ডেস্ক রিপোর্ট: সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জন শিশুসহ ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ ভুল চিকিৎসায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন ঠাণ্ডাজনিত কারণ সহ বিভিন্ন রোগে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এ-ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় ৩২ জনের মৃত্যুর ঘটনা এবারই প্রথম।
যার কারণে চিকিৎসক সহ স্বজন ও রোগীদের মধ্যে বিরাজ করছে অজানা আতঙ্ক। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাকে অস্বাভাবিক বিবেচনা করে কারণ অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছেন। তবে রোগীর স্বজনদের দাবি কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই এমন বিপর্যয়।
হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর থেকে সর্বোচ্চ এই মৃত্যুর ঘটনায় সিলেটে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় এই হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয়েছেন ৩৩৭ জন। তার মধ্যে ৫জন নবজাতক সহ ১০ শিশু ও বিভিন্ন বয়সী ২২জন পুরুষ ও মহিলার মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যু স্বাভাবিক দেখছে না খোদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা. আব্দুস সালাম জানান, প্রতিদিন গড়ে ৮/১০ জন রোগী মারা গেলেও এত সংখ্যক রোগীর মৃত্যু এবারই প্রথম। যে কারণে তারা এটাকে স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না।
এদিকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুস সবুর মিয়া প্রথমে এই মৃত্যুকে স্বাভাবিক বললেও পরে মৃত্যুর সংখ্যা বিবেচনা করে এটা অস্বাভাবিক উল্লেখ করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানান। মেডিসিন বিভাগের প্রধান ইসমাইল আলী পাটোয়ারীকে প্রধান করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা আগামী ৭ কার্য দিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করবেন।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ধারণক্ষমতা ৫০০ জন হলেও বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছে ১৭১৮ জন। বিপুল সংখ্যক এই রোগীকে সেবা দিতে যে পরিমাণ জনবল তা দরকার না থাকাকে এই মৃত্যুর জন্য দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
