উপজেলা নির্বাচন: বিপাকে বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যরা!

by News Room
সিলেটের খবর ডেস্ক: সিলেটের ১২টি উপজেলার মধ্যে ইতেমধ্যে ১০টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫টিতে বিএনপি, ৩টিতে আওয়অমী লীগ ও ২টিতে জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এই নির্বাচন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যরা। কোন কোন উপজেলায় নির্বাচিত হওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থীরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব সাংসদদের পথের কাটা হয়ে দাঁড়াতে পারেন। আবার কোন কোন সাংসদের আসনে দলীয় প্রার্থীর ভরাডুবি হওয়ায় আগামীতে ওইসব সাবেক ও বর্তমান সাংসদের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচন শেষ হতে না হতেই দলীয় নেতাকর্মীরা এমন আগাম হিসেব কষতে শুরু করেছেন।

সিলেট ২ আসনের (বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ) বর্তমান সাংসদ জাতীয় পার্টির ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া। এর আগে ওই আসনের সাংসদ ছিলেন সিলট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। তাই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান আওয়ামী লীগের প্রার্থী শফিক চৌধুরী। বিশ্বনাথ ও বালাগঞ্জে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক অবস্থান দুর্বল হলেও আওয়ামী লীগের প্রচেষ্ঠা ও সাবেক সাংসদ শফিক চৌধুরীর সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হন এহিয়া।

কিন্তু গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ওই দুইটি উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের চরম ভরাডুবি ঘটে। সবকটি পদে বিজয়ী হন বিএনপির প্রার্থীরা। নির্বাচনে সাবেক সাংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেও দল সমর্থিত প্রার্থীর পরাজয় ঠেকাতে পারেননি। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য এ দুইপ্রার্থীর যে কেউ মনোনয়ন পেতে অনেকটা বেগ পেতে হবে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

উপজেলা নির্বাচন নিয়ে সিলেট-৩ আসনের (দক্ষিণ সুরমা ও ফেঞ্চুগঞ্জ) আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস ও বিএনপির সাবেক সাংসদ শফি আহমদ চৌধুরী বিপাকে পড়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান- দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সাংসদ কয়েস প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আবু জাহিদের পক্ষে প্রচারণা চালালেও তিনি তার বিজয় চাননি।

এর আগে তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দক্ষিণ সুরমা ও ফেঞ্চুগঞ্জে বিজয়ী হয়েছিলেন জামায়াতের প্রার্থী। ওই দুইপ্রার্থী বিজয়ী হওয়ার নেপথ্যে কয়েসের হাত ছিল বলেও অভিযোগ ছিল। এবারও তিনি নাকি আবু জাহিদের বিজয় ঠেকাতে গোপনে কলকাঠি নেড়েছেন এমন অভিযোগ নেতাকর্মীদের। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ কয়েসের বিপরীতে দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন নবনির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবু জাহিদ।

একইভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ১৯ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী জামায়াত নেতা মাওলানা লোকমান আহমদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আলী আহমদের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন সাবেক সাংসদ শফি আহমদ চৌধুরী। নির্বাচন শেষে এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ আসন থেকে ১৯ দলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করার ঘোষনা দিয়েছেন জামায়াত নেতা মাওলানা লোকমান।

সিলেট-৪ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ অনেকটা স্বস্তিতে থাকলেও বিএনপির সাবেক সাংসদ দিলদার হোসেন সেলিম রয়েছেন টেনশনে। এই আসনভূক্ত জৈন্তাপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দ্বিতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন। সিলেটে বিএনপির সাথে জামায়াতের টানাপোড়ন সম্পর্কের কারণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে জয়নাল আবেদীন ১৯ দলীয় জোটের মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

সিলেট-৫ আসনে (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) দুটি উপজেলায়ই আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন অভ্যন্তরিণ কোন্দলে। তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মাসুক উদ্দিন আহমদের পরাজয়ের পেছনে প্রকাশ্যে মদদ ছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাংসদ হাফিজ আহমদ মজুমদারের। এবার নির্বাচনে এর বদলা নেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদের অনুসারীরা। এবার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছিলেন হাফিজ মজুমদারের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত লোকমান আহমদ চৌধুরী। বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে তাকে পরাজিত করেন মাসুক গ্রুপের নেতাকর্মীরা এমন অভিযোগ নেতাকর্মীদের। তাই অভ্যন্তরিণ কোন্দলের কারণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে হাফিজ আহমদ মজুমদার বা মাসুক উদ্দিনের মনোনয়ন পাওয়াটা এখন অনেকটা অনিশ্চিত বলে মনেকরছেন নেতাকর্মীরা।

এদিকে, একই আসনের সাবেক সাংসদ জামায়াত নেতা মাওলানা ফরিদ উদ্দিনের ১৯ দলীয় জোটের সমর্থন পাওয়া হুমকির মধ্যে পড়েছে। জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উভয় উপজেলায় বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় আগামীতে এ আসন জামায়াতকে ছেড়ে দিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা রাজি হবে না বলে জানা গেছে।

শিক্ষমন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের আসন সিলেট-৬। এ আসনে দুুটি উপজেলা রয়েছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরিণ কোন্দলের কারণে গোলাপগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নিজেদের গ্রুপিংয়ের কারণে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জামায়াতের মাওলানা নাজমুল ইসলাম।

একইভাবে ওই আসনভূক্ত বিয়ানীবাজার উপজেলায়ও আওয়ামী লীগের তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নিজের এলাকায় দল গোছাতে ব্যর্থ শিক্ষামন্ত্রী আগামীতে মনোনয়ন পাবেন, না নৌকার মাঝি হিসেবে নতুন মুখ দেখা যাবে তা দেখতে থাকতে হবে অপেক্ষায়।

এই আসনে আওয়ামী লীগের মতো বিপাকে রয়েছেন বিএনপির সাবেক সাংসদ মকবুল হোসেন লেচু মিয়া। বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিরও তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে এক প্রার্থী ছিলেন মকবুল হোসেনের। তার প্রার্থী পরাজিত হন জামায়াতের প্রার্থীর কাছে। মকবুল হোসেন লেচু মিয়ার বিরুদ্ধে দলে কোন্দল জিইয়ে রাখার অভিযোগ থাকায় আগামীতে তার মনোনয়ন প্রাপ্তি হুমকির মুখে রয়েছে বলে দলের তৃণমুল নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

You may also like

Leave a Comment