ব্রাজিল থেকে ফিরে

by News Room

লাকী আক্তার : এক মাসের রাজনৈতিক শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে গত বছরের নভেম্বরে ব্রাজিল যাই। সাগর, মহাসাগর কিংবা মরুভূমি পার হয়ে সুদূর ব্রাজিলের বিখ্যাত শহর সাওপাওলো থেকেও দূরে গুয়ারারেমার বিদ্যালয়ে আমেরিকা, লাতিন আমেরিকা, আরব, এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপের ৪৪ জন শিক্ষার্থী ছিল আমার সঙ্গী। ৫ সপ্তাহের এই বিরল অভিজ্ঞতা অল্প কথায় লিপিবদ্ধ করার চেষ্টাও একটা দুঃসাধ্য চেষ্টা। ব্রাজিলের ভিসার দীর্ঘ জটিলতা কিংবা ইমিগ্রেশনের অজস্র প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যখন বিমানে উঠি, সেদিন আমার সঙ্গী হয়েছিলেন দুজন শ্রমজীবী নারী। যারা বিন্দুমাত্র ইংরেজি জানেন না। বিমানেও তারা জড়োসড়ো হয়ে বসে ছিলেন। এমনকি বিমানে খাবার গ্রহণের সময়ে বিমানবালার কথার প্রতিউত্তর না দেয়ায়, আমি আগ বাড়িয়ে তাদেরকে জিজ্ঞেস করি কি খেতে চায় তারা। এরপর আস্তে আস্তে তারা আমার সাথে সহজ হয়ে কথা বলেন। আমি তাদের পছন্দ বিমানবালাকে জানাই। এরপর কথাপ্রসঙ্গে জানতে চাই কোথায় যাচ্ছেন তারা? জেদ্দা ছাড়া অবশ্য কিছুই বলতে পারলেন না তারা। শুধু বললেন একজন ভদ্রলোক আসবে এয়ারপোর্টে। মালিকের নাম জিজ্ঞেস করলে প্রতিউত্তরে বললেন কিছুই জানেন না। উল্লেখ্য তাদের দুজনেরই গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে। একজনের স্বামী মারা গেছেন, আরেকজনের স্বামী ঢাকায় রিকশা চালান। গ্রামের পরিচিত এক ভদ্রমহিলা কাজ করেন জেদ্দাতে। তিনিই নাকি সব ব্যবস্থা করেছেন! দুবাইয়ের বিশাল এয়ারপোর্টে আমি আমার গন্তব্য স্থলে যাওয়ার জন্য হাঁটতে থাকি। তখন অগত্যা পিছন থেকে সেই দুজন নারী আমাকে ডাকতে থাকেন। আমি থামলে কাছে এসে আমাকে হাত জোড় করে বললেন সহযোগিতা করার জন্য। কারণ তারা জানেন না কিভাবে কানেকটিং এয়ারলাইন্স ধরবেন। এরপর আমি দেখলাম আমার হাতে ৫ ঘণ্টার বেশি সময় আছে। তখন আমি তাদের নিয়ে তাদের কানেকটিং ফ্লাইটের নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেই। তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ফেরত আসি। দীর্ঘ ২৩ ঘণ্টা জার্নি আর ৬ ঘণ্টার ট্রানজিট মোট ২৯ ঘণ্টার জার্নির পর যখন সাওপাওলো বিমানবন্দরে নামি, তখন দূরে স্কুুলের সাইনবোর্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকা এক ভদ্রলোককে দেখতে পাই। তাকে যখন ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করি, তিনি আমাকে নিতে এসেছেন কিনা? তিনি পর্তুগিজে কি যেন বললেন। তখন বুঝতে পারলাম উনি বিন্দুমাত্র ইংরেজি জানেন না। আর আমি জানি না পর্তুগিজ। অগত্যা তাকে অনুসরণ করা শুরু করলাম। তিনি গাড়ি চালানো শুরু করলেন। আগে থেকেই জানতাম আমাকে আরও ১০০ কিমি এর বেশি পথ গাড়িতে পাড়ি দিতে হবে। যেহেতু ভাষাগত কারণে কোনো কথাই বলতে পারছিলাম না, শুধুমাত্র ইশারায় কথা বলছিলাম। তখন বারবার বিমানের সেই দুই নারীর কথা মনে হচ্ছিল। একই রকম পরিস্থিতি হলেও আমি ছিলাম নির্ভার আর তারা ছিলো আতংকগ্রস্থ। ভাবতে ভাবতেই চোখ বুজে এলো। হঠাৎ করে তাকিয়ে দেখি স্কুলের গেট। বুঝলাম আমি এসে পৌঁছেছি। স্কুলের গেটেই একজন নারী হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন। আমাকে জড়িয়ে ধরে স্বাগত জানালেন। বললেন দ্রুত লাগেজ রেখে আসুন, খাওয়ার সময় প্রায় শেষ। তখন সন্ধ্যা ৭.