397
ডেস্ক রিপোর্ট: বিএনপির মুখপাত্র সালাউদ্দিন আহমেদের ভিডিও বার্তায় আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার খোরাক তৈরি করেছে। গ্রেপ্তার এড়াতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা আত্মগোপনে থেকে ভিডিও বার্তায় আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করছে।
শাহবাগে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা, তফসিল স্থগিত করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করার দাবিতে শুক্রবার রাতে শনিবার থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যযন্ত অবরোধের ডাক দিয়েছিল ১৮ দল। গভীর রাতে সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি নেতা রিজভী আহমেদ। তবে পুলিশ তাকে আটকের পর বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্ব পাওয়া সালাউদ্দিন আহমেদ অবশ্য প্রকাশ্যে আসার বদলে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে।
এটা তার দ্বিতীয় দফা ভিডিও বার্তা। শনিবার ভোরে রিজভী আহমেদকে আটকের পরদিন এক বার্তা পাঠিয়ে প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্যের সমালোচনা করেন সালাউদ্দিন আহমেদ। দ্বিতীয় বার্তায় অবরোধ বাড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।
কেন প্রকাশ্যে আসার বদলে এভাবে অজ্ঞাত স্থান থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করছেন বিএনপি নেতা-জানতে চাইলে দলটির মধ্যম সারির একাধিক নেতা বলেছেন, গ্রেপ্তার আতঙ্ক থেকেই এমনটা করছেন সালাউদ্দিন আহমেদ।
শাহবাগে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় উস্কানির অভিযোগে মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আসামি করা হয়েছে ১৭ জন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে। পরদিন মালিবাগে বাসে আগুন দেয়ার ঘটনায় হত্যা মামলা মির্জা ফখরুলদের। সরকার স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছে বাসে আগুন দেয়ার ঘটনায় দায়ীদের ছাড়া হবে না। এই অবস্থায় আবারও আত্মগোপনে চলে গেছেন নেতারা। নেতারা কোথায় অবস্থান করে সে বিষয়ে ঘনিষ্ঠজন ছাড়া কেউ জানে না।
এ বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বলেন, ‘বিরোধী দলের এখন আত্মগোপনে যাওয়া ছাড়া কী করার আছে? তাদেরকে স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে দেওয়া হচ্ছে না।
এক প্রশ্নের জবাবে শাহদীন মালিক বলেন, ‘বিভিন্ন সময় আন্দোলনের সংস্কৃতি ভিন্ন ধরনের ছিলো। এখন কিন্তু বিরোধী দল রাস্তায় নামলেই তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে নেওয়া হয়’।
তবে এসবের অবসান চান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান। তিনি বলেন, ‘দুই দলই দেশে যুদ্ধ ঘোষণা করছে। তারা এক পক্ষ অপর পক্ষকে সহ্য করতে পারছে না। সরকার তার বাহিনী দিয়ে বিরোধী দলকে দমন করছে। আর বিরোধী দল আত্মগোপনে থেকে আগুন-জ্বালাও পোড়াও করছে। এসব চলতে থাকলে দেশের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে চলে যাবে’।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ উল আলম লেলিন বলেন, উপমহাদেশের বিভিন্ন আন্দোলন আমরা দেখেছি। সেসব আন্দোলনে মানুষের জমায়েত হয়েছে। মহাত্মা গান্ধির আন্দোলন দেখেছি। অসহযোগ আন্দোলন দেখেছি। তাতে কিভাবে মানুষের সমাগম ছিলো। অন্যদিকে আরেকটি আন্দোলন ছিল চোরাগোপ্তা হামলা। বিএনপি এখন সন্ত্রাসী দলে পরিণত হয়েছে। তারা চোরাগোপ্তা হামলা করছে। আগুন দিয়ে মানুষ মারছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি হয়ে গেছে।
তবে বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, সরকার যতো কঠোর হবে, তাদের আন্দোলন তত জোরদার হবে। তিনি বলেন, সরকার তাদের দাবির বিষয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপ করছে না। এই অবস্থায় টানা অবরোধে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। বিএনপির মতো বড় দলকে অগ্রাহ্য করে কিছু করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন নোমান।
