ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান বলেছেন, দারিদ্র বিমোচনে ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে আমাদেরকে ফিতরা প্রদান করতে হয়। সাধারণত আমরা ঈদুল ফিতরের পূর্বে রমযানে যাকাত আদায় করে থাকি। যাকাত হলো ইসলামের একটি মৌলিক বিধান। পবিত্র কোরআন হাদিসে যাকাতের কথা অনেকবার এসেছে। সকলে মিলে যাকাত ও ফিতরা আদায় করলে সমাজে কেউই দরিদ্র থাকবেনা। সমাজের শিক্ষা বঞ্চিত মানুষের শিক্ষা বিস্তারে জামিআ সিদ্দিকিয়া অনন্য অবদান রেখে যাচ্ছে। বর্তমান গতানুগতিকধারায় জ্ঞান বিতরণ না করে জামিআ সিদ্দিকিয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমেও দেশের মানুষের উপকার করে যাচ্ছে। শুধুমাত্র তছবিহ জপে, নামায পড়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়না। আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য ‘হুক্কুল ইবাদ’ অর্থাৎ সৃষ্টির সেবা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
জামিআ সিদ্দিকিয়ার উদ্যোগে ‘দারিদ্র বিমোচনে ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ঈদসামগ্রী বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
সোমবার নগরীর বালুচরস্থ জামিআ সিদ্দিকিয়া প্রাঙ্গনে আল আমিন ফাউন্ডেশন ইউকে-এর সহযোগিতায় এ আলোচনা সভা ও ঈদসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
জামিআ সিদ্দিকিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গবেষক সৈয়দ মবনুর সভাপতিত্বে ও জামিআর উপ-পরিচালক মাওলানা রেজাউল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামিআর উপদেষ্ঠা অধ্যাপক বজলুর রহমান, চ্যানেল আই-এর মিডল্যান্ড প্রতিনিধি সৈয়দ নাসির আহমদ, বামির্ংহামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শামিম চৌধুরী। জামিআর শিক্ষক মাওলানা জাকারিয়া লস্করের পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামিআর পরিচালক মুফতি মনসুর আহমদ, প্রগতিশীল পাঠক সংঘ ‘শৈলী’র সভাপতি মাহবুব মুহম্মদ, মাহদি আহমদ চৌধুরী, জামিআর শিক্ষক জামিল চৌধুরী, জামিআর জোনাকি শাখার উপ-পরিচালক মাওলানা জিয়াউল হক প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন জামিআর শিক্ষার্থী ফাহমিদা চৌধুরী।
অধ্যাপক বজলুর রহমান বলেন, জামিআ সিদ্দিকিয়া বালুচরবাসীর জন্য একটি আশির্বাদ স্বরূপ। এই এলাকার অনেক সুবিধা বঞ্চিত ছেলেমেয়েদের কোন দ্বীনি শিক্ষা অর্জনের সুযোগ ছিলোনা। জামিআ সিদ্দিকিয়া প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে তারা এই সুবিধা পেয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে গবেষক সৈয়দ মবনু বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরে অনেক গরীব পরিবার ঠিকমতো তাদের ঈদ পালন করতে পারেনা। তাদের কথা চিন্তা করে জামিআ সিদ্দিকিয়ার উদ্যোগে ও আল আমিন ফাউন্ডেশন ইউকে-এর সহযোগিতায় এ ঈদসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। যারা প্রকৃত দাবিদার তাদেরকেই এ ঈদসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সকলে মিলে চেষ্ঠা করলে একদিন এদেশ থেকে দারিদ্রতা দূও হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, উক্ত ঈদসামগ্রীতে ২শত জন পরিবারের মধ্যে জনপ্রতি চাল, ডাল, তেল, নারিকেল, ময়দা, সেমাই ইত্যাদি প্রদান করা হয়।
জামিআ সিদ্দিকিয়ার ‘দারিদ্র বিমোচনে ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব’ শীর্ষক আলোচনা ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ
166
previous post