২০। আমার মনে হল বিকেল ৫টা কেননা তখনো চারপাশে আলো। জানলাম এখানে অন্ধকার নামে ৮ টার পরে। স্কুল পরিচালনা কমিটির সেই নারী সদস্য প্রথমেই আমার হাতে তুলে দিলেন একটা মগ। সতর্ক করে দিলেন যে এটা হারিয়ে গেলে কফি কিংবা পানি খেতে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হবে আমাকে। আর এও মনে করিয়ে দিলেন যে, বাড়ি ফেরার আগে অবশ্যই এই মগটি স্কুলে ফেরত দিয়ে যেতে হবে। এরপর আমি আমার লাগেজ আমার নির্ধারিত রুমের দরজার সামনে রেখে নিচে নেমে তাকে অনুসরণ করলাম। তিনি বললেন রুমে কেউ নেই কারণ সবাই খাওয়ার জন্য ডাইনিং এ আছেন! এরপর খাবার গ্রহণ শেষ করে রুমে এসে সবার সাথে পরিচিত হলাম। তারা আমাকে বলল, তুমি খুবই ভাগ্যবান যে আজকের রাতের ক্লাস হবে না বলে ঘোষণা এসেছে। নাহলে এখনই তোমাকে ক্লাসে যেতে হত! কাল সকাল ৮টা থেকে আমাদের ক্লাস। তখন ঘুম ঘুম চোখে, হাসতে হাসতে তাদের বললাম, আমার নাম লাকী। তারাও সায় দিয়ে বলল, ইয়েস ইয়েস ইউ আর লাকী!! দোতলা খাটের উপরে উঠে নিমিষেই ঘুমিয়ে পড়লাম। ব্রাজিল থেকে ফিরে একই পরিমাণ জার্নি করে আমাকে বাংলাদেশে তাল মেলাতে আমাকে ভীষণ বেগ পেতে হয়েছিল। কিন্তু ব্রাজিলে গিয়ে সেই ক্লান্তি ঠিকঠাক মত ঝাড়ার সুযোগ হয়নি। একদিকে ভিসা জটিলতার কারণে আমি দেরিতে পৌঁছাই, অন্যদিকে স্কুলের টানা ক্লাস আর কাজে আসলে জার্নির কথা ভাবারই সময় ছিল না। পরদিন সকাল ৭টা ৩০ এ নাস্তার সময় একজন রুমমেট বলল এখন মিসটিকার সময়। তাকে অনুসরণ করলাম মনে হল স্কুলের পিটি হবে। সবাই সেখানে দাঁড়ানোর পর সমবেতভাবে আন্তর্জাতিক গান গাওয়া শুরু হল, আমি বাংলায় আন্তর্জাতিকের সাথে তাল মিলালাম। এরপর স্লোগান। এরপর ক্লাস। দিনের শুরুতে সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কাজ শুরু করাটা একটা নতুন শিক্ষা মনে হল। এরপর প্রথম ক্লাসে আমি আমার পরিচয় দিলাম। অন্যরাও তাদের নাম এবং দেশ, সংগঠনের পরিচয় দিলো। কিন্তু শুধুমাত্র দেশের নাম ছাড়া তাদের কঠিন এবং ভিন্ন নাম খুবই দুর্বোধ্য ঠেকলো! কারো সাথেই তেমন পরিচয় নেই। অথচ ৩৬ দিন পর এই ৪৪ টি নাম, ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, দেশ, বয়স, ভাষা সব কিছু ছাপিয়ে একে অন্যের পরম আত্নীয়ে পরিণত হয়েছিল। আমাদের ক্লাসের নাম আমরা দিয়েছিলাম ‘রেড সান’ মানে লাল সূর্য। ব্রাজিলের গুয়ারারেমায় ২০১৮ সনের নভেম্বরের আন্তর্জাতিক ব্যাচ- রেড সান। বিভিন্ন দেশের বর্তমান অবস্থা বর্ণনা আর রুটিনের শক্ত শিডিউলের কারণে প্রথমদিকে তাল মেলাতে অসুবিধা হচ্ছিল। ঘুম থেকে উঠা-নাস্তা-মিস্টিকা-ক্লাস-কফিব্রেক-ক্লাস-মধ্যাহ্নভোজন-ক্লাস-স্কুলের সেচ্ছাসেবী কাজ-ক্লাস-মিটিং-ডিনার-ক্লাস-ঘুম