শুভ কিবরিয়া: যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করার প্রচেষ্টা আপাতত খুব গতিমান, তা দৃশ্যমান নয়। ইতোমধ্যে যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক মার্কিন দূত স্টিফেন র্যা প আবার বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন। কথা বলেছেন সরকারি সব মহলসহ জামায়াতপক্ষীয় আইনজীবীদের সঙ্গে। মার্কিন এই দূত প্রকাশ্যেই যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে নিষিদ্ধের বিপক্ষে মত দিয়ে গেছেন। অন্যদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে নিষিদ্ধের জন্য নতুন আইন তৈরি হচ্ছে বলে সরকারি মহলের উদ্যোগের কথা জানা যাচ্ছে।
নতুন করে সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য নড়াচড়া শুরু করেছে বিএনপি। গত ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে পেরেছে বিএনপি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম সঙ্গী জামায়াতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক যে সুখকর পর্যায়ে রয়েছে, তা-ও দৃশ্যমান নয়। অন্যদিকে গণজাগরণ মঞ্চ সুস্পষ্টভাবে বিভক্তির শিকার হয়েছে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় কার্যকর করার বিষয়ে গণজাগরণ মঞ্চের সেই শক্তিমান কার্যক্রমেও ভাটা পড়েছে। তাহলে যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় কার্যকরে দীর্ঘসূত্রতা কি আরও প্রলম্বিত হবে? নাকি সরকার তার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে একে একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই ব্যবহার করবে? জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সরকারের কি কোনো গোপন সমঝোতা হয়েছে? নাকি জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার আওয়াজ ছড়িয়ে সরকার বিএনপির ওপর একটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করতে চাইছে?
কিন্তু তাহলে নতুন করে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জামায়াত নেতাদের গ্রেপ্তার শুরু করেছে কেন সরকার?
জামায়াতের দম
বেশ ক’মাস হলো সরকারের দিক থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে কথাবার্তা কমে গেছে। সরকারের যেসব মুখর মন্ত্রী জামায়াতকে নিয়ে বিপ্লবী ছিলেন, তারাও রণে ভঙ্গ দিয়েছেন। জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর করা, জামায়াতের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের হাত থেকে সরিয়ে নেয়ার যে আওয়াজ প্রায় প্রতিদিন তুলতেন সরকারের বড় নেতারা, তারা অনেক দিন ধরেই মুখে তালা মেরে বসে আছেন। অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাচনে জামায়াত নির্বিঘেœ অংশ নিয়েছে। উল্লেখযোগ্য উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের সাংগঠনিক নেতারা। জেলায় জেলায় জামায়াত এবং শিবির নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশি তাড়া হঠাৎ করেই স্তিমিত হয়েছে। জামায়াতের যেসব নেতাকর্মী জেলের বাইরে আছেন, তারাও মোটামুটি স্বস্তিতে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কাজ করে যাচ্ছিলেন। কোথাও কোথাও জামায়াত নেতাকর্মীরা সরকারদলীয় স্থানীয় নেতাকর্মীদের ম্যানেজ করে ধরপাকড় থেকে দূরে থেকেছেন। ফলে কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার পর থেকে এবং ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন সম্পন্ন হবার পর জামায়াত যে চাপে ছিল, তা থেকে কিছুটা দম নেবার সুযোগ তারা পায়। সরকারের সঙ্গে একটা গোপন সমঝোতার আভাস তখন মেলে। সম্প্রতি সরকার আবার বিভিন্ন জেলায় এবং ঢাকায় জামায়াত-শিবির নেতাদের ধরপাকড় শুরু করেছে। ফলে, সহসাই প্রশ্ন উঠছে, জামায়াতের দম নেবার সময় কি ফুরালো?
