কারাতে কন্যা মিতু

by News Room

নিউজ ডেস্ক:
কাপাইস গ্রামের চুপাইর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী মিতু রানী দাস। কারাতে চর্চা করে পেয়েছে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে একাধিক স্বীকৃতি। তার কথা জানাচ্ছেন:গাজী মুনছুর আজিজ
গ্রামের আর দশটা সাধারণ মেয়ে যখন লেখাপড়ার অবসরে অলস সময় কাটায় বা অন্যকাজ করে, তখন সে সাদাপোশাক গায়ে আর কোমরে বেল্ট বেঁধে কারাতে শেখে। সেজন্য গ্রামে এখন তার পরিচয় কারাতে কন্যা হিসেবে। গ্রামের এই সাহসী কারাতে কন্যার নাম মিতু রানী দাস। গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কাপাইস গ্রামে তার বসবাস। সে লেখাপড়া করছে চুপাইর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগে। এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী সে।
কারাতে শিখে এরই মধ্যে মিতু জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে পেয়েছে একাধিক স্বীকৃতি। গতবছর গাজীপুর জেলা ৩য় কারাতে চ্যালেঞ্জ কাপ প্রতিযোগিতায় বালিকা বিভাগে ৪৫ কেজি ওজন শ্রেণি কুমিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে রৌপ্যপদক পায়। এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও গাজীপুর জেলা কারাতে অ্যাসোসিয়েশন। এছাড়াও গত বছর সে বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকার মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জাতীয় কারাতে টুর্নামেন্টে বালিকা বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করে।মিতু জানায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে স্কুলে কারাতে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রথমে স্কুলের প্রায় ৫০ জন ছাত্রী নাম লেখায়। কিন্তু যেদিন নায়ক রুবেল কারাতে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করল, সেদিন প্রশিক্ষণে যোগ দিল ৩৫ জন ছাত্রী। তারপর আস্তে আস্তে কমতে থাকে প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা। কারাতের শিক্ষার্থী কমতে থাকার কারণে এক সময় স্কুলে কারাতে প্রশিক্ষণ বন্ধ হয়ে যায়। তখন আমি ঢাকায় মাঝেমধ্যে এসে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে প্রশিক্ষণ নিতাম। এখন আমাদের স্কুলে একমাত্র আমিই নিয়মিত কারাতে চর্চা করছি।
মিতুর স্কুলে কারাতে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, মিতু মনোযোগী ছাত্রী। সে যা করে মন দিয়ে করে। আমার বিশ্বাস, সে কারাতে অনেকদূর এগিয়ে যেতে পারবে। ঢাকায় মিতুর কারাতের প্রশিক্ষক দীন ইসলাম। তিনি বলেন, মিতুর এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা আছে।
মিতুর বাবা আনন্দ দাস বলেন, বাবা হিসেবে মেয়ের সাফল্যে আমি গর্বিত। আমি চাই আমার মেয়ের মতো গ্রামের অন্য মেয়েরাও সাহসী হোক, এগিয়ে যাক।

You may also like

Leave a Comment