নিজস্ব প্রতিবেদক : অব্যবস্থাপনায় চলছে সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ডাক্তারের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু এবং নার্স, টেকনিশিয়ান, নৈশ প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী দিয়ে জরুরি বিভাগে রোগী দেখা, আউটডোরে সরকারিভাবে ডিউটির সময়ে চিকিৎসক না থাকা এবং হাসপাতালের আবাসিক ভবনে এবং বাইরে ডাক্তারদের চেম্বার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৩ অক্টোবর শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় জৈন্তাপুর নিজপাট উজানীনগর এলাকার অপু দেবনাথ (২৮) নামের এক যুবক নিজ বাড়িতে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। স্বজনরা দ্রুত তাকে জৈন্তাপুর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগে কোনো ডাক্তার পাওয়া যায়নি বলে জানায় স্বজনরা। পরে জরুরি বিভাগে উপস্থিত থাকা একজন কর্মচারী কর্তব্যরত ডাক্তারকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে রোগীর কথা জানান এবং ঐ কর্মচারী বাইরে থেকে রোগীর একটা ইসিজি করে নিয়ে আসতে বলেন স্বজনদের৷ বাইরে থেকে রোগীর ইসিজি করে নিয়ে এসে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তারের অপেক্ষা করতে থাকেন স্বজনরা৷ পরে আবাসিক ভবন থেকে কর্তব্যরত ডাক্তার এসে রোগী মৃত বলে জানান স্বজনদের। তখন ডাক্তারের গাফলতিতে অপু দেবনাথের মৃত্যু হয় বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে।
এক পর্যায়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে উত্তেজিত জনতা। খবর পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জৈন্তাপুর হাসপাতালে উপস্থিত জনতার ৯০ শতাংশ লোক জানান, হাসপাতালের জরুরী বিভাগে প্রায়ই ডিউটিরত ডাক্তার থাকেন না। নার্স, টেকনিশিয়ান, নৈশ প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী দিয়ে চলে স্বাস্থ্য সেবা। তারা আরও জানান, বর্তমানে জৈন্তাপুর উপজেলা হাসপাতাল চলে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে। আউটডোর ও জরুরি বিভাগে রোগী আসলে তাদেরকে বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে সিন্ডিকেট গ্রুপের নির্দিষ্ট ডায়গনিস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করানোর কথা বলা হয়। হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট ডায়গনিস্টিক সেন্টারে ব্যবসার সাথে শেয়ার রয়েছেন। এছাড়া নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালটির জনসেবার মান৷ স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
এবিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ সালাহউদ্দিন মিয়া প্রতিবেদককে বলেন, আউটডোরে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ডাক্তার বসেন। জরুরী বিভাগে রোষ্টার অনুযায়ী ডাক্তার ডিউটি করেন। হাসপাতালের পরীক্ষা নিরীক্ষা নির্দিষ্ট সেন্টারে পাঠানোর তথ্য মিথ্যা। এরকম কোনো অভিযোগ আমার কাছে নাই। প্রমান সহ অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্যাকমো পদ শুন্য থাকায় চিকিৎসা সহকারী হিসেবে জরুরী বিভাগে ব্রাদার ডিউটি করেন। তথ্যমতে অপু দেবনাথকে মৃত অবস্থায় ইমার্জেন্সীতে আনা হয় পরবর্তীতে ডাক্তার রোগীকে মৃত ঘোষণা করলে ডাক্তারের ওপর চড়াও হয়। তবে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো সরকারী ডাক্তার ব্যক্তিগতভাবে ডায়গনিষ্টিক ব্যবসার সাথে জড়িত এমন তথ্য আমার জানা নাই। সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এবিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল-বশিরুল ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন, অব্যবস্থাপনা নিয়ে ইতোমধ্যে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির মিটিং করে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। হাসপাতালের জনবল সংকট রয়েছে, উপজেলা পরিষদ থেকে ২ জন জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জেলা সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সিভিল সার্জন মহোদয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