আমেরিকান ফাঁড়া
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের পক্ষ নিয়েছিল সরকারিভাবে। তখন মার্কিন এবং সোভিয়েত ব্লক সুস্পষ্টভাবে বিশ্ব রাজনীতির দুই গতিপথ নির্ধারণ করত। হালে সে দশা নেই। গোটা বিশ্বের রাজনীতি দৃশ্যমানভাবে আমেরিকা ও তার মিত্রদের দখলে। তারা যা চাইছে সেভাবেই ঘটছে সব। সেটা না ঘটলে, দেশে দেশে, সেটা ঘটানোর জন্য ভয়ঙ্কর খুন, কলহ এবং জঙ্গি রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে আমেরিকা ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। ইরাক, লিবিয়া, মিসর, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন থেকে ইউক্রেন সর্বত্রই এ ঘটনা ঘটছে। কোথাও মার্কিনিরা কূটনীতি দিয়ে আক্রমণ করছে, কোথাও চালাচ্ছে প্রকাশ্যে ড্রোন হামলা। ‘হয় আমার পক্ষে নয় আমার শত্রু’ এই ভয়ঙ্কর আক্রোশি নীতিতে বিশ্ব রাজনীতির একচ্ছত্র অধিপতি সেজে বসেছে আমেরিকা।
যুদ্ধাপরাধের চলমান বিচারকাজ নিয়ে মার্কিনিদের নানা রকম আপত্তির মুখে পড়তে হয়েছে শেখ হাসিনার সরকারকে। এর মধ্যে মার্কিনিদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে শুধু ভারতের সমর্থনের ওপর নির্ভর করেই একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে পুনর্বার ক্ষমতায় বসতে পেরেছেন তিনি। সুতরাং দৃশ্যমানভাবে একটি আন্তর্জাতিক চাপ শেখ হাসিনাকে নিতে হয়েছে। পর্দার সম্মুখে ও আড়ালে নানা রকম চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে সরকারকে। সে চাপ এখন যে নানাভাবে বাড়ছে, তার প্রমাণ হচ্ছে বর্তমান সরকারের কিচেন কেবিনেট সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং সৈয়দ আশরাফের আমেরিকা বিষয়ে নানা মন্তব্য ও বিষোদ্গার উদ্গীরণ। বিশেষত যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় কার্যকর করা এবং জামায়াতকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করার প্রচেষ্টা যে মার্কিনিরা নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে, তা সুস্পষ্ট। জামায়াতের নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে থেকে এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক মার্কিন দূত স্টিফেন র্যা পের উপর্যুপরি ৫ বার বাংলাদেশ সফর তার প্রমাণ।
কাজেই একটা বড় ‘আমেরিকান ফাঁড়া’ নিয়ে চলতে হচ্ছে সরকারকে। মুখে যতই বাগাড়ম্বর করুন না কেন, শেখ হাসিনা নিজেও জানেন বাজার অর্থনীতির যুগে, এই জটিল বৈশ্বিক রাজনীতির চালকের আসনে বসে আছে আমেরিকা। তার নিজ পরিবারের সদস্যদেরও বসবাস খোদ ব্রিটেন, আমেরিকা এবং কানাডায়। কাজেই আমেরিকাকে চটিয়ে ভারতকে নিয়ে কত দূর এগুনো যাবে, সেটা বলা কঠিন। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক মিত্র ভারতের জাতীয় কংগ্রেস ইতোমধ্যে নিজ দেশে ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে কংগ্রেসকে কখনো এতবড় রাজনৈতিক ও নির্বাচনী বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়নি। অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, আমেরিকার নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কংগ্রেসের সাংঘর্ষিক অবস্থানই তাদের এ পরিণতির অন্যতম কারণগুলোর একটি।
