বাংলাদেশের বেকারত্ব ও কোটাবিরোধী আন্দোলন: তীব্র অসন্তোষ

by News Room

 

আছমা জান্নাত মনি

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষিত যুব সমাজের মধ্যে বেকারত্ব ও কোটা সংস্কার ইস্যুতে তীব্র অসন্তোষ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের অমনোযোগীতা ও নীতি-ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা দেশের বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক সরকারি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের যুব বেকারত্বের হার ১১.৪% এ পৌঁছেছে, যা দেশের সামগ্রিক বেকারত্বের হারের চেয়ে অনেক বেশি। উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও চাকরির বাজারে পর্যাপ্ত সুযোগের অভাব যুব সমাজকে হতাশায় নিমজ্জিত করছে।শিক্ষিত যুবকদের মতে, সরকারের কোটা ব্যবস্থা তাদের জন্য বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৮ সালের কোটাবিরোধী আন্দোলন ছিল এই অসন্তোষের প্রতিফলন, যেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে আসে এবং কোটা সংস্কারের দাবি জানায়। তবে সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিল সংযমহীন ও কঠোর। আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি নির্যাতন, আটক এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করা হয়। এর ফলে জনসাধারণের আস্থা আরো কমে যায় এবং অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।একজন আন্দোলনকারী বলেন, “সরকার যদি আমাদের কথা শুনতো এবং কোটার যথাযথ সংস্কার করতো, তাহলে এই সমস্যা এত বড় আকার ধারণ করতো না। তারা শুধু নিজেদের স্বার্থ দেখছে, জনগণের নয়।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেকারত্বের হার কমাতে সরকারের উচিত অবিলম্বে একটি কার্যকরী কর্মসংস্থান নীতি গ্রহণ করা এবং কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের মাধ্যমে মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করা। তাদের মতে, সরকারের বর্তমান নীতি ও ব্যবস্থাপনার অব্যবস্থাপনা জনগণের আস্থার সংকট তৈরি করেছে এবং এর ফলে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, “আমরা বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে কাজ করছি এবং কোটা সংস্কারের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এর জন্য সময় প্রয়োজন।”দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও যুব সমাজের দাবি মেনে নিয়ে সরকার যদি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে এর ফলে ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

লেখক: যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গল্পকার।

You may also like

Leave a Comment