পুলিশের কঠোর অবস্থানে অবরোধ তুলে নিলেন চা-শ্রমিকরা

by News Room

নিউজ ডেস্ক: সিলেট বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন চা শ্রমিকরা। শনিবার দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিমানবন্দর সড়কের মালনীছড়া বাগানের কাছে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এসময় তাদের হাতে দেশীয় লাটিও ছিল। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দীর্ঘসময় অবরোধ করে রাখতে চাইলে পুলিশ অ্যাকশনে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। এতে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রূপক দাস ও জেলা কৃষক সংগ্রাম সমিতির আহ্বায়ক নূরুল ইসলাম মকবুলের মুক্তির দাবিতে তারা এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন জানিয়ে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারকৃত নেতাদের মুক্তির আল্টিমেটাম দেন।প্রসঙ্গত, সিলেটের কালাগুল চা বাগানের শ্রমিকদের উপর হামলার ঘটনায় শুক্রবার কালাগুল চা বাগানে সমাবেশ থেকে ফেরার পথে বিমানবন্দর থানা পুলিশ রূপক দাস ও নূরুল ইসলাম মকবুলকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে কালাগুল বাগানের সাধারণ শ্রমিকদের উপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দর থানার ওসি শাহ জামান।এর প্রতিবাদে শনিবার দুপুর ১২টায় চা শ্রমিক সংঘের কয়েকশত নারী-পুরুষ শ্রমিক সিলেট-বিমানবন্দর সড়কের মালনীছড়া বাগানের কাছে অবরোধ করে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে শ্রমিকদের অবরোধ তুলে নিতে বললে তারা  উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে গ্রেফতারকৃত নেতাদের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। তাদের নিয়মন্ত্রণে পুলিশ এপিসি (আর্মাড পার্সোনাল ক্যারিয়ার) ও অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে লাঠিচার্জের প্রস্তুতি নেয়। তখন আন্দোলনকারী শ্রমিকরা ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধ তুলে নেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. রহমত উল্লাহ জানান- সাধারণ শ্রমিকদের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত দুইনেতার মুক্তির দাবিতে চা শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে রেখেছিল। পরে তারা গ্রেফতারকৃত নেতাদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে মুক্তির দাবি জানিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।কালাগুল চা বাগানের শ্রমিকরা জানান- আগামী আগস্ট মাসে চা শ্রমিকদের আদি সংগঠন ‘চা শ্রমিক ইউনিয়ন’র নির্বাচন। ওই নির্বাচনে অংশ না নিতে ও ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্ত না করতে এনডিএফ’র আওতাধীন ‘চা শ্রমিক সংঘ’র নেতারা সাধারণ শ্রমিকদের চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বাগানে গিয়ে ভোটার ফরম বিতরণ করে আসেন। এরপর থেকে শ্রমিক সংঘের নেতারা শ্রমিকদের ঘরে গিয়ে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকেন।চা শ্রমিক সংঘ, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ ও কৃষক সংগ্রাম সমিতির লোকজন হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন শ্রমিককে আহতও করেন। ১৯ জুন শ্রমিক সংঘের নেতাদের হামলায় গুরুতর আহত হন সুমন কৌরি নামক এক শ্রমিক। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরও হয়।এছাড়া শ্রমিক সংঘের নেতাদের হাতে লাঞ্ছিত হন বাগানের ব্যবস্থাপক প্রদীপ বর্মা ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কম্পাউন্ডার প্রসূন কান্তি তালুকদার। শ্রমিক সংঘের নেতারা বাগান ব্যবস্থাপকের বাসার বিদ্যুৎ ও পানির লাইনও বন্ধ করে দেন।কালাগুল বাগানে চা শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যক্রম বন্ধ না করায় গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বাগানে ধর্মঘটের ডাক দেন চা শ্রমিক সংঘের নেতারা। তারা শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজে যাওয়া থেকে বিরত রাখেন।

You may also like

Leave a Comment