সবকিছুতে অনভ্যস্ততা ক্লান্তিকর ঠেকছিল। কিন্তু ঠিক দুদিন পর আমাদের ক্লাস নিচ্ছিলেন ব্রাজিলের সাওপাওলোর এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক। নাম তার আল্ভারো। তিনি পর্তুগিজে ক্লাস নিচ্ছিলেন। দুজন অনুবাদক সর্বক্ষণ ইংরেজিতে অনুবাদ করে করে দিচ্ছিলেন। তার দর্শনের ক্লাস দিয়েই মূলত আমাদের প্রকৃত ক্লাস যাত্রা শুরু হয়। তার সহজবোধ্য দর্শনের প্রাণবন্ত আলোচনা যেন পুরো ক্লাসের সকলের মনোযোগে পরিণত হল। এরপর আমি থেকে আমাদের হওয়ার এই এক মাসে আমাদের সকল কিছুতেই ভাল লাগা তৈরি হতে থাকলো। যেদিন শেষ ক্লাস ছিল সেদিন হঠাৎ করেই আমাদের মেক্সিকান বন্ধু রদ্রিগো আক্ষেপ করে বলেছিল, আরও কিছু ক্লাস করা দরকার ছিল। অনেক আলোচনা বাকি ছিল। আরও কিছু সময় দরকার ছিল! অথচ এই পাঁচ সপ্তাহে অফিসিয়ালি আমরা ৩৬০ ঘন্টার ক্লাস অতিবাহিত করেছি!!! এমন একটা সময়ে ব্রাজিলে গিয়েছি যখন ব্রাজিলে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময়কাল। বলসানরোর মত উগ্র প্রতিক্রিয়াশীল ব্রাজিলের ক্ষমতায় এসেছে। প্রতিদিনই সেখানকার বামপন্থিদের উপর আক্রমণ হচ্ছে। হত্যা আর সংঘর্ষ চলছে বিভিন্ন জায়গায়। আমাদের শিক্ষকেরা বলছিলেন এটা আদর্শিক পরাজয়, এর থেকে ব্রাজিলকে মুক্ত করতে তাদের আরও বেশি সংগ্রাম আর বাস্তবতাকে অনুধাবন করে সঠিক রাজনৈতিক সংগ্রামের কৌশল নির্ধারণ করে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নাই। ব্রাজিলের অবিসংবাদিত বামপন্থি নেতা লুলা এখনো জেলে। এই স্কুলের সাথে কৃষকদের সম্পর্ক খুবই নিবিড়। ব্রাজিলে বামপন্থি সংগঠনের কৃষকদের নানান ধরণের সেটেলমেন্ট আছে। সেখানে অর্গানিক এবং এগ্রো ইকোলজির ভিত্তিতে তারা চাষাবাদ করে থাকেন। তাদের নিজস্ব উৎপাদন পদ্ধতি এবং বণ্টন পদ্ধতি রয়েছে। এই সেটেলমেন্টের মধ্যে দুইটা সেটেলমেন্ট ব্রাজিলের দুইটা দূরবর্তী শহর একটা পারানা আরেকটা মেনিজারাইয়ে অবস্থিত। স্কুলে আমাদের জানানো হল তিন দিনের জন্য দুইটি দলে ভাগ হয়ে আমাদের এই সেটেলমেন্টগুলো দেখে আসতে হবে। সানন্দে আমরা রাজী হলাম। আমি পড়লাম পারানার গ্রুপে। দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টার বাস জার্নি করে যখন পারানায় পৌঁছলাম তখন সবাই বেশ ক্লান্ত। আমাদের থাকার ব্যবস্থা হল একটা স্কুলে। এটা মূলত বিশ্ববিদ্যালয়। কৃষি সংশ্লিষ্ট বিষয় এখানে বেশি পড়ানো হয়। এখানেও গুয়ারারেমার স্কুলের মতই সবাই ভাগ করে সব কাজ করে। এর পরদিন সেখানকার অনেক কৃষকদের সাথে কথা হল, মাঠে মাঠে ঘুরে দেখেছিলাম কিভাবে তারা চাষাবাদ করছেন, তাদের উৎপাদিত খাদ্যের বণ্টন পদ্ধতি কেমন, কিভাবে তাদের কো-অপারেটিভগুলো চলে, কিভাবে তারা প্রাকৃতিক ঔষধের চাষাবাদ করেন। এ সকল কিছুর অভিজ্ঞতা হল খুব অল্প সময়ে। এই সেটেলমেন্টের একজন নারী কৃষক লেইলার কথা খুব মনে পড়ে, কথাপ্রসঙ্গে সে বলেছিল, ‘আমাদের খাদ্যই আমাদের প্রথম ঔষধ’। এরপর দিন ঘোষণা এলো ফেরার পথে আমরা লুলার জেলের সামনে লুলা ক্যাম্পে যাবো। পরদিন এক বিরল অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলাম