320
বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষ ইংরেজি শেখায় বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছে — শুধুমাত্র নিজের জন্যে নয়; বরং অর্থনৈতিক প্রয়োজন তথা চাকরি বা উপার্জনের জন্যেও। হ্যাঁ, বিশ্বের অনেকগুলো দেশে অফিশিয়াল ভাষা ইংরেজি। তাই, ইংরেজি ভাষাভাষীরা সর্বক্ষেত্রে কতটুকু এগিয়ে আছে, তা কিন্তু আমরা অনুধাবন করতে পারি। কিন্তু বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন উদীয়মান অর্থনীতির দেশ, যেমন: চীন, রাশিয়া, ব্রাজিল, যেখানে ইংরেজি প্রধান ভাষা নয়, সেখানেও ইংরেজি ভালো করে জানা একটা অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হয় যা দেশ-বিদেশে খুলে দিতে পারে সম্ভাবনার দুয়ার।
এমন প্রশ্ন আসতেই পারে, যে দেশ-বিদেশের সফল ব্যক্তিরা কেন বিশ্বের অন্য প্রান্তের একটি দেশের জনগণের ইংরেজি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিবেন?
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, একটি জনগোষ্ঠীর ইংরেজির দক্ষতা এবং সেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি একে অপরের সাথে সরাসরি জড়িত।
বিভিন্ন উন্নয়ন সূচক যেমন: GDP, GNI, বাড়তি ইংরেজি দক্ষতার সাথে তাল মিলিয়ে বাড়তে থাকে। World Economic Forum এর গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, ইংরেজির উপর দক্ষতা বেশি এমন দেশের মাথাপিছু আয় স্বাভাবিকভাবেই উর্ধ্বমুখী হয়ে থাকে। এমনকি বিভিন্ন কোম্পানির নিয়োগকারী কর্মকর্তা ও মানব সম্পদ কর্মকর্তারা বলেছেন যে ভালো ইংরেজি জানা থাকলে একজন কর্মচারীর বেতন বেড়ে যায় ৩০-৫০% পর্যন্ত।
ইংরেজি দক্ষতা ও একটি দেশের মাথাপিছু আয়ের সম্পর্ক একটি চক্রের মত কাজ করে। ইংরেজি দক্ষতা বৃদ্ধির সাথে বেতন বৃদ্ধির প্রবণতা রয়েছে। এবং এই ফান্ড ব্যবহার করেই একটি সরকার ভাষা প্রশিক্ষণের উপর আরও বিনিয়োগ করতে পারবে। আর ব্যক্তি পর্যায়ে বলতে গেলে, উন্নত ইংরেজি দক্ষতা একজন মানুষকে আরও ভালো কাজের জন্য আবেদন করতে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে সাহায্য করে। এতে যে কেবল আয় বৃদ্ধি পায়, এমনটা নয়। জীবনযাত্রার মানও কিন্তু এর সাথে বৃদ্ধি পায়। ইংরেজি দক্ষতা এবং মানব উন্নয়নসূচকের মধ্যে প্রায়শই গভীর সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়।
(উল্লেখ্য, মানব উন্নয়নসূচক একটি পরিমাপক যা শিক্ষা, আয়ু, সাক্ষরতা এবং জীবনযাত্রার ধরনের মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে)।
ব্যবসাক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা কোন দেশগুলো ইংরেজির দক্ষতার পেছনে বিনিয়োগ করে উন্নতি করছে সেটা দেখে বিশ্ববাজারে সেই দেশের অবস্থান সম্পর্কে আন্দাজ করা যেতে পারে। এবং সর্বোপরি এটা কীভাবে আপনার প্রাতিষ্ঠানিক কৌশলকে প্রভাবিত করে সেটা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিতে পারে।
ব্যবসাক্ষেত্রে নেতৃত্বদানকারীরা জানেন কোন রাষ্ট্রগুলো বিশ্ববাজারে সাবলীলভাবে প্রবেশের জন্যে তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবে এবং কোনগুলো পাবে না৷ আপনার প্রতিষ্ঠানকে এটা জানতে হবে যে ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয়তা প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। কারণ ইংরেজি জানাটা এখন আর শুধু বিলাসিতা নয়, এটা একটি ব্যবসায়িক চাহিদাও বটে।
আমি গত ৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে অনলাইনে ইংরেজি পড়াচ্ছি কারণ আমি নিজে দেখেছি শুধু এক ইংরেজি জানা থাকলে কীভাবে চমৎকার সব কাজ, চাকরির সুযোগের দরজা খুলে যায়।
যদি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ভালো ইংরেজি জানে, এটা শুধু তাদের নিজের জন্যে ভালো হবে তা নয়, বরং এটি বাংলাদেশকে অন্যান্য দেশের তুলনায় আরও সহজে বিশ্ববাজারে প্রবেশাধিকার পেতে সাহায্য করবে।
লেখক:অনলাইন এক্টিভিস্ট ও সঞ্চালক,টেন মিনিট স্কুল।
