সিলেট মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেছেন- সরকার ষড়যন্ত্র করে পরিকল্পিতভাবে একের পর এক জামায়াত নেতৃবৃন্দকে হত্যা করছে। এবার সরকারি ষড়যন্ত্রের শিকার হলেন মীর কাশেম আলী। সরকার মিথ্যা, বায়বীয় ও কাল্পনিক অভিযোগে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে নিজেদের দলীয় লোকদের দ্বারা আদালতে মিথ্যা স্যা দিয়ে তাঁকে দুনিয়া থেকে বিদায় করার ষড়যন্ত্র করছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সরকারের অভিযোগের সাথে তার ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতাও নেই। সরকার প আদালতে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে যে সব ডকুমেন্ট দাখিল করেছেন সেখানে মীর কাশেম আলীর নাম নেই। অভিযোগে ঘটনার স্থান, সময় এবং যে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে সরকারের দাখিল করা ডকুমেণ্ট অনুযায়ী ওই সময়ে তিনি ওই স্থানে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি তখন ঢাকায় ছিলেন। মীর কাসেম আলী তার ঢাকায় অবস্থানের প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করেছেন। ওই সময়ে জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত খবরসমূহ প্রমাণ হিসেবে সরকার প আদালতে পেশ করেছেন। সরকারের দাখিল করা জাতীয় সকল পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে মীর কাসেম আলীর ঢাকায় বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তব্য রাখার খবর ও ছবি প্রকাশিত হয়েছে। পান্তরে ওই সময়ে জাতীয় দৈনিকগুলোতে চট্টগ্রামের যে সব খবর প্রকাশিত হয়েছে তার কোনটিতেই মীর কাশেম আলীর নাম নেই। এটা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে, অভিযোগ সংঘটনকালীন সময়ে মীর কাশেম আলী ঢাকায় ছিলেন, চট্টগ্রামে ছিলেন না। চট্টগ্রামের ঘটনাস্থলে তার অনুপস্থিতির প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সরকার প তার বিরুদ্ধে মিথ্যা স্যা প্রদান করে তাকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করার ব্যবস্থা করেছে। জনগণ সরকারের দায়ের করা মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলার রায় প্রত্যাখান করছে।
মঙ্গলবার ষড়যন্ত্রমুলক মামলার রায়ে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে দেয়া ন্যায়ভ্রষ্ট মৃত্যুদন্ডাদেশের রায় আপীলেও বহাল রাখার প্রতিবাদে ও বেকসুর খালাস দিয়ে নিঃশর্র্ত মুক্তির দাবীতে নগরীতে তাৎক্ষনিক বিক্ষোভ মিছিল বের করে সিলেট মহানগর জামায়াত। মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত কথা বলেন। মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা সোহেল আহমদ, সহকারী সেক্রেটারী মো: শাহাজাহান আলী, জামায়াত নেতা চৌধুরী আব্দুল বাছিত নাহির, হাফিজ মশাহিদ আহমদ ও সিলেট মহানগর ছাত্র শিবির সেক্রেটারী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন- সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য বিচারের নামে যে প্রহসনের আয়োজন করেছে দেশে-বিদেশে তার কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই। সরকারের মন্ত্রী ও সরকার দলীয় নেতাগণ গত কয়েক দিন যাবত দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতিদের ল্য করে যে বক্তব্য রেখেছেন তা আদালতের ওপর এক নগ্ন চাপ সৃষ্টি করা ছাড়া আর কিছু নয় বলে দেশের জনগণ মনে করে। মন্ত্রীদের এ বক্তব্যে মীর কাসেম আলী ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন বলে তার পরিবারের প থেকে আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছিল। ট্রাইবুনালের বিচার থেকে শুরু করে আপিল বিভাগ পর্যন্ত এ মামলার বিভিন্ন স্তরে সরকারের প থেকে দফায় দফায় বিচারকে প্রভাবিত করার জন্য যে অবাঞ্ছিত ভূমিকা পালন করা হয়েছে তা বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবেঅতি সম্প্রতি সরকারের দুইজন মন্ত্রী মীর কাসেম আলীর মামলা নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে প্রমাণিত হয় সরকার মীর কাসেম আলীকে হত্যা করার জন্য অস্থির হয়ে পড়েছে। আমরা সরকারের এ জঘন্য ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অবিলম্বে এই ন্যায়ভ্রষ্ট রায় বাতিল করে মীর কাশে আলী সহ জাতীয় নেতৃবৃন্দকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবী জানান তারা।
মীর কাশেমের রায়ের প্রতিবাদে নগর জামায়াতের মিছিল সমাবেশ
115
previous post