আবার বাংলাদেশের বর্তমান সরকার টিকফা চুক্তি করে, তেল-গ্যাস ব্লক দান প্রশ্নে আমেরিকাকে নানান ছাড় দিয়েও যে তাকে বাগে আনা যাচ্ছে না, সেটাও প্রকাশ্য। ইতোমধ্যে গার্মেন্ট সেক্টরে জিএসপি স্থগিতাদেশ উঠানোর ব্যাপারে কোনো সফলতা পায়নি বর্তমান সরকার। বরং বাংলাদেশের সকল ইপিজেড-এ শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার সম্বলিত আইন অনুমোদন করতে বাধ্য হয়েছে সরকার। এত কিছু ছাড় দিয়েও জামায়াত প্রশ্নে আমেরিকার ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে মুখে উড়িয়ে দিলেও বাস্তবে তা নিয়ে ভাবছে সরকার। ফলে জামায়াত প্রশ্নে সরকারকে এই ‘আমেরিকান ফাঁড়া’র কথা সবসময় মাথায় রাখতে হচ্ছে।
হিসাবে গরমিল…
১৯৭২ থেকে ১৯৭৫, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পূর্ব পর্যন্ত জাসদ রাজনীতির যে চেহারা ছিল, হালে সেই ইতিহাস নতুন করে বিনির্মাণের একটা চেষ্টা হচ্ছিল। বঙ্গবন্ধুর হত্যার একটা বড় কারণ হিসেবে জাসদ রাজনীতির প্রেক্ষাপটকে যেভাবে ভাবা হতো, তা উল্টে দিতে পেরেছিলেন জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু। জঙ্গিবাদ প্রশ্নকে সামনে এনে তিনি বিএনপিকে তুলোধোনা করে এতদিন ইতিহাসের মাইনফিল্ডের সেই রক্তাক্ত সময়কে আওয়ামী বন্ধুত্বের মোড়কে নতুন চেহারা দিতে পেরেছিলেন। কর্নেল তাহের সম্পর্কেও নতুন মিথ তৈরির একটা চেষ্টা চলছিল। কিন্তু হালে সে বিষয়ে কথা বলতে শুরু করেছেন জাসদের পুরনো কর্মীদের, ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদেরও কেউ কেউ। রাজনীতিতে জাসদের চেহারা উন্মোচনের এই প্রচেষ্টা হয়ত হিসাবের কোথাও কোনো গরমিলেরই বহিঃপ্রকাশ। জাতীয় সংসদে জাসদ এমপিরা সেই পুরনো প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। হালে নতুন ইতিহাস কথন সেই সব পুরনো, রক্তাক্ত, ক্ষতচিহ্নগুলোকে সামনে আনছে।
ফলে ১৯৭২-৭৫ সালে গোকুলে বেড়ে ওঠা বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রীরা যেখানে আওয়ামী লীগকে আঘাত করে নতুন সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিল, সেই মাইনফিল্ডের কাফ্ফারা হিসেবে, শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভা এবং জোটে থেকে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় আওয়ামী লীগ তাদের সাজতে হয়েছে। হালে জাসদের সেই পুরনো স্মৃতি, ঘটনা, বক্তব্য, কর্মকাণ্ড জনগণের নজরে আনতে চাইছে সরকারের ভেতরের একটি বড় অংশ। বোঝা যাচ্ছে, পালের হাওয়ায় কোথায় যেন উল্টো বাতাস লাগছে। এখানে কি আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক রাজনীতির কোনো নতুন উপাদানের সংশ্রব ঘটছে? হিসাবে কি কোথাও কোনো গরমিল হচ্ছে? নইলে, যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় কার্যকর হবার বদলে এসব নতুন ইস্যু সামনে আসছে কেন?
জামায়াত নিয়ে খেলা…
সরকার জামায়াত প্রশ্নে এক ধরনের ট্রিকস গেম খেলতে চাইছে। সরকার তার প্রধানতম শত্রু হিসেবে টার্গেট করেছে বিএনপি, বেগম জিয়া এবং তার পরিবারকে। অন্যদিকে জামায়াতকে নিয়েছে তার চাল বা ঘুঁটি হিসেবে। রাজনৈতিক পরিণতি নিজেদের অনুকূলে আনার জন্য সরকারের এই খেলার লক্ষণগুলো খুব সুস্পষ্ট। কেননা যখন সরকার বিষয়ক কোনো বড় সমালোচনা সামনে আসে, তখন সরকার দৃষ্টি ঘোরানোর জন্য যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টি সামনে আনে। আবার প্রয়োজনে জামায়াতের ইস্যুটিকে চাঙ্গা করে। এখন, দেখা যাচ্ছে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের গ্রেপ্তার শুরু হয়েছে। লক্ষণে মনে হচ্ছে, সরকার হয়ত দ্রুতই যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়ে কোনো একটি কার্যক্রম সুস্পষ্ট করবে।
