484
তিমির বনিক, শ্রীমঙ্গল থেকে:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৭ম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণ পূর্বক গণধর্ষণ ও ধর্ষণের সহায়তার অভিযোগ এনে ৫ ব্যক্তি ও একজন অজ্ঞাতনামা আসামী করে থানায় মামলা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে মেয়েটির খালাতো বোন তুলনা বেগম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
গত ১৮ নভেম্বর দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, এর আগে দুইমাস পূর্বে খালার বাড়ী পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কার গাড়িতে তুলে মৌলভীবাজারের রাজনগর থানার কাশীপুর চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোতে
নিয়ে তিনজন মিলে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে।
এ ঘটনায় তার খালাতো বোনের সুত্রে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার ভিকটিমের কথা অনুযায়ী তার খালাতো বোন সুফিয়া বেগম শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এবং পরিচিত লোকদের ভিকটিমের দেওয়া তথ্যের বর্ণনা অনুযায়ী ধর্ষণকারীকে খুঁজতে থাকেন, হঠাৎ গত ২৪ তারিখ মঙ্গলবার সকালে এক ব্যক্তি ভিকটিম এর খালাতো বোন সুফিয়াকে ফোন দিয়ে বলেন তার বর্ণনা অনুযায়ী একজন লোককে পেয়েছেন, তিনি গিয়ে সে লোক কি না তা নিশ্চিত করার জন্য, সাথে সাথে ভিকটিমের খালাতো বোন ভিকটিমকে নিয়ে সেখানে হাজির হলে সেই সিএনজি ড্রাইবার মামলার (৫ নম্বর) আসামী ইকবাল হোসেন রাসেলকে ধর্ষণকারী হিসেবে চিহ্নিত করেন। এরপর ভিকটিমের খালাতো বোন ধর্ষণকারী ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে থানায় হাজির হন, অতঃপর মামলা দায়ের করেন।
ভিকটিম স্কুলছাত্রী জানায়, দু’মাস আগে তাকে খালার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কাশিপুর এক বাগানের বাংলোতে নিয়ে গিয়ে তাকে জোর করে কি যেনো একটা ওষুধ খাইয়ে দেওয়ার পর সে আর কিছু বলতে পারে না, এরপর তাকে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। তখন সে বেহুশ ছিলো, কিছুক্ষণ পরে চকগাও চৌমুহনায় তাকে নামিয়ে দিয়ে বলে ধর্ষণের বিষয়ে যদি বাসায় কাউকে কিছু বলে তাহলে ধর্ষণের ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দিবে।
ভিকটিম আরো জানায়, এ ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর ভয়ে সে কাউকে কিছু বলতে পারেনি। তার কিছুদিন পর (১৮ তারিখ) দুপুরে ভিকটিম স্কুল থেকে রাস্তা দিয়ে হেটে বাড়িতে ফেরার সময় পিছন দিক থেকে এসে মুখে চাপ দিয়ে ধরে শাহীন ও রিপন ও গাড়ির ড্রাইভার আমাকে গাড়িতে তুলে গাড়ির ভিতর তারা আমাকে ধর্ষণ করে। মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, ভিকটিমের বড় বোনের সাথে শাহীনের বিয়ের কথা ছিলো, সে সুবাধে সম্পর্কে শাহীন ভিকটিমের দুলাভাই হয়, এবং তার উপর দুলাভাইয়ের কুনজর পড়ছে।
এ মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার শমশেরনগরের সৈয়দপুর গ্রামের শাহীন আহমদ (৩২) পিতা মো. বাতির মিয়া’কে প্রধান আসামী করে ও একই গ্রামের রিপন মিয়া (২৫) পিতা অজ্ঞাত, রাজনগর থানার গোবিন্দবাটি গ্রামের আতাউর রহমান (৪২) পিতা মৃত আব্দুল হামিদ, সিলেট জালালাবাদ থানার উত্তর পাড়া গ্রামের নাজিম উদ্দীন সুজন (৩০) পিতা অজ্ঞাত, ইকবাল হোসেন রাসেল ও অজ্ঞাত নামা একজনসহ ৬জনকে আসামী করে ধর্ষণ ও অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত হুমায়ুন কবির বলেন, ধর্ষণের মামলার বিষয়টি তদন্তনাধীন আছে, তদন্ত করার পর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা গেলে আসামীদের গ্রেপ্তার করা হবে।
জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুস ছালেক অবজারভার প্রতিবেদককে বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আর একজন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা তদন্তনাধীন রয়েছে, আর বাকী আসামীরা পলাতক রয়েছে। আমরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করার পরপরই তাদেরকে গ্রেপ্তার করবো।
