সিলেটের জালালাবাদ, বিবিয়ানা ও হবিগঞ্জের রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রে বহুজাতিক গ্যাস উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান শেভরনের অস্থায়ী কর্মীরা আন্দোলন শুরু করেছেন। চাকরি স্থায়ী করাসহ ১১ দফা দাবি আদায় না হলে গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
আজ রোববার দুপুরে নগরের লাক্কাতুরা এলাকায় জালালাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের সামনে বিমানবন্দর সড়কে দীর্ঘ মানববন্ধন করে ১১ দফা উপস্থাপন করে সমাবেশ করেন কর্মীরা। লাক্কাতুরায় জালালাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
বেলা ১১টায় শেভরন সিলেটের প্রধান কার্যালয় লাক্কাতুরা কার্যালয় ও প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে মানববন্ধন হয়। এতে বিভিন্ন দাবিসংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে দুই শতাধিক শেভরন কর্মী মানববন্ধনে একাত্ম হন। মানববন্ধন চলাকালে ১১ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বার্ষিক বকেয়া মুনাফা আদায়, চাকরি স্থায়ীকরণ, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, শ্রমিক কল্যাণ তহবিল সংযুক্তকরণ, জ্বালানি খনিজ ক্ষেত্রে শ্রমিক-কর্মচারীদের ঝুঁকি ভাতা, শ্রমিক-কর্মচারীদের বাসস্থান ও যোগাযোগ ভাতা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বৈষম্যনীতি দূরীকরণ, অনাদায়ি ছুটি নগদকরণ ও সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন ধার্য করা এবং প্রত্যেক শ্রমিক-কর্মচারীর বিমা সংযুক্তকরণ ও বেতনবৈষম্য দূরীকরণ।
১১ দফা বাস্তবায়ন না হলে টানা কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলন শুরু করার কথা জানিয়ে বলা হয়, ১৯৯৪ সাল থেকে অক্সিডেন্টাল থেকে ইউনিকল ও শেভরনের প্রথম পর্যায় থেকে তাঁরা চাকরি করছেন। তাঁদের মধ্যে কিছু কর্মীর চাকরি স্থায়ী হয়েছে। বাকিরা এখনো অস্থায়ী। এ অবস্থায় শেভরন বাংলাদেশ থেকে প্রকল্প গুটানোর তোড়জোড় শুরু করায় তাঁরা চাকরি স্থায়ীকরণসহ ১১ দফা দাবির বাস্তবায়ন চান।
মানববন্ধন কর্মসূচির সমন্বয়কারীরা বলেন, শেভরনে প্রায় ৮০০ অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন। যাঁদের বেশির ভাগ নিরাপত্তা শাখায় কর্মরত। এঁদের মধ্যে জালালাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে অস্থায়ী কর্মী আছেন ২৩২ জন। সম্প্রতি গণমাধ্যম সূত্রে শেভরন বাংলাদেশের ব্যবসা বিক্রি করে দিচ্ছে বলে জেনেছেন তাঁরা। ফলে চাকরি হারানোর শঙ্কা থেকে তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন।
শেভরনের অস্থায়ী কর্মীরা আন্দোলনে: দাবি না মানলে সিলেটের তিন গ্যাসক্ষেত্র বন্ধের হুঁশিয়ারি
132