আমরা। লুলা আমাদের কাছ থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে অবস্থান করছে। আমরা যারা সেখানে গিয়েছি সেই দিন সকালে জেলের দিকে তাকিয়ে ১৩ বার ‘শুভ সকাল লুলা’ বলে সমস্বরে বলে উঠলাম, ‘লুলা লিভ্রে’ মানে লুলার মুক্তি চাই। ১৩ বার শুভ সকাল বলার কারণ তিনি ব্রাজিলের ১৩তম প্রেসিডেন্ট। সেদিন ছিল লুলার বন্দী জীবনের ২৩৩তম দিন। এরপর ফিরে আবারো ক্লাসের পাঠে মনযোগী হয়ে উঠলাম। একদিন রবিবার সকালে আমদের নিয়ে যাওয়া হল সাওপাওলো শহরে। প্রথমবারের মত ব্রাজিলের সাওপাওলো শহরে আমরা সকলে মিলেই পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত যাদুঘর ‘আফ্রো ব্রাজিলিয়ান মিউজিয়ামে’ গিয়েছিলাম। আফ্রিকার কালো মানুষরা শ্রমে ঘামে কিভাবে ব্রাজিলকে গড়ে তুলেছে তার বিস্তারিত ঘুরে ঘুরে দেখলাম। দীর্ঘ দুই দশক ধরে এই মিউজিয়ামটিকে গড়ে তোলা হচ্ছে। এরপর দুপুরে সাওপাওলো শহরে কিছুক্ষণ থাকলাম। দেখতে পেলাম ব্রাজিলের ফুটপাথে কিভাবে গরিব মানুষেরা রাস্তায় শুয়ে আছেন। সাওপাওলোর রাস্তার ধারে ঝলমলে ম্যাকডোনাল্ডের দোকানের কোল ঘেঁষে এক ছিন্নমূল, জরাজীর্ণ, শীর্ণকায় গরিব মানুষকে দেখে আমাদের রাশিয়ার বন্ধু কাতিয়ার অশ্রুসিক্ত চোখ যেন আমাদের অপরাধী করে দেয়। শান্ত, চুপচাপ দীর্ঘ ২ ঘণ্টার জার্নি করে আমরা যখন স্কুলে পৌছাই তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে। ক্লাসের বাইরে শুধুমাত্র এই দুইটি জায়গায় আমরা গিয়েছি। আমাদের ক্লাস, মিসটিকা তৈরি, আমাদের ক্লাসের গ্রাফিতি আঁকা, বিতর্ক, বই প্রসঙ্গে আলোচনা, সাংস্কৃতিক রাতের প্রস্তুতি সব মিলিয়ে সময় যেন ফুড়ুৎ করে উড়ে গিয়েছিল। শেষ দিন সকালে স্কুলে প্রচুর অতিথি এসেছিল। আমাদের জন্য বিশেষ অনুবাদক এবং যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা ছিল। বলিবল কোর্টে সেই বিশাল আয়োজনে এসে উপস্থিত হলেন ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ। আমাদের ব্যাচ- রেড সানকে শুভেচ্ছা জানালেন। তার দুর্দান্ত বক্তব্য শুনলাম। এরপর বিকালে আমাদের নির্ধারিত ফুটবল ম্যাচ। স্কুলের পার্মানেন্ট টিমের বিপরীতে রেড সান গ্রুপের ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রীতি ম্যাচে ৪-২ গোলে রেড সান গ্রুপ জয় লাভ করলে আমরা মাঠের মধ্যেই আন্তর্জাতিক গাইতে শুরু করি। আমাদের স্লোগান ছিল লাল সূর্য, একতা-সমাজতন্ত্র-শক্তি!! তার ৩ ঘণ্টা পর আমার ফ্লাইট। রেড সান গ্রুপের প্রথম সদস্য হিসেবে আমি ব্রাজিল ত্যাগ করবো। সন্ধ্যা ৭.৩০। লাগেজ নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে এলাম। দেখি রুমের সামনে একে একে ৪৪ জন বন্ধু! স্কুলের শিক্ষক এবং কো-অর্ডিনেটরেরাও অনেকেই আসলেন। সকলে একসাথে গাড়ি পর্যন্ত এসে আন্তর্জাতিক গাইলাম। উল্লেখ্য এর আগেই আমরা শপথ করেছিলাম বিদায় বেলায় আমরা কেউ কাঁদবো না। আসলে আমরা শপথ করেছিলাম শপথ ভাঙ্গার জন্য!

লেখক : সাবেক সভাপতি, ছাত্র ইউনিয়ন, কেন্দ্রীয় কমিটি

You may also like

Leave a Comment