কমিশনার আরো বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়ে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ও আমরা অনেকদূর এগিয়ে যাচ্ছি। তবে আরো উন্নয়ন হবে যদি আমরা সকলে মিলে সমবায় সমিতিগুলোকে এগিয়ে নিতে পারি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মেখ মুজিবুর রহমান সমবায়কে পছন্দ করতেন। বঙ্গবন্ধু বলেছেন সমবায়ের যাদুরস্পর্শে সুপ্ত গ্রাম বাংলাকে জাগিয়ে তুলুন। এটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী কথা। এ কথাকে লালন করে সমবায়কে এগিয়ে নিয়ে যেতে সং¯িøষ্ট সকলকে অনুরোধ জানান তিনি। সমবায়ের মাধ্যমে উৎপাদনে গতিশীলতা আসে উল্লেখ করে বিভাগীয় কমিশনার আরো বলেন, সমবায়ের মাধ্যমে মানুষের জীবনের উন্নতি ঘটবে এমন স্বপ্ন দেখতেন বঙ্গবন্ধু। কাজেই সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। অনুষ্টানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সমবায় অধিদফতর সিলেট বিভাগের যুগ্ন নিবন্ধক মৃণাল কান্তি বিশ্বাস। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিনা আক্তার ও জেলা সমবায় কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা। উপকার ভোগীদের মধ্যে সমবায় সমিতিগুলোর পক্ষে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক নাজমুল কবির পাবেল, মাহমুদা আক্তার সুমি, শাহ আলম, সুচেন্দ্র চন্দ্র নমঃ, তাজ উদ্দিন ও আব্দুল ওয়াদুদ ওদুদ।

অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগীয় পর্যায়ে কৃষিভিত্তিক/ সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন বিভাগে শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতি হিসেবে পুরস্কার পায় শেভরনের অর্থায়নে ব্র্যাক-শেভরণ পরিচালিত জীবিকা প্রকল্পের ডলুছড়া সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিঃ। জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবে পুরস্কার পান আলুতল শাপলা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিঃ-এর সম্পাদক মোছা: রিমা বেগম। উৎসবমুখর এই দিবসটি সিলেটে অবস্থিত বিভিন্ন সমবায়ের সদস্যদের উপস্থিতি এবং কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। দিবসটির উদযাপন শুরু হয় জাতীয় পতাকা ও সমবায় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে। আলোচনা সভায় জীবিকা প্রকল্প দ্বারা পরিচালিত জাহানপুর শাপলা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সম্পাদক মাহমুদা আক্তার সুমী সমবায়ের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, সমবায় অধিদপ্তরের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা এবং নিবন্ধন অর্জনের মাধ্যমে তাদের সমিতি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় বিশেষ ভুমিকা রেখেছে। এরইসাথে তাদের সমবায় গঠন এবং পরিচালনায় সর্বদা সাহায্য করায় তিনি ব্র্যাক এবং শেভরনকে ধন্যবাদ জানান। এই অনুষ্ঠানে জীবিকা প্রকল্প পরিচালিত শ্রীমঙ্গল এবং কমলগঞ্জ উপজেলার দুটি করে সমিতি তাদের অবদানের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা পায়। এই ৪ টি সমিতি হল শ্রীমঙ্গলের ডলুছড়া সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড, রাজাপুর সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড, কমলগঞ্জের উজিরপুর সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং ভোরের আলো সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড। এছাড়াও কসবা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড, নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ, উপজেলা পর্যায় (নবীগঞ্জ উপজেলা) কৃষিভিত্তিক/ সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন বিভাগে শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতির পুরষ্কার লাভ করে। উল্লেখ্য, জীবিকা প্রকল্প শেভরনের পরিচালিত গ্যাসক্ষেত্রের আশপাশে বসবাসরত পিছিয়ে পড়া জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে শুরু হয়। শেভরনের বিপিআই ইনিশিয়েটিভ দ্বারা এই প্রকল্পটি পরিচালিত হয় এবং ২০১৫ সন থেকে ব্র্যাক ও তার সহযোগী পার্টনার আইডিয়া এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে। জীবিকা প্রকল্পের মাধ্যমে ১১০টি সমবায় প্রতিষ্ঠা করা হয় যা পরে সরকারের সমবায় অধিদপ্তরের অধীনে নিবন্ধন লাভ করে। প্রকল্পটির দ্বিতীয় মেয়াদে, ২০২২ সাল নাগাদ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সমবায় সমিতি সমূহের টেকসইকরণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে।

You may also like

Leave a Comment