ন্যাশনাল ডেস্ক:বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ অসাম্প্রদায়িক ও বাম-প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ৪০তম সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হল আজ।
সাংকৃতিক ইউনিয়নের পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীতের মাধ্যমে আন্দোলনরত পাটকল ও চা শ্রমিকরা ছাত্র ইউনিয়নের সম্মেলন উদ্বোধন ঘোষণা করে।
বর্তমান সময়ের এই ঘোর অমানিশা কাটিয়ে আলোকে ছিনিয়ে আনার প্রত্যয়ে করোনাকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে আজ (১৯ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবাদবিরোধী রাজু স্মারক ভাস্কর্যের পাদদেশে সংগঠনটির ৪০তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হল।
উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান ও পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়।
উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ৪০তম সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদের আহ্বায়ক মনীষী রায়, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ৪০তম সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদের চেয়ারম্যান দীপক শীল, চা শ্রমিক নেতা মুকেশ কর্মকার অনুপ, পাটকল শ্রমিকনেতা এস এ রশীদসহ প্রমুখ।
‘আলোকে চিনে নেয় আমার অবাধ্য সাহস’- এই মুলমন্ত্রকে ধারণ করে এবারের জাতীয় সম্মেলনে সারাদেশ থেকেই প্রতিনিধি-পর্যবেক্ষকরা উপস্থিত হয়েছিলেন। করোনাকালীন পরিস্থিতির কারণে ব্যাপক জমায়েত করা হয়নি বলে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ জানান। তারপরেও প্রায় হাজারের মত জমায়েত নিয়ে সংগঠনটি তার ৪০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত করেছে বলেও নেতৃবৃন্দ দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, জাতীয় সম্মেলনে সংগঠনটির বর্তমান নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি
সাবেক নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত হয়েছিলেন।
উদ্বোধনী সমাবেশে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ পেশ করা হয়-
-অবিলম্বে ছাত্র ইউনিয়ন প্রস্তাবিত সর্বজনীন, গণমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক, একই ধারার, অসাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতি প্রণয়ন
করতে হবে।
-বাজেটে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় আয়ের ৮ ভাগ বরাদ্দ দিতে হবে। সামরিকখাতসহ
অনুৎপাদনশীল খাতে বরাদ্দ কমিয়ে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।
-স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র সমাজের ১০ দফা বাস্তবায়ন করতে হবে। ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে আন্দোলন থেকে উত্থাপিত ৯ দফা বাস্তবায়ন করতে হবে।
-সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম ৫০% টিউশন ফি মওকুফ করতে হবে। সকল শিক্ষার্থীকে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম
পরিচালনার জন্য এককালীন শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করতে হবে।
-করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
-স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিশেষ প্রণোদনা ও চিকিৎসা ভাতা প্রদান করতে হবে।
-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মুনাফালোভী শিক্ষাব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে।
-কৃষিভিত্তিক কারিগরি এবং ভোকেশনাল শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
-অবিলম্বে ইউজিসি’র ২০ বছর মেয়াদি কৌশলপত্র বাতিল করতে হবে।
-প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ছাত্র শিক্ষক অনুপাত কমাতে হবে। শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানোর প্রবণতা বন্ধ করতে হবে ও তাদের বেতন ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে।
-গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।
এসকল দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ছাত্র ইউনিয়ন ছাত্রদের পাশে থেকে তার লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এসকল দাবির পাশাপাশি বর্তমান এ দুঃসময়ের অন্ধকার দূরে ঠেলে আগামীর আলোকে ছিনিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ সারাদেশের ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল র্যালি রাজু ভাস্কর্য হয়ে শহবাগ-কাঁটাবন মোড়-মৎস্য ভবন-প্রেসক্লাব হয়ে রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মিলনায়তনে এসে শেষ হয় বলে একতা টেলিভিশনের প্রতিবেদক নিশ্চিত করেছেন।
আজ (১৯ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন মিলনায়তনে বিকেল ৩টা থেকে শুরু হবে দু’দিনব্যাপি কাউন্সিল অধিবেশন।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ একতা টেলিভিশনকে জানান, ৪০০ কাউন্সিলের উপস্থিতিতে সংগঠনের ৪০তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।
আগামীকাল ২০ নভেম্বর পর্যন্ত এ কাউন্সিল অধিবেশন চলবে। এ কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে ছাত্র ইউনিয়ন তার আগামী দিনের নেতৃত্ব নির্বাচিত করবে।
