নিউজ ডেস্ক: বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদার জিয়ার ছেলে তারেক রহমানকে ‘জানোয়ার’ বলে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ইয়াহিয়া খান ছিল একটা জানোয়ার। তার (তারেক রহমান) কথায়ও ইয়াহিয়ার সুর। জানোয়ারের বিচার হবে। তার হাতে অনেক রক্ত।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আপনার কুপুত্রকে জিহ্বা সামলিয়ে কথা বলতে বলবেন। নইলে বাংলার মানুষ সহ্য করবে না, বিশ্ববাসীও মেনে নেবে না।”
বিজয় দিবস উপলক্ষে বুধবার বিকালে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক জিয়াকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “লেখাপড়া শেখেনি, জানোয়ারের মতো কথা বলে। জানোয়ারের শিক্ষা কীভাবে দিতে হয়, মানুষ তা জানে। মানুষের কাছ থেকে জানোয়ার যে শিক্ষা পায়, তা-ই দেয়া উচিত এবং মানুষ তা দেবেও।”
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের একটি স্লোগান (ওরা মানুষ মারছে, আসুন আমরা পশু হত্যা করি) স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, “ইয়াহিয়া খান ছিল একটা জানোয়ার। তার (তারেক রহমান) কথায়ও ইয়াহিয়ার সুর।”
খালেদা জিয়ার উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “বেগম জিয়া তার ছেলেদের কী শিক্ষা দিলেন? রাষ্ট্রের টাকা কেন অপচয় করা হলো? পুত্রদের মানুষ না করে বড় চোর করেছেন। এখন লন্ডনে বসে ইতিহাস বিকৃতি করে চলছে। তার (তারেক রহমান) নাম নিতেও ঘৃণা লাগে। ইচ্ছাকৃত ইতিহাস বিকৃত করে যাচ্ছে। জিয়া-খালেদার ধারাবাহিকতায় এসব করে যাচ্ছে। লেখাপড়া শিখলে মানুষের মতো কথা বলত। জানোয়ারের শিক্ষা কীভাবে দিতে হয় দেশের মানুষ জানে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তারা হাওয়া ভবন সৃষ্টি করে মানুষ হত্যার পরিকল্পনা করে। কার চাকরি থাকবে, কারটা যাবে, তার তালিকা করে। দূর্নীতির মহোৎসব আর প্রতিটা কাজে কমিশন নিত। শেখ হাসিনা বলেন, ভাগ নিয়েও ঝামেলা হতো তাদের। ছোট ছেলে (আরাফাত রহমান কোকো) আর ফালু, বড় ছেলে (তারেক রহমান) আর মামুন।”
চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিএনপি বাঁচাতে পারছে না বলেই তারেক জিয়া এসব বলে যাচ্ছেন, এমন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “নিজামীর সাজা দিয়েছি, তাদের মনে বড় কষ্ট। সবার বিচার হবে। রায়ও একে একে কার্যকর হবে। আমি জানি দুঃখটা কোথায়? ইনশাআল্লাহ কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধীকে বাঁচাতে পারবে না।”
প্রথানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ এদের ছেড়ে দেবে না। যুদ্ধাপরাধী ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ সব হত্যা মামলার বিচার হবে। খালেদা-তারেক আইভী রহমানের খুনি। এরা খুন আর হত্যা ছাড়া কী করতে জানে! এরা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তারা পরাজিতদের দোসর।”
খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরি করেছেন, এমন দাবি করে
তার উদ্দেশে শেখ হাসিনা আরো বলেন, “এত সাধু হলে, কোর্টে যেতে ভয় পান কেন? এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন। চোরের মন পুলিশ পুলিশ। উনি তো (খালেদা জিয়া) কিছুই মানেন না, কোনো কিছু মানার অভ্যাস নাই। উনি স্বাধীনতায়ও বিশ্বাস করেন না।”
বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “তারা (বিএনপি) ঘোষক ঘোষক বলে গলা শুকিয়ে ফেলে। ঘোষক হলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করেন কীভাবে?” তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান অবৈধ রাষ্ট্রপ্রধান ছিল। হাইকোর্টের রায়ে তা প্রমাণিত।”
জিয়াউর রহমানই শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন- বিএনপির এমন দাবির জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “জিয়া আমাকে আনবে কোত্থেকে। জিয়া কলকাতায় আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছে, খালেদা জিয়া বাসায় আসতে চেয়েছিল- দেখা করিনি।”
আওয়ামী লীগের সভাপতি দাবি করেন, “বিএনপি মিথ্যা বলতে পারে। জিয়া আমাকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে পর্যন্ত ঢুকতে দেয়নি। মিলাদ পর্যন্ত পড়তে দেয়নি। জিয়া কীভাবে আনবে?”
সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন আমির হোসেন আমু, মতিয়া চৌধুরী, শেখ সেলিম, মাহবুব উল আলম হানিফ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ডা. দীপু মনি, আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কামরুল ইসলাম।
