স্টাফ রিপোর্টার:বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ,দলের বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন মিডিয়া কমিটির আহবায়ক সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন,গণতন্ত্র আজ র্যাবের হাতে বন্দী।এখানে গণতন্ত্র মৃতপ্রায়।কেউ কথা বলতে পারে না স্বাধীনভাবে।
তিনি বলেন,বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সবাই অংশগ্রহণ করেছে।আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি,বিএনপি তে অনেক মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন।বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের দল।অথচ আওয়ামীলীগ নিজেদের স্বাধীনতার সোল এজেন্ট মনে করে।আওয়ামীলীগ ছাড়া কেউ যেন সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে না পারে।তিনি সরকারকে এ থেকে বেরিয়ে এসে দেশের তরে কাজ করার আহবান জানান।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( বিএনপি ) স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন মিডিয়া কমিটি’র উদ্যোগে সিলেট বিভাগের ৪ টি জেলা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার প্রকাশক , সম্পাদক , বার্তা সম্পাদক , ব্যুরাে চীফ,অনলাইন ও টেলিভিশন সাংবাদিকদের সাথে নগরীর এক অভিজাত হোটেলের কনফারেন্স হলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।
প্রধান অতিথি বলেন,আমরা নাম মূছে ফেলার রাজনীতি করি না।তারা ভেবেছিলেন রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে জিয়ার নাম মুছে দিয়ে বিএনপিকে শেষ করে ফেলবেন।তিনি বলেন,চালের দাম গগণচুম্বী।মানুষ আজ বুভুক্ষু।অথচ জনগণের পয়সা দিয়ে সরকারী আমলারা ও আওয়ামীলীগ উৎসবে মেতে উঠেছেন।
সিলেট বিভাগীয় স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও দলের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম,দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট বিভাগীয় স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ডা: সাখাওয়াত হোসেন জীবন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দলের বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন মিডিয়া কমিটির সদস্য সচিব ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ( ফরিদপুর বিভাগ ) শামা ওবায়েদ।
নুরুল ইসলাম সাজুর উপস্থাপনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী ও সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন প্রমুখ।
স্বাগত বক্তব্যে শামা ওবায়েদ বলেন,স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও সাংবাদিকরা ভালো নেই।ডিজিটাল সিকিরিউটি অ্যাক্টে সাংবাদিকদের জেলে যেতে হচ্ছে।সুবর্ণজয়ন্তীর এ সময়ে আমরা এটি আশা করি না।তিনি বলেন,স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের নাম গণতন্ত্র।সরকারের পছন্দ না হলেও গণতন্ত্র এটিই।
শামা ওবায়েদ বিএনপিকে মুক্তিযোদ্ধাদের দল ও স্বাধীনতার ঘোষকের দল অভিহিত করে বলেন,আমরা ক্ষমতায় থাকতে জাতীয় দিবসগুলোর পাশাপাশি ৭ মার্চ,৯মার্চ ও ২৩ মার্চের মত ঐতিহাসিক দিনগুলোও উদযাপন করেছি।প্রতিহিংসা কিংবা কার্পণ্যতা করিনি। তিনি বলেন,সরকার আর কাউকে সুবর্ণজয়ন্তী পালন করার সদিচ্ছা পোষণ করে না।আগামী ২৭মার্চ পর্যন্ত আওয়ামীলীগ ছাড়া কেউ কোন রাজনৈতিক কর্মসুচী পালন না করতে প্রজ্ঞাপন জারী করেছে।
শামা ওবায়েদ বলেন,৭১ আমি আপনার সকলের।৭১ কোন দল বা বিশেষ গোষ্ঠীর নয়।মুক্তিযুদ্ধ আওয়ামীলীগও করেছে,বিএনপির লোকজনও করেছে।দেশের সকল মানুষ করেছে।তিনি বলেন,একজনকে পাকিস্তানের চর বানিয়ে আর আরেকজন কে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে এবং জনগণকে নিগৃহীত করে দেশ শাসন করা যায় না।তিনি বলেন,মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সব জানতে হবে ।ভাল মন্দ সব কিছু ধারণ করতে হবে।
শামা ওবায়েদ বলেন,রাজনৈতিক নেতারা যখন ইতিহাস লিখেন তখনই ইতিহাস বিকৃতি শুরু হয়।তিনি বলেন,সিলেটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুদ্ধ করেছেন,মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গণি ওসমানী এখানেই জন্মগ্রহণ করেছেন।এসব লিখতে হবে।
শামা ওবায়েদ বলেন, আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বছরব্যাপী কর্মসুচী গ্রহণ করেছি।তিনি বস্তুনিষ্ঠতার সহিত সংবাদ প্রকাশ করতে সাংবাদিকদের আহবান জানান।
