ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরায় বৈঠক চলাকালে মেসে অভিযান চালিয়ে শহর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আমিনুর রহমানকে হত্যা এবং সভাপতিসহ সাত নেতাকর্মীকে গুলি করার প্রতিবাদে সোমবার সারা দেশে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ছাত্রশিবির।
রবিবার সন্ধ্যায় এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করে ছাত্রশিবির।
একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সাতক্ষীরায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেছে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী।
বিবৃতিতে ছাত্রশিবির সভাপতি আবদুল জাব্বার এবং সেক্রেটারি জেনারেল আতিকুর রহমান বলেন, মাসিক রিপোর্টিং বৈঠকে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালিয়ে শহর শিবিরের সেক্রেটারি গুলি করে হত্যা এবং বেপরোয়া গুলি চালিয়ে শহর সভাপতি আবু তালেবসহ ১০ নেতাকে আহত করে।
তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের যে রূপ দেশবাসী দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরায় দেখে আসছেন, তা বাংলাদেশের আইনের শাসনহীনতাকে প্রমাণ করে। শুধু এই জেলাতেই আওয়ামী সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে যে তাণ্ডব চালিয়েছে, তা ইতিহাসে নজিরবিহীন।
শিবির নেতা হত্যার প্রতিবাদে জানিয়ে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সাতক্ষীরায় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদেরকে ধরে ধরে হত্যা করা এ সরকারের রুটিন ওয়ার্কে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গুলি করে পাখি শিকারের মত মানুষ হত্যা করছে। পৃথিবীর কোনো যুদ্ধরত দেশেও এভাবে মানুষ হত্যার নজির নেই। এই খুনি সরকার একের পর এক হত্যাকাণ্ডে সাতক্ষীরাকে মৃত্যুপুরিতে পরিণত করেছে। বাংলাদেশের প্রতিটি জনপদ আজ রক্তাক্ত।
রবিবার বিকেল ৫টার দিকে সাতক্ষীরার কামালনগরে একটি মেসে অভিযান চালিয়ে পুলিশ শহর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আমিনুর রহমানকে (২৫) হত্যা করে। এ সময় সভাপতি আবু তালেবসহ সাত নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হন।
গুলিবিদ্ধ অন্যদের মধ্যে রয়েছেন- সাতক্ষীরা সদরের ঝাউডাঙ্গা গ্রামের নূর মোহাম্মাদ, তালার খলিসখালী গ্রামের আবদুস সবুর, শ্যামনগরের ইমরান হোসেন, খুলনা নগরীর আক্তার হোসেন, ফুলতলার আজিজুল ইসলাম ও আদুল গফুর।
অবশ্য শিবির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ‘সংঘর্ষ’ হয়েছে দাবি করে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক জানান, ‘বিকেলে কামালনগর এলাকায় গোরস্থানের পাশে একটি বাড়িতে ‘নাশকতার পরিকল্পনার গোপন বৈঠক’ হচ্ছে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।’
তিনি দাবি করেন, ‘এ সময় বৈঠকরত শিবির নেতাকর্মীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ২০/২২টি হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় ও গুলি করতে থাকে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুঁড়লে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়।’
পরে গুলিবিদ্ধদের উদ্ধার করে পুলিশ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমিনুল মারা যান বলে জানান ওসি।
তিনি বলেন, সংঘর্ষে চার কনস্টেবল আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর হোসেন, নূরুল ইসলাম ও জিল্লুর রহমান আহত হন। প্রাথমিক চিকিৎসাতেই তারা সেরে উঠেছেন।
