ধর্মপাশায় প্রভাষক জুয়েলের খুনীদের ফাঁসি দাবিতে মানববন্ধন

by News Room

সুনামগন্জ জেলা সংবাদদাতা: ধর্মপাশা উপজেলার কাকিয়াম গ্রামে জামালগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও যুবলীগ নেতা আবু তৌহিদ জুয়েল হত্যাকাÐের ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ৬ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় দিকে উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারে এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিক সমাজ এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা প্রভাষক জুয়েলে খুনিদের ফাঁসির দাবির পাশাপাশি মৃত্যুর পর তার ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে নয়-ছয় করায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ রফিকুল ইসলামের বিচার দাবি করেন তারা।
এদিকে, একই দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন এলাকাবাসী। স্মারকলিপির অনুলিপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব, দুদক চেয়ারম্যান, আইজিপি, ডিআইজি, বিশেষ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিবিআইকেও প্রদান করা হয়েছে।
অপরদিকে, প্রভাষক জুয়েল হত্যা মামলা তদন্তে করে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেশস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারোয়ার জাহান ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আওলাদ হোসেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বাদশাগ ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপাক আব্দুল হাই, মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহŸায়ক কুতুব উদ্দিন তালুকদার, প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমান আফজাল, সেলবরষ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. দুলা মিয়া, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামন মহন, স্কুল শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, এমদাদুল হক বকুল, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, কলেজ শিক্ষার্থী সালমান, রোজনাল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, প্রভাষক আবু তৌহিদ জুয়েল তিনি শুধু এক জন আদর্শ শিক্ষকই ছিলেন না। তিনি ছিলেন ধর্মপাশা উপজেলা যুবলীগের একজন পরিচ্ছন্ন নেতা। দুই বছর পূর্বে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা তাকে প্রকাশ্যে দিবালোকে পিটিয়ে হত্যা করলেও তার হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে সুবিধা নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম নিহত জুয়েলের ময়নাতদন্ত রিপোর্টটি নয়ছয় করে দোষীদের বাঁচানোর অপচেষ্টা করেন। পরে উক্ত ভ‚য়া ময়নাতদন্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দেন মামলার বাদী। আদালত নারাজি গ্রহণ করে পুনরায় সুষ্ঠু ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর সকালে উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের কাকিয়াম গ্রামের নিজ বাড়িতে বাড়ির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজনদের হামলায় প্রভাষক মোহাম্মদ আবু তৌাহিদ ওরফে জুয়েল (৪০) নিহত হন। পরে এ ঘটনায় ওইদিনই নিহত জুয়েলের বড় ভাই মোহাম্মদ শোয়েব রহমান বাদী হয়ে একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ও বিপ্লব মিয়াসহ ১১ জনকে আসামি করে ধর্মপাশা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর পর গত ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি ওই মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে।
এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগের পিবিআইর পুলিশ সুপার মোঃ সারোয়ার জাহান জানান, খুবই গুরুত্বের সাথে এ মামলাটির তদন্তের কাজ চলছে।

You may also like

Leave a Comment