জৈন্তাপুরে শেষ হল বারুণী স্নান উৎসব

by News Room

জৈন্তাপুর থেকে হোসেইন মিয়া:
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী বারুণীর স্নান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ (শুক্রবার) ভোর থেকে উপজেলার হরিপুর এলাকার ভাড়ার ডুয়ারে দলে দলে স্নান ও পূজা পার্বনে অংশ নেয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

বারুণীর স্নানে পাপ মোচন, নিজেদের আশাপূরণ ও দেহ পবিত্র করতে ফুল, ফল, ডাব,কলাসহ চন্ডী পাঠের মাধ্যমে বিশ্বাসকে লালন ও ধারন করে বিভিন্ন বয়সের নর-নারী প্রতি বছরের ন্যায় এবারও হরিপুর এলাকার ভাড়ার ডুয়ারে স্নান করে।

বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিপুল সংখ্যক পূণ্যার্থীদের সমাগমে মুখরিত হয়ে উঠে হরিপুর বাজার সহ ভাড়ার ডুয়ারে তীর্থ স্থান।

গঙ্গা হল পুণ্যদায়িনী। তাই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সকলেই গঙ্গা স্নান করে থাকে পুণ্য লাভের আশায়। আবার বাঙালির সমস্ত পূজা‚জোতে গঙ্গা জল, গঙ্গা মাটি অবশ্য প্রয়োজনীয়। বিশেষ বিশেষ তিথিতে যদি গঙ্গা স্নান করা যায় তাহলে অনেক পুণ্য সঞ্চয় করা যায়।চৈত্রমাসের কৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে শতভিষা নক্ষত্র যোগ হলে সেই তিথি বারুণী নামে পরিচিত। এই তিথিতে স্নান করলে বহুশত সূর্যগ্রহনের জন্য গঙ্গা স্নানের যে ফল সেই ফল লাভ করা যায়।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা জানান, চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে ভাড়ার ডুয়ারে স্নান করলে সব পাপ মোচন হয়ে যায় বলে প্রচলিত রয়েছে। পুণ্য লাভের আশায় প্রতিবছরই বিভিন্ন উপজেলা থেকে এসময়ে হাজারও মানুষ আসেন হরিপুর এলাকার ভাড়ার ডুয়ারে বা পুণ্যতীর্থে স্নান করতে।

তারা আরও জানান, এ ডুয়ারে স্নান করাকে অনেকে গঙ্গাস্নানের সমতুল্য মনে করেন। কিন্তু করোনার কারণে গত বছরও স্নানের অনুষ্ঠান বন্ধ ছিল। তাই এবছর লকডাউনের মধ্যে ঝুঁকি নিয়েই তারা গঙ্গাস্নানের জন্য একত্রিত হয়েছেন।

জৈন্তাপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি-তদন্ত) ওমর ফারুক মড়ল বলেন, হরিপুরে সকাল থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বারুনীর স্নান উৎসবে যোগ দেয়। এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কোন খবর আসেনি।

You may also like

Leave a Comment