বিজয় দিবস ক্রিকেট টুর্নামেন্টে সিলেট স্টেডিয়ামের অভিষেক ম্যাচে আবাহনীর হার

by News Room
ক্রীড়া ডেস্ক: টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ তো এখনও মাসি তিনেক বাকি। আইসিসির সূচী অনুযায়ী এই তথ্য সবারই জানা। তবে কাল সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে মানুষের ঢল দেখে অনেকেই হয়তো ধাধায় পড়েছিলেন। বিশ্বকাপ কি তাহলে এগিয়ে আসলো নাকি?

বিজয় দিবস টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এমনই গোলক ধাধায় ফেলেছিলো ক্রিকেট পাগল মানুষকে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এই টুর্নামেন্টের প্রথম খেলা শুরু হবে দুপুর ১টায়। কিন্তু সকাল থেকেই স্টেডিয়ামমুখী জনতার ঢল। নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ সকলের সরব উপস্থিতিতে বিজয় দিবস টুর্নামেন্টের আনন্দ যেনো রূপ পেয়েছিলো উৎসবের। অবরোধে প্রায় অচল সিলেটে এ যেনো ক্রিকেট উৎসব। ক্রিকেটপাগল প্রায় ২০হাজার দর্শককে হতাশ করেনি মুশফিক-তামিমের আবাহনী ও ইউসিবি-বিসিবি একাদশ। ভালো ক্রিকেট উপহার দিয়ে তারা মন জয় করে নিয়েছে সিলেটবাসীর। বিপিএল এর বিকল্প এই টুর্নামেন্ট জয় দিয়ে শুরু করেছে তামিম ইকবালের ইউসিবি-বিসিবি একাদশ। মুশফিকের আবাহনীকে তারা হারিয়েছে ৬ উইকেটে। মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ জুটি ব্যর্থ মানে আক্ষরিক অর্থে বাংলাদেশ দলের পরাজয়। জাতীয় দলের অধিনায়ক-সহ-অধিনায়কের চরম ব্যর্থতায় টুর্নামেন্টের শুরুতেই হোচট খায় তারকা খচিত আবাহনী। বোলিংয়ে দেলোয়ার হোসেনের ৪ উইকেট আর ব্যাটিংয়ে মিথুন আলী’র দূদান্ত ফিফটিতে সহজ জয় তুলে নেয় তামিমের দল।

নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৪৫ মিনিট পরে শুরু হওয়া ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ইউসিবি-বিসিবি একাদশ। আগে ব্যাট করতে নেমে মুশফিকের আবাহনী প্রথমেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। একের পর এক ইউকেট পতনের ফলে তেমন একটা বড় সংগ্রহ দাড় করাতে পারেনি আবাহনি। শুরুর দিকে একমাত্র আফতাব আহমদ ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান বলার মতো রান করতে পারেননি। তিনি করেন ৩৩ রান। এছাড়া মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মিজানুর রহমান করেন ১৮। শেষের দিকে জিয়াউর ও সোহরাওয়ার্দী শুভ প্রতিপক্ষের উপর কিছুটা ছড়াও হয়ে খেললে শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে হারিয়ে আবাহনীর সংগ্রহ দাড়ায় ১৩৯ রান। দলের পক্ষে আফতাব ছাড়া শুভ ৩১ ও জিয়াউর রহমান ২০ ও ফরহাদ রেজা ১৭ রান করেন।

ইউসিবি-বিসিবি একাদশের পক্ষে দেলোয়ার হুসেন ৪টি, আল-আমিন ও মুক্তার হোসেন ১টি করে উইকেট নেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা তেমন একটা ভালো করতে পারেনি ইউসিবি-বিসিবি একাদশ। দলীয় ১৫ রানে ২ উইকেট হারায় তারা। ইমরুল ১৪ রান করে আউট হলেও রনি তালুকদার ফিরেন ০ রানে। দলের প্রাথমিক বিপর্যয়ে হাল ধরেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল মিথুন আলী। তামিম ৪৩ রান করে আউট হলেও মিথুন আলী অসাধারণ ব্যাটিং করেন। প্রতিপক্ষ বোলারদের তুলোধুনো করে ৫টি চার ও ৪টি ছয়ে ৪৪ বলে ৬৭ রান করে অপরাজিত থাকেন।

আবাহনীর শুভাশীষ রায় ২টি এবং ফরহাদ ও নাবিল সামাদ ১টি করে উইকেট নেন।

এর আগে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন। এসময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি স্টেডিয়ামের একটি। নতুন স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক রূপ পাওয়ার আগেই সবার মন জয় করে নিয়েছে। এই টুর্নামেন্টকে মাঠের প্রস্তুতি হিসেবে আমরা নিয়েছে। আশা করি আগামীতে এখানে বেশি বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা হবে।

তিনি আরো বলেন, খেলাধূলাকে সবার উর্ধ্বে রাখে বাংলাদেশের মানুষ। সুতরাং রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া কাপ কিংবা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ বিঘিœত হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সিলেটে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক লোকমান হোসেন ভুইয়া, শফিউল আলম নাদেল সহ অন্যান্যরা। –

You may also like

Leave a Comment