জন্মদিনে সোহানের চির বিদায়, নেয়া হলো না মায়ের উপহার

by News Room
এফএ মুন্না, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০১৪ :: যে দিন কথা ছিলো আনন্দ ফুর্তি আর উল্লাস করার সে দিনই যেতে হলো চির বিদায়ে…..। আজ সোমবার সোহানের ছিল ১৯ তম জন্ম দিন। জন্মদিনে কতকিছু করার পরিকল্পনা ছিলো সোহানের। অনেক বন্ধু বান্ধব আসার কথা ছিল জন্মদিনে। সোহানের  জন্মদিন উপললেক্ষ মা বাবার কাছে চাওয়া বিশেষ উপহারটা  পাওয়ার সৌভাগ্য হলো না  তার। তার আগেই মা বাবার কাছে থেকে সাদা কাপড় নিয়ে চলে গেল না ফেরার দেশে।
রোববার সকালেও মায়ের সাথে কথা হয়েছিল সোহানের। মা শানুকে সে বলেছিল “আম্মা আগামীকাল আমার জন্মদিন। মনে আছে তোমার, তুমি বলেছিলে আমারে বিশেষ উপহার নতুন মটর সাইকেল দিবে”। মাও জন্মদিনে মোটর সাইকেল দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন সোহানকে।

আজ সোমবার সোহানের জন্ম দিন হলেও পাওয়া হলনা মায়ের কথা দেওয়া সেই কাংঙ্খিত উপহারটি । উপহারটির বদলে মা দিয়ে দিলেন একটুকরো সাদা কাপড়।  জন্ম দিন পালনের আগেই শেষ বিদায় দিতে হলো মা শাহানা বেগম শানু ও বাবা তাজুল ইসলামের কাছ থেকে।

আজ সোমবার নগরীর নয়াসড়ক মসজিদে যোহরের নামাজ শেষে জানাযার পর থাকে মানিকপীর (রহ.) এর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক নারী কাউন্সিলর ও মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী শাহানা বেগম শানুর ছেলে সোহান ইসলাম (১৮) মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মানবিক বিভাগের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিল। তারা বাবা তাজুল ইসলাম।
রবিবার বেলা আড়াইটায় সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ছোট বোন নুশরাত জাহান স্বর্ণাকে নিয়ে খুলিয়াপাড়স্থ বাসায় ফিরছিল সোহান। লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির কাছে আসার পর ১৫-২০ জন তার গতিরোধ করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে সোহানকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

You may also like

Leave a Comment