ডেস্ক রিপোর্ট: কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, বর্তমান সময়ে পুলিশের বক্তব্য রাজনীতিকরা দিচ্ছে। আর রাজনীতিকের বক্তব্য পুলিশ দিচ্ছে। তিনি বলেন, এমন একটা অবস্থা তৈরি হয়েছে যে মনে হচ্ছে পুলিশ আর রাজনীতিকরা একাকার হয়ে গেছেন।
শনিবার সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ‘নাগরিক ঐক্য প্রক্রিয়া’ আয়োজিত ‘জাতীয় সংকট নিরসনে জাতীয় সংলাপ’ শীর্ষক গোলটেবিলি আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ বাহিনী বা অন্যান্য বাহিনী বলছে, ২০১৯ সালের আগে কোনো নির্বাচন হবে না ( এ মন্তব্য করেছিলেন র্যাবের মহাপরিচালক)। অপরদিকে কিছু এমপি বলছেন, পিস্তল এখানে ধরে গুলিতে কাজ না হলে ওখানে ধরে গুলি করেন (জাসদ নেতা মঈনুদ্দিন খান বাদলের উক্তি)।
তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান রাজনৈতিকভাবে করতে হবে। এটাকে বর্তমান সরকার যে পথে সমাধানের চেষ্টা করছে তাতে সমাধান হবে না। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বর্তমান সংকট নিরসনের দায়িত্ব সরকারের। তাই সামাধানের জন্য সংলাপ আয়োজন করার দায়িত্ব সরকারের। তারা যেন একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয় যে আমরা এই সময়ের মধ্যে সংলাপের আযোজন করববো।
তিনি বলেন, আমরা ২০ দলের সংলাপের কথা বলছি না। জাতীয় সংলাপের কথা বলছি। রাষ্ট্রপতিকে আহ্বান করছি এই সংলাপের ব্যবস্থা করার জন্য।তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সাধারণ মানুষ।পরিবহন ব্যবস্থার দুর্গতির জন্য গ্রামের কৃষক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।তাদের পণ্য পরিবহনের অভাবে বিক্রি করতে পারছে না।
বিকল্পধারার মেজর মান্নান, বর্তমানের সংকট ১৯৯৬ সালের অবস্থার মত হয়েছে। তবে ডাইমেনশনের পরিবর্তন হয়েছে। আগে এই রকম হরতাল ছিল না। সেটা হয়েছে। আর নতুন করে যুক্ত হয়েছে পেট্রোল বোমা।তিনি বলেন, বর্তমান সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান দরকার। কারণ আমরা দেখেছি যারাই ক্ষমতায় যায় তারাই ক্ষমতা স্থায়ী করার চেষ্টা করে।
ড. শাহদীন মালিকের সঞ্চালনায় ও সু-শাসনের জন্য নাগরিক ‘সুজন’ এর চেয়ারম্যান এম হাফিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে গোলটেবিলে আরো উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. আকবর আলী খান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. রোবায়েত ফেরদৌস, প্রযুক্তিবিদ হাবিবুল্লাহ করিম, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান প্রমুখ।
