কৌশলী জামায়াত : নিষিদ্ধ হলে নতুন নাম

by News Room

ডেস্ক রিপোর্ট:একাত্তরে গণহত্যাসহ ৭ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য জামায়াতে ইসলামী, এর তত্কালীন সহযোগী সংগঠন ও নেতাকর্মীদের দায়ী করে তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের সুপারিশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন গভীরভাবে। প্রথমে তদন্ত সংস্থার পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে নজর রাখবে দলটি। এরপর ট্রাইব্যুনালে শুনানি শুরু হলে আইনি প্রক্রিয়ায়ই তা মোকাবিলা করবে তারা। এর পাশাপাশি বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক সহায়তা চাইবে। এরপরও দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হলে নতুন আঙ্গিক ও নতুন নাম ধরে রাজনৈতিক তত্পরতা শুরু করবে জামায়াত।
দলটির মজলিসে শূরার প্রবীণ এক সদস্য গতকাল বলেন— প্রথমত, আমরা তদন্ত সংস্থার ভাবমূর্তি পর্যালোচনা করছি। যদি এতে সরকারের রাজনৈতিক অভিসন্ধি থাকে, তাহলে রাজনৈতিকভাবেই তা মোকাবিলা করব। যদি আইনি পথে সমাধান দেখি, তাহলে আইনের সব পথেই চেষ্টা করব। সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে নতুন কিছু ভাবব। এখনও অনেক সময় বাকি।
জানা গেছে, পুলিশের বাধায় আড়াই বছর ধরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগর কার্যালয় বন্ধ। তাই দলীয় কার্যক্রমের ধরনে পরিবর্তন এনেছে জামায়াত। এর অংশ হিসেবে গোপনে চলছে দাওয়াত, মাশোহারা, প্রশিক্ষণ চক্র, শিক্ষাশিবির, শবগুজারিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম। দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা ঘুরে-ঘুরে দাওয়াতি কাজ করছেন। তবে গুরুত্ব অনুযায়ী দলীয় যে-কোনও প্রতিষ্ঠানে অল্প সময়ের জন্য সভাও করা হয়। এর পাশাপাশি সমাজসেবার অন্তরালে সাধারণ মানুষকে শীতবস্ত্রগরুদান, টিনদান, স্বল্পকালীন সহায়তাসহ বিভিন্ন সাহায্য প্রদান করা হয়। চলমান উপজেলা নির্বাচনে এর প্রভাব দেখা গেছে ব্যাপকভাবে। এসব সহায়তা ও মানুষের দুর্বলতার কারণে অনায়াসে ভোট পেয়েছেন জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীরা।
জামায়াতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে মজলিসে শূরাই প্রধান ভূমিকা পালন করে। তবে দ্রুত কোনও সিদ্ধান্ত নিতে হলে তা নেয় কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ। এরপর আঞ্চলিক নেতৃত্বের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের কাছে সে নির্দেশনা পৌঁছে যায়। এক্ষেত্রে ফোন, মেইল, স্কাইপে, ফেসবুক অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহূত হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২ বছর ধরে জামায়াতের মাসিক এয়ানত বা চাঁদার পরিমাণ ব্যাপক হারে বেড়েছে। ৩৫ হাজার রুকন তাদের মাসিক আয়ের ৫ শতাংশ জমা দেন বায়তুল মাল বিভাগে। এছাড়া দলীয় ডায়েরি, ক্যালেন্ডার, পোস্টার, মাসিক কলম, রিপোর্টিং খাতা, বিভিন্ন গ্রন্থ, যাকাত ছাড়াও শুভানুধ্যায়ীদের অনুদান থেকে প্রতি মাসে আসে লাখ-লাখ টাকা। একটি অসমর্থিত সূত্রের মতে, গত ৩ বছরে জামায়াতের বায়তুল মালের পরিস্থিতি আগের যে-কোনও সময়ের চেয়ে ভালো। তবে ব্যয়ও বেড়েছে। নেতাকর্মীদের মামলা পরিচালনা ব্যয়, নিহতদের মাসিক সহায়তা, সারা দেশের বেশ কয়েকটি থানায় পুলিশকে উেকাচ প্রদান, সামাজিক কার্যক্রম, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ত্রাণ বিতরণ, দায়িত্বশীলদের সফরসহ বিভিন্ন কাজে বায়তুল মালের অর্থ ব্যবহূত হয়। জামায়াতের রাজনীতির প্রথম কাজটি হচ্ছে দাওয়াত ও তবলিগ। এরপর সংগঠন ও প্রশিক্ষণ। তৃতীয়টি হচ্ছে সমাজসেবা এবং সর্বশেষ কাজটি হচ্ছে হুকুমাত। এই হুকুমাতের আওতায় চলমান উপজেলা নির্বাচনের কাজটি সেরে নিচ্ছে তারা। প্রথম পর্বের কর্মী থেকে রুকন, সহযোগী সদস্য, অগ্রসর সদস্যসহ সব পর্যায়ের সদস্যদের বাধ্যতামূলকভাবে পাঠ নিতে হয় যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দলীয় আমির মতিউর রহমান নিজামী, দণ্ডপ্রাপ্ত গোলাম আজম ও দলের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর রচিত গ্রন্থগুলোর।
তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন বায়বীয়, দুরভিসন্ধিমূলক : জামায়াত
জামায়াতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রতিবেদন ও নিষিদ্ধের আরজিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ, মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কল্পকাহিনি রচনা বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান। তারা বলেন, সম্প্রতি উপজেলা নির্বাচনে জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীদের প্রতি জনগণের ব্যাপক সমর্থন ও বিপুল বিজয় সরকারকে আরও ঈর্ষান্বিত করে তুলেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে জামায়াতনেতারা এ কথা বলেন।
বিবৃৃতিতে জামায়াতনেতারা বলেন, সরকারদলীয় আশীর্বাদপুষ্ট তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর মিথ্যা, বায়বীয় ও কাল্পনিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনে জামায়াতের বিরুদ্ধে যে ৭টি অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এর সঙ্গে জামায়াতের কোনও সম্পর্ক নেই। এসব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও দুরভিসন্ধিমূলক। তারা বলেন, আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, জামায়াত গণতান্ত্রিক ধারার নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। জামায়াতের প্রতিটি কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। আমরা আইনগতভাবে ওজনগণকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে সরকারের পরিচালিত সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করব।

You may also like

Leave a Comment