সারাদেশে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িকগোষ্ঠীসমূহের ভাস্কর্য ও শিল্পবিরোধী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। একই সাথে ভাস্কর্যবিরোধী এই আস্ফালনকে আওয়ামীলীগের মৌলবাদ তোষণ রাজনীতির ফলাফল বলে মন্তব্য করছে বামপন্থী এই ছাত্র সংগঠনটি।
বুধবার বিকালে এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল বলেন, ‘ঐতিহাসিক কাল থেকেই সভ্যতা তথা দেশ-জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতিকে উপজীব্য করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে তুলে ধরা ও প্রজন্মান্তরে টিকিয়ে রাখতে ভাস্কর্য অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিনির্মিত বাংলাদেশে সম্প্রতি ভাস্কর্যবিরোধী যে আস্ফালন শুরু হয়েছে সেটা এই ভূখন্ডের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে, একই সাথে তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উপরও আঘাত বলে মনে করে ছাত্র ইউনিয়ন।’
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘ভাস্কর্যবিরোধী মৌলবাদী শক্তিগুলো হঠাৎ করেই এই আস্ফালন শুরু করেনি। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ তাদের অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী শাসন টিকিয়ে রাখতে মৌলবাদী শক্তির সাথে হাত মিলিয়ে সাম্প্রতিক অতীতে তাদের বিভিন্ন অন্যায্য দাবিগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে মাথায় তুলেছে। আওয়ামীলীগের এই মৌলবাদ তোষণের রাজনীতির ফলে আজকে একটি সাম্প্রদায়িকগোষ্ঠী বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। ভাস্কর্যবিরোধী এই আস্ফালন তারই বহিঃপ্রকাশ।’
তারা বলেন, “আমরা দেখেছি, সরকার ২০১৭ সালে মৌলবাদী শক্তির দাবির প্রেক্ষিতে পাঠ্যপুস্তক থেকে প্রগতিশীল লেখকদের লেখা বাদ দিয়ে দেয়, অসাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতি থেকেও সরে এসেছে। একই বছর সুপ্রিম কোর্টের সামনে স্থাপিত ন্যায় বিচারের প্রতীক লেডি জাস্টিসিয়ার ভাস্কর্য অপসরণ করা হয়েছিল সে সকল মৌলবাদীগোষ্ঠীর দাবি মেনে নিয়ে। আওয়ামীলীগ তাদের অপরাজনীতির স্বার্থ রক্ষার জন্য মৌলবাদী দলগুলোর সাথে আঁতাত করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সমাজ-প্রগতি বিরোধী অপশক্তিকে লালন করছিল। আওয়ামী লীগের মদদ পেয়েই মৌলবাদীরা ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলনের শক্তি সঞ্চার করেছে। আওয়ামীলীগ কোনো ভাবেই যেমন এর দায় এড়াতে পারে না তেমনি তাদের অপরাজনীতির কু-ফলও বাংলাদেশের জনগণ মেনে নিবে না। ছাত্র ইউনিয়ন মনে করে ভাস্কর্য ও শিল্পবিরোধী মৌলবাদী দলগুলোর সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রতিহত করতে দেশপ্রেমিক প্রগতিশীল শক্তিগুলোর ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই।”
এসময় তারা চলমান ভাস্কর্যবিরোধীতার ঢামাঢোলে পাটকল শ্রমিকদের ও চিনিকল বন্ধের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং সারাদেশে ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে চলমান যৌক্তিক আন্দোলন শুরু যেনো আড়াল না হয় সেজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
