লাকী আক্তার: পরীমনির সাহসকে আমি তারিফ করি। পরীমনিকে জোর করে মাদকদ্রব্য খাওয়ানোর চেষ্টা এবং ধর্ষণ চেষ্টার পর, সেখান থেকে বের হয়ে তিনি বিচারের দাবি করেছেন। ৪ দিন ধরে বিচারের দাবি করলেও তা কেউ আমলে নেয় নি, বরং আরও দমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এমনিতেই আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা শূন্যের কোঠায়। আর নারীরা ভয়ংকরভাবে অনিরাপদ এখানে। ধর্ষন, হত্যা-খুনের পরেও বেশিরভাগ ঘটনার বিচার হয় না! ধর্ষনের পর ভিক্টিম ব্লেমিং, ধর্ষনের শিকার নারীকে নানাভাবে হেনস্থা, আর বিচারের দাবিতে থানায় থানায় ঘোরা, মামলা না নেয়া, নাজেহাল হওয়া একটা স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
পরিমনীর সাথে যা ঘটেছে সেটা আসলে ঐ একই কারণে। এ ঘটনাকে আলাদা করার কিছু নাই! কারণ ঐ শিল্পপতি নাসিরুদ্দিনের সাথে দহরম মহরম স্বয়ং বেনজির আহমেদের। ফলে ক্ষমতা আর রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নাসিরুদ্দিন কিংবা আনভীরেরা যেকোন কিছুই ঘটাতে পারেন।
তাই বিপর্যস্ত আর বিধ্বস্ত হয়েও, শেষ চেষ্টা হিসেবে কিংবা কোন উপয়ান্তর না দেখে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কারণ হিসেবে সাংবাদিকেরা জিজ্ঞেস করলে বলেছেন, যে তিনি আগে সম্ভাব্য সব জায়গায় গিয়ে হতাশ হয়েছেন। এখন একমাত্র ক্ষমতাশালী মায়ের কাছে তিনি এই দাবি জানাচ্ছেন। দেশের সকল ক্ষমতা এক জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে!
সংবাদ সম্মেলনের একেবারে শেষে বলেছেন, আমি মরে গেলে ভাববেন আমাকে হত্যা করা হয়েছে! আমি আত্মহত্যা করতে পারিনা! এই কথাটা আমার কাছে অত্যন্ত শক্তিশালী মনে হয়েছে। ভয়াবহ নিরাপত্তাহীন থেকেও সে যেই সাহসটুকু দেখিয়েছেন, সেটা অনেক বড় ব্যাপার। সেদিন মরে গেলে তার পরিবার আদৌ বিচার পেতো কিনা সন্দেহ আছে! মরে গেলে কত রংচং মিশিয়ে, ব্যক্তিগত ভাবে তাকে আক্রমণ করা হতো! এখনো করা হচ্ছে। ভাবখানা এমন যে সেতো সিনেমার নায়িকা! এ আর এমন কি!
মুনিয়া আত্মহত্যা করছে না তাকে হত্যা করা হয়েছে আমরা জানিনা! আমরা শুধু এটুকুই জানি, মুনিয়া বাঁচতে চেয়েছিলো! বোনকে বলেছিলো তাকে উদ্ধার করতে! কিন্তু মুনিয়া বাচতে পারেনি! পরীমনি সাহস করেই বলেছেন, তিনি আত্মহত্যা করবেন না! এই সাহসকে আমি স্যালুট জনাই!
একটা রাষ্ট্র দিন দিন দানবীয় হয়ে উঠেছে। এখানকার টাকাওয়ালা ক্ষমতাবান, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কত কি করতে পারে তার কোন ইয়ত্তা নাই! পরীমনি সাহস করে যে সত্যটুকু উচ্চারণ করেছেন, এটাতে এই রাষ্ট্রের চেহারা আরেকটু উদোম হলো জনগনের সামনে! পরিমনীর সাথে এই ঘটনা ঘটতে পারলে , সাধারণ নারীদের ক্ষেত্রে কি ঘটে তা সহজেই অনুমেয়।
১. পরীমনির সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার করতে হবে। নাসিরুদ্দিন সহ জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।
২. পরিমনীকে নিরাপত্তা দিতে হবে।
৩. সংবাদমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ দয়া করে পরিমনীর লাস্যময়ী ছবি দিয়ে, এই সংবাদ বিনোদন পাতায় নিউজ করবেন না! তিনি নির্যাতিত হয়েছেন, বিচার চাইছেন, এটা বিনোদন পাতার খবর কেন হবে?
লেখক:সাবেক সভাপতি-বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।
