নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশ আজ গভীর সংকটে। পুরো বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে বৃহৎ একটি কারাগারে। তিনি বলেন, জেল নামক কারাগারে মানুষের থাকার একটা নির্দিষ্ট জায়গা থেকে। কিন্তু বিরোধী মতের মানুষের জন্য সেই জায়গাটুকুও অবশিষ্ট নেই। এমন পরিস্থিতি শুধু আমার নয়, দেশের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের।দেশে লুটপাট-দুর্নীতির মহোৎসব চলছে।লুন্টনের স্বর্গরাজ্য এখন এই দেশ। জগদ্দল পাথরের মতো জাতির ঘাড়ে চেপে বসেছে ভোটারবিহীন অবৈধ সরকার। এই সরকারকে একা সরানো যাবে না। জনগণের ঐক্য অপরিহার্য। তিনি বলেন, সরকারের অরাজকতার দায় থেকে আমরাও মুক্ত নয়। আমাদের মাঝে একটি গোষ্ঠী সবসময় বিরোধ লাগাইয়া দিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ফাটল ও অনৈক্য তৈরী করে। তিনি সরকার পতনে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, ঐক্য বিরোধীরা গণদুশমন। জাতিকে মুক্ত করতে দেশপ্রেমিক জনতার ইস্পাত কঠিন ঐক্যের বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারী দেশে কোন নির্বাচন হয়নি। ভোটের নামে নিজদল সহ বিভিন্ন দলের কিছু প্রার্থীকে তুলে এনে নির্বাচন করতে বাধ্য করা হয়েছে। কাউকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। কাউকে ছুড়ে ফেলে দেয়া হয়েছে। বিশে^র ইতিহাসে প্রথম রেশনের মাধ্যমে বিরোধী দল গঠন করা হয়েছে। এটা আমাদের কথা নয়, সেই বিরোধী দলের নেতাদের কথা। নির্বাচনের নামে এমন প্রহসন চালিয়ে দেশের হাজার কোটি টাকা নষ্ট করার কোন দরকার নেই। কিছু মানুষকে নির্দিষ্ট করে তারা সরকার পরিচালনা করবে এমন ঘোষণা দিলেই চলে। তারা দেশের ভোট ব্যবস্থাকে একেবারে ধ্বংস করে দিয়েছে। নতুন প্রজন্ম তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেনা। তারা ১৪ তে বিনাভোটে সরকার গঠন করেছে। ১৮তে মধ্য রাতের ভোটে এবং ২০২৪ সালে ভাগাভাগির নির্বাচন করেছে। এমন ফ্যাসিস্ট সরকার বার বার ক্ষমতায় আসার পেছনে আমাদেরও দায় কম নয়। দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাস তৈরীর মাধ্যমে বিভক্তির দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীর পথচলা নির্ধারণ করতে হবে। ক্ষুদ্র স্বার্থ পরিহার করে দেশপ্রেমিক জনতা ও দলের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। সর্বোপরি সত্যিকারের মুক্তির জন্য কুরআনের সমাজ বিনির্মাণের বিকল্প নেই। সকল জুলুম-নিপীড়ন উপেক্ষা করে আমাদের পথচলা অব্যাহত থাকবেই ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, মাহে রমজান হচ্ছে মানবতার মুক্তি সনদ মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাযিলের মাস। এই মাসে নিজেদেরকে পরিপূর্ণ মুত্তাকী হিসেবে গড়ে তোলার শপথ নিতে হবে। এই মাসে কুরআন হাদীসের আলোকে জীবন পরিচালনার পাশাপাশি ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সবাইকে কাজ করতে হবে। কুরআনের বিজয়ের মাস মাহে রমজানের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে ঐক্য অটুট রেখে এদেশে ইসলামী জাগরন তৈরীর সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি শুক্রবার সিলেট মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে সাংবাদিক, পেশাজীবি, বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ ও রাজনীতিবিদদের সম্মানে অনুষ্ঠিত মাহে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট মহানগর আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে সাংবাদিক, চিকিৎসক, আইনজীবি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক, লেখক রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিতি ছিলেন। মাহফিলে দেশ-জাতির মঙ্গল ও জাতীয় নেতৃবৃন্দের মুক্তি-সুস্থতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন শায়খ ইসহাক আল মাদানী।
মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ারের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সুচীত মাহফিলের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা সোহেল আহমদ। ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন শাহরিয়ার হোসাইন রাজী।
মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।এতে আরো বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক ফজলুর রহমান,সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুকতাবিস উন নূর, সিলেট জেলা দক্ষিণ জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, জেলা উত্তরের আমীর হাফিজ আনোয়ার হোসাইন খান, নগর ছাত্রশিবির সভাপতি শরীফ মাহমুদ।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন- পবিত্র মাহে রমজান হচ্ছে কুরআন নাজিলের মাস। এই পবিত্র মাসে ইসলামের প্রাথমিক এবং চুড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত হয়েছিল। তাই আত্মশুদ্ধির মাস মাহে রমজান থেকে শিক্ষা নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় শপথ নিতে হবে। সকল জুলুম নিপীড়ন উপেক্ষা সত্য ও ন্যায়ের পথে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।
