রুহুল ইসলাম হৃদয়, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার):‘দৈনিক মাত্র ১২০ টাকা মজুরিতে আমরা কি খাব আর কিনবোই বা কি? এমনিতেই পাঁচ-সাত সদস্যের পরিবারের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। পরিবারের সবাইরে নিয়া ঘরের ভেতরে ও বাহিরে খড়খুঁটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে সময় কাটাতে হয়। শীতের মধ্যে দিন কাটানো কত কষ্ট তা কেউ বুঝবে না।’ তীব্র শীতের মধ্যে দিন কেমন কাটছে জানতে চাইলে এমনভাবেই বলছিলেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমসেরনগর চা বাগানের শ্রমিক স্বপন গোয়ালা।
তারমতোই নি¤œ আয়ের শ্রমিক ঠেলা চালক আব্দুল্লাহ মিয়া, কৃষক নাদিম মিয়া, সাকির মিয়া বলেন, আমাদের আয় রোজগার নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় সংসারের খরচ যোগাবো না গরম কাপড় কিনবো?
গত বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারে টানা বৃষ্টির পর শৈত প্রবাহের কনকনে শীত ও হিমেল বাতাসে কমলগঞ্জের চা শ্রমিক ও নি¤œআয়ের মানুষজন কাবু হয়ে পড়ছেন। চা বাগান ও বনাঞ্চল অধ্যুষিত এ উপজেলার নি¤œআয়ের মানুষজনের মধ্যে গরম কাপড়ের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। সোমবার মৌলভীবাজার জেলায় সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এ উপজেলার গাছ-গাছালি ও সবুজে ঘেরা চা বাগানগুলোতে সাধারণত শীত, মৃদু বাতাস ও কুয়াশা তুলনামূলকভাবে বেশিই থাকে। ফলে প্রচন্ড ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়েন বস্তির নি¤œআয়ী ও চা শ্রমিকদের বৃহৎ একটি অংশ। পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে হাড় কাঁপানো শীতে তারা খুবই কষ্টে দিনযাপন করেন। কনকনে শীতের কারণে বয়স্ক ও শিশুদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগও বাড়তে শুরু করেছে।
চা শ্রমিকেরা জানান, স্বল্প আয় থাকায় গরম কাপড় কেনা তাদের অধিকাংশেরই সামর্থ্যরে বাহিরে। শীত নিবারনে এসব পরিবার সদস্যরা ঘরের ভেতরে ও বাইরে খড়খুঁটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে সময় কাটান। চা বাগানের প্রায় ৯০ শতাংশেরই খুবই দুঃখ কষ্টে দিনযাপন করতে হচ্ছে শ্রমিকরা অভিযোগ করেন।
আলীনগর চা বাগানের চা ছাত্র নেতা সজল কৈরী ও শমসেরনগরের দেওছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি শংকর রবিদাস বলেন, ‘শীতের সময়ে চা শ্রমিকদের মধ্যে বাগান কর্তৃপক্ষ কোন শীতবস্ত্র বিতরণ করেন না। কয়েক বছর আগে বাগান কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের মধ্যে চটের বস্তা বিতরণ করতো। এখন আর কিছুই দেয়া হয় না। অধিকাংশ শ্রমিক পরিবার সদস্যরা শীতে কষ্ট পোহাচ্ছেন। তাছাড়া চা বাগানগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থাও নাজুক। সবমিলিয়ে শীতে চা শ্রমিকরা ভালো নেই।’
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশেকুল হক বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় মানুষজন কাবু হয়ে পড়ছেন। দরিদ্র ও অসহায় মানুষজনের মাঝে বিশেষ করে চা বাগানে সরকারিভাবে পর্যায়ক্রমে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা শুরু হয়েছে।’
শীতে ভালো নেই চা শ্রমিকেরা:২০ টাকায় আমরা কি খাব আর কিনবোই বা কি?’
478
