প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেছেন, ন্যায়ভিত্তিক, সমতাপূর্ণ ও মানবিক মর্যাদার সমাজ গঠনে ইমামদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, সমাজে ইমামদের মর্যাদা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। শনিবার সিলেট নগরীর বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, গত ১৬ বছর বাংলাদেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল এবং এক ব্যক্তির ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের সকল সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে পড়েছিল। এ ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা থেকে মুক্তি এবং অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরে আসতে আমাদের সন্তানেরা রক্ত দিয়েছে। তাই রক্তের অক্ষরে লেখা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে অতীতে দেশে সফল ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, কিন্তু ফ্যাসিবাদী সরকার সংবিধান থেকে তা বাতিল করে দেয়। গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের আয়োজন করছে।
বিশেষ অতিথি মনির হায়দার বলেন, এক সময় দাড়ি, টুপি ও পাঞ্জাবি পরিহিত আলেমদের দেখলেই জঙ্গি আখ্যা দেওয়া হতো এবং তারা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে ভয় পেতেন। দীর্ঘদিনের সেই নির্যাতন ও নিপীড়ন থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমাদের সন্তানরাই মুক্তি এনে দিয়েছে। এই ফ্যাসিবাদ চিরতরে নির্মূল করতে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী করা আমাদের সকলের ঈমানি ও নৈতিক দায়িত্ব।
বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. সৈয়দ শাহ এমরান এবং সিলেট জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব। সভায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইমামবৃন্দ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
