করোনা সংক্রামন রোধে সিলেট মহানগরীর বিপনীবিতানগুলো বন্ধ থাকায় উপজেলার শপিং মার্কেটে চাপ পড়েছে। প্রতিটি বাজারে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে বিরামহীন কেনাকাটা। মানা হচ্ছেনা সরকারের বেধে দেয়া স্বাস্থ্যবিধি এবং সময়সীমা। এইসব দোকানে স্যানিটাইজার সামগ্রীর কোন ব্যবস্থাও রাখা হয়নি।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের কেনাকাটায় ফেঞ্চুগঞ্জ, ওসমানীনগর,গোলাপগঞ্জ,বিয়ানীবাজার,জকিগঞ্জ,কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, গোয়াইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিপণীবিতানগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে ক্রেতাদের ঢল। কেউই মানছে না সামাজিক দূরত্ব আর এতে জনমনে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। সাধারণ মানুষ বলছেন এ অবস্থা অব্যহত থাকলে সিলেটে করোনা পরিস্থিতি ভয়বহ আকার ধারণ করবে।
ইতোমধ্যে সিলেট বিভাগে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে তিনশ’তে পৌঁছেছে। সময় সময় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও করোনা ভাইরাস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে এখনও সেভাবে তৈরি হয়নি সচেতনতা।
শনিবার (১৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্যমতে, বিভাগের চার জেলায় হোম কোয়ারেন্টিনে লোকজনের সংখ্যা কমলেও করোনা আক্রান্তের হার বেড়েই চলেছে। শুক্রবার পর্যন্ত বিভাগের চার জেলায় আরও ৭৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে আনা হলেও বিপরীতে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৫৪ জন। এখনও হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ১ হাজার ২২৭ জন। আর করোনা আক্রান্ত রয়েছেন ৩৪৫ জন। এদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি ১৩৩ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৯ জন ও মারা গেছেন ছয় জন। করোনা আক্রান্তদের মধ্যে সিলেটে ১০১, সুনামগঞ্জে ৬৭, হবিগঞ্জে ১১৮ এবং মৌলভীবাজারে ৫৭ জন।
অভিজ্ঞমহল বলছেন, উপজেলা পর্যায়ের এই সব মার্কেটে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক নজরদারী বাড়াতে হবে। সরকারের দেয়া স্বাস্থ্যবিধি মানতে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে তাদেরকে বাধ্য করতে হবে। তা না হলে করোনাভাইরাস শহর-বন্দর নগর, গ্রাম-গঞ্জে মহামারী আকার ধারণ করবে যা নিয়ন্ত্রন করা কারো পক্ষেই সম্ভব হবে না।
