নিউজ ডেস্ক : আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, ‘আমাকে হুমকি দেয়া হয়েছে। তারা বলেছে আমাকে নাকি দেখে নেয়া হবে। আমাকে কোথায় দেখে নেবে, কী দেখে নেবে এবং কখন দেখে নেবে? সময় দেন আমরা প্রস্তুত আছি।’
মঙ্গলবার দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নতুন করে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হলে নাশতকারীদের হাত-পা কেটে দেয়া হবে- শেখ সেলিমের এমন বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান বিএনপি নেতারা। বিএনপি নেতাদের প্রতিক্রিয়ার জবাবে তিনি এবার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন।
শেখ সেলিম বলেন, ‘আমার কথা ছিল সন্ত্রাসী, নৈরাজ্যকরী ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। আমার কথা কোনো দল সংগঠন বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ছিল না।’
‘কিন্তু তারা সন্ত্রাসী, নৈরাজ্যকরী ও জঙ্গিবাদের পক্ষ নিয়েছে। তাদের কথা শুনে মনে হয়- ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাইনি এর মতো। তাদের কথায় প্রমাণ হয়েছে তারা সন্ত্রাসী, নৈরাজ্যকরী ও জঙ্গিবাদী দল’ যোগ করেন তিনি।
বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘তারা কোনো রাজনীতি করে না। তারা প্রতিদিন অফিসে বা প্রেসক্লাবে দোকান খুলে বসে থাকে আর মিডিয়াকে ডেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে জনগণকে বিভ্রান্ত করে।’
নাম উল্লেখ না করে বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘এর মিডিয়ার নেতা। এরা কেউ কেউ আবার নির্বাচন করে একবারও এমপি হতে পারেননি। তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে ম্যাডামকে খুশি করার জন্য।’
প্রসঙ্গত, রবিবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে শেখ সেলিম বলেছিলেন, ‘আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করা হলে প্রত্যেকের হাত-পা কেটে দেয়া হবে।’
তার এই বক্তব্যের জবাবে বিএনপি যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছিলেন, ‘আন্দোলন স্তব্ধ করতে এ ধরনের হুমকি দেয়া হচ্ছে। হুমকিদাতারা হয়তো ভুলে গেছেন, এর পরিণতি হয় দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া নয়তো জনগণের সামনে বিচারের মুখোমুখি হওয়া।’
অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, এ ধরনের হুমকি দেয়ার মাধ্যমে শেখ সেলিম সংসদ সদস্য পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। সময়মতো তাকে সমুচিত জবাব দেয়া হবে।
