নিজস্ব প্রতিবেদক : গোয়াইনঘাটের পিয়াইন, গোয়াইন ও চেঙ্গেরখাল নদীপথ এখন এক আতঙ্কের নাম। যৌথ বাহিনী ও র্যাবের দফায় দফায় অভিযানও যেখানে ব্যর্থ, সেখানে নৌপথে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে কায়েম করা হয়েছে ‘চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য’।সরকারি কোনো ইজারা ছাড়াই ইউনিয়ন পরিষদের ভুয়া নাম ভাঙিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে কোটি কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
জানা গেছে, পিয়াইন, গোয়াইন ও চেঙ্গেরখাল নদীপথের হাজিপুর, লাঠি, কইনা, জঙ্গল এবং নতুন বাজার পয়েন্টে বালু ও পাথরবোঝাই নৌকা এবং বাল্কহেড আটকে জোরপূর্বক চাঁদাবাজি চালাচ্ছে সিন্ডিকেট চক্র।
গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন (ইউএনও) কিংবা জেলা পরিষদের কোনো দপ্তর থেকেই সদর ইউনিয়ন পরিষদের নামে এই নদীপথের কোনো বৈধ লিজ বা ইজারা দেওয়া হয়নি। তবুও সম্পূর্ণ অবৈধভাবে,অশুভ শক্তির দাপট দেখিয়ে নৌকা প্রতি ৩ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করছে ঐ গোষ্ঠী ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সিন্ডিকেটের জন্ম।আওয়ামী সিন্ডিকেট থেকে নিয়ন্ত্রন নেয় এরা।এদের অপতৎপরতা ও বেপরোয়া ভাব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।এই চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে সীমান্তপথ দিয়ে শত শত নিরীহ মানুষকে ভারতে পাঠানোর নামে এক বিষাক্ত পাচার সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছে। প্রতিবাদী কণ্ঠকে হুমকি-ধমকি, মিথ্যা মামলা ও সংঘাতের ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করে এই অপরাধ সাম্রাজ্য।
তাদের লাগামহীন নৌ-সন্ত্রাস ও চরম চাঁদাবাজির কারণে পরিবহন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গিয়ে দেউলিয়া হওয়ার পথে নৌযান মালিক ও শ্রমিকের দল। এই অত্যাচার অবিলম্বে বন্ধ না হলে সিলেটের গোয়াইনঘাটকে ব্যবসার জন্য সম্পূর্ণ ‘অনিরাপদ এলাকা’ ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। একই সাথে সমস্ত নদীপথে পণ্য পরিবহন বন্ধ রেখে একযোগে কর্মবিরতি ও ধর্মঘটের চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), নৌ পুলিশ প্রধান ও সিলেটের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সরাসরি ও তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ দাবি করছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।
স্থানীয় সচেতন মহলের তীব্র ক্ষোভ ইউনিয়ন পরিষদের নাম ভাঙিয়ে প্রসাশনের নাকের ডগায় এমন প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, মানবপাচার ও লাঠিয়াল বাহিনীর তাণ্ডব চললেও প্রশাসনের নিরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