জামায়াতকে নিয়ে সরকার আসলে যা করতে চায়-
এক. সরকার চায় যেকোনো উপায়ে বিএনপিকে আন্দোলন এবং রাজনীতির মাঠ থেকে দূরে রাখতে। সরকারের প্রধান রাজনৈতিক টার্গেট বিএনপি, জামায়াত নয়। সে কারণেই জামায়াতকে সরকার নিজের অনুকূলে এবং বিএনপির বিপক্ষে ব্যবহার করতে চায়।
দুই. সরকারের মধ্যে থাকা কোর গ্রুপকে যারা নিয়ন্ত্রণ করেন, তাদের ধারণা মাঠের রাজনীতিতে সহিংসতা এবং আত্মদানের শক্তি আছে জামায়াতের মধ্যে। বিএনপির সে শক্তি নেই। মুখে যতই গর্জন করুক না কেন, আন্দোলনের পক্ষে নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগের শক্তি বিএনপি নেতাকর্মীদের নেই। ফলে জামায়াতকে সঙ্গে না পেলে বিএনপি শেষ বিচারে কোনো সাফল্য পাবে না। কাজেই জামায়াত বিষয়ে সরকার এমন নীতি নিতে চায়, যাতে বিএনপির সঙ্গ ছাড়লে জামায়াতকে ছাড় দেয়া হবে। বিএনপির সঙ্গ নিলে জামায়াত বিষয়ে সরকার কঠোর হবে। অর্থাৎ বিএনপিকে মোকাবিলার একটা টোপ হিসেবে জামায়াতকে ব্যবহার করতে চাইছে সরকার।
তিন. আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডের ধারণা, ভোটারবিহীন নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় টিকে থাকার মূল শক্তি হবে রাজনৈতিক কৌশল। এক্ষেত্রে ধর্মীয় জঙ্গিবাদ হবে অস্ত্র। বিএনপি যখনই রাজনৈতিকভাবে শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টা করবে তখনই যেকোনো উপায়ে ইসলামি জঙ্গিবাদকে সামনে আনা হবে। সেক্ষেত্রে জামায়াতকে মাঠে নামার সুযোগ দেয়া হবে। ফলে পশ্চিমা বিশ্ব এবং ভারতের নতুন সরকারের সমর্থন শেষ বিচারে আওয়ামী লীগের পক্ষেই থাকবে।
চার. আওয়ামী লীগের নানারকম ব্যর্থতা, অদক্ষতা, দুর্নাম সত্ত্বেও আওয়ামী হাইকমান্ডের ধারণা, প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িকতা মনস্ক জনগণের সামনে বিকল্প কোনো পথ খোলা রাখা হবে না। হয় মৌলবাদ না হয় আওয়ামী লীগ- যেকোনো একটাকে বেছে নিতে হবে। বিএনপিকে মাঠের রাজনীতি থেকে দূরে ঠেলে দিতে পারলে, জনগণের সামনে এছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না। সুতরাং জামায়াত প্রশ্নে ছাড় দিয়ে হলেও বিএনপির পথ রুদ্ধ করতে পারলে ক্ষমতার শীর্ষে টিকে থাকার পথ মসৃণ হবে। আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিও সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের পাশেই থাকবে।
এখন প্রশ্ন হলো জামায়াত নিয়ে সরকারের এই ট্রিকস গেম কতটা সাফল্য পাবে। কেননা, জনগণ চায় যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের বিচারের রায় কার্যকর। জনগণ এ বিচারের আইনগত স্বচ্ছতা যেমন দেখতে চায়, তেমনি বিচারের রায় কার্যকর নিয়ে কোনো কূটকৌশল, কোনো দীর্ঘসূত্রতাও দেখতে চায় না। ধর্মীয় রাজনীতি এবং আমেরিকান উপনিবেশবাদের সহযোগী হিসেবে জামায়াতের মতো সংগঠনকে নিয়ে ট্রিকস গেম অনেক দেশেই সামরিকতন্ত্রকে রাজ্যশাসনের সুযোগ দিয়েছে। মিসর তার বড় উদাহরণ। জনগণের মনে আসন না পেলে, গণতান্ত্রিক আবহ সুস্থির করতে না পারলে, ক্ষণিক কূটকৌশলের রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সেটাই।
