শাহরিয়ার রহমান:পার্বত্য চট্টগ্রাম, সারা বাংলাদেশে গড়ে যেখানে চরম দারিদ্র্য সীমার নীচে বাস করা মানুষের হার ২৪ শতাংশ, সেখানে এ এলাকার ৬৫ শতাংশ মানুষেরই দৈনিক আয় ১৫০ টাকারও কম।
সেই পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলাধীন ৫ নং বেলছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব খেদাছড়া পাড়ায় বাস দিনমজুর পদ্ম মোহন ত্রিপুরা ও তার স্ত্রী শান্তি বালা ত্রিপুরা। প্রায় এক বছর আগে এই দম্পতির কোল জুড়ে আসে পুত্র রয়েল ত্রিপুরা।
ছোট্ট এ মায়াকাড়া হাসিমুখের শিশুটির জন্মগতভাবে পায়ুপথ বন্ধ থাকায় কোন রকমে পায়খানা, প্রস্রাব করতে পারছেনা। দিনমজুর পিতা, পদ্মমোহন ত্রিপুরা তার সামান্য যেটুকু সহায় সামর্থ্য ছিলো তা দিয়েই ছেলের জীবনের জন্য লড়াই শুরু করেন। ছেলেকে নিয়ে হাজির হন বিভাগীয় শহর চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
রয়েল ত্রিপুরার বয়স, শারিরীক স্বাস্থ্য ইত্যাদি বিবেচনা করে চিকিৎসক তখন তাকে একটা ছোট্ট অপারেশনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে সমস্যার সমাধান করেন।
তবে, বর্তমানে শিশুটিকে স্থায়ীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিতে প্রায় ২,৫০,০০০ (আড়াই লক্ষ) টাকা প্রয়োজন। শিশু রয়েল ত্রিপুরার বিষয়ে জানার পর ছাত্র সংগঠন “ত্রিপুরা স্টুডেন্টস’ ফোরাম” এগিয়ে আসে গণ-তহবিল গঠনের লক্ষে। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে ইতিমধ্যে সমাজের বিভিন্ন মহলের মানুষ সাড়া দিয়েছেন এবং এ রিপোর্ট লেখার সময় সর্বশেষ খবর অনুযায়ী প্রায় দেড় লক্ষ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এখনো এক লক্ষ টাকা জোগাড় করা প্রয়োজন এ নিষ্পাপ শিশুটির জীবন বাঁচাতে। শিশুটির চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহে ০১৮৫৩-৫২৬০৮৬ বিকাশ (পার্সোনাল) অথবা সোনালী ব্যাংক (একাউন্ট নাম্বারঃ ৫৪১২২০১০১১৬০৩)-এর মাধ্যমে সহযোগিতা পাঠানোর অনুরোধ করা হচ্ছে। টাকা পাঠানোর পূর্বে ত্রিপুরা স্টুডেন্টস’ ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক নক্ষত্র ত্রিপুরা (মোবাইলঃ ০১৫৫৭-১০৮২৩৬) অথবা খঞ্জন জ্যোতি ত্রিপুরা (০১৭৬২৫২২৩২৪) কিংবা শিশু রয়েল ত্রিপুরার পিতা পদ্ম মোহন ত্রিপুরা (০১৮৮৯৭৪৩২২০) সাথে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়ার অনুরোধ রইলো।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই “ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরাম” দেশের সুপ্রাচীন ও পিছিয়ে পড়া ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। সংগঠনটি জনগোষ্ঠীটির সকল শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করে সমাজের জন্য নানা উদ্যোগও নিয়েছেন। এর মধ্যে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানি পৌছানো, বৃত্তি প্রদান, শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ, বিনামূল্যে টিউশন সেবা অন্যতম।
