মাগুরায় যৌতুক না পেয়ে কনে রেখে চলে গেল বর

by News Room

সিলেটের খবর ডেস্ক:বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ। শেষ হয়ে গেছে বরযাত্রীদের আপ্যায়ন। এবার বর পক্ষ যৌতুকের টাকার পরিমাণ নির্ধারণের জন্য বসলেন আলোচনায়।

কনের পিতার কাছে নগদ এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে বর ও তার লোকজন। দরিদ্র্য পিতার পক্ষে এতো টাকা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় কনে রেখেই চলে যায় বরযাত্রীরা। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে আটটার দিকে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পাল্লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।জানা গেছে, উপজেলার পাল্লা গ্রামের ফরিদ শেখের মেয়ের সাথে পাশ্ববর্ত্তী ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার চরনারানদিয়া গ্রামের আফসার উদ্দিন মোল্যার ছেলে সোহাগের সাথে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের তারিখ নির্ধারণ হয়।

ঘটনার দিন রাতে প্রায় ৬০ জন বরযাত্রি আসে মেয়ের বাড়িতে। যাত্রিদের আপ্যায়নসহ বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। এরপর বর ও তার লোকজন যৌতুকের জন্য বেকে বসে। বর সোহাগ মেয়ের বাবার কাছে একলাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা মেয়ের বাবা প্রথমে যৌতুক দিতে রাজী না হলেও মেয়ের সুখের চিন্তা করে ধার করে নগদ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। বাকি টাকা তিনি কয়েকটি কিস্তিতে পরিশোধ করবেন বলে তাদের জানান। এরপরও ছেলে পক্ষ রাজি না হয়ে তাদের গালমন্দ করে বিবাহিত স্ত্রীকে রেখে তারা চলে যায়। কণের পিতা অনেক অনুনয় বিনয় করলেও তাদের মন গলেনি।কনের পিতা ফরিদ শেখ কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, বিয়ের আগে তারা যৌতুকের বিষয়ে তেমন কিছু বলেনি। বিয়ে শেষ হওয়ার পরই বরপক্ষ মোটা অংকের নগদ টাকা দাবি করেন। হৃতদরিদ্র্য এই কৃষকের পক্ষে এক সাথে এতো টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তিনি তার মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে এখন চিন্তিত।

মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি জেনে তিনি তাৎক্ষনিক মেয়ের বাড়িতে গিয়েও তাদের পাননি। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে বরপক্ষের লোকজনের সাথে যোগাযগের চেষ্টা করছেন।

দীঘা ইউপি চেয়ারম্যান আছাদুজ্জামান বলেন বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় কনে পক্ষ আইনি সহায়তা চাইলে তিনি সহযোগিতা করবেন বলে জানান।

You may also like

Leave a Comment