পিতাকে দুদকের ভয় দেখিয়ে অর্ধ কোটি টাকা উধাও

by News Room

তিমির বনিক,শ্রীমঙ্গল থেকে:শ্রীমঙ্গল উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন রাহিদ,বাবার বাড়ি বিক্রির ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।আজ সোমবার ১১ ঘটিকায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ছোট ভাই কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবিদ হোসেন তানভীর।

আবিদ হোসেন তানভীর জানান,দেলোয়ার হোসেন রাহিদ তাদের পরিবারের সাত ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়।পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে রাহিদ বাবার সব অর্থ ও সম্পদের দেখাশোনা করতেন। শহরের বাড়ি বিক্রির ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন দেলোয়ার হোসেন রাহিদ।

রাহিদ তার বাবাকে দুদকের ভয় দেখিয়ে বলেন,বাসা বিক্রির এ টাকা আপনার একাউন্টে থাকলে দুদক আপনাকে ধরে নিয়ে যাবে। এ কথা বলে তিনি টাকাগুলো তার নিজ ব্যাংক একাউন্টে জমা করে নিজের জিম্মায় নিয়ে নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

পরে দেলোয়ার হোসেন রাহিদ টাকার হিসাব দিতে নতুন নতুন অজুহাত সৃষ্টি করেন।অজুহাতের কারণ জানতে চাইলে অন্য ভাইদের সাথে রাহিদের শত্রুতা সৃষ্টি হয়।এই শত্রুতার জের ধরে..গত ২ রা ডিসেম্বর দেলওয়ার হোসেন রাহিদ’এর প্ররোচনায় তাদের ভাগ্নি আসফিয়া শাহরিন আচল শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে তাদের বাবা আব্দুস ছালাম,চাচা শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আবু শহিদ মোঃ আব্দুল্লাহ সহ তাদের পরিবারের নামে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ,জমি জবরদখল,লাঠিসোটা নিয়ে হামলার চেষ্টা,অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন মিথ্যা ও মান হানিকর অভিযোগ করেছেন।

তিনি জানতে চান আঁচল আড়াই কোটি টাকার মালিক হওয়ায় উৎস কোথায় এবং তিনি সরকারকে এসব সম্পদের কী পরিমাণ কর প্রদান করেন,এসব খতিয়ে দেখার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ করেন।

আবিদ হোসেন তানভীর সাংবাদিক সম্মেলনে তার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন,তাদের দাদা শ্রীমঙ্গল উপজেলার রূপশপুর মৌজায় বারিধারা আবাসিক এলাকায় প্রায় ১১ একর সম্পদ রেখে যান। দেশের প্রচলিত আইন ও ইসলামী শরিয়া রীতি অনুযায়ী এসব সম্পদ সুষ্ঠু বণ্টন না হওয়ায় এ নিয়ে আদালতে তিনটি স্বত্ব মামলা(২১-২০২০,১৩-২০২০,১৫-২০২০)বিচারাধীন রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, তাদের বিরোধ নিষ্পত্তি করতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন কার্যালয়ে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুছ ছালেক,মৌলভীবাজার জেলা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট আজাদুর রহমান,শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি মোঃ ইছুব আলী,৩নং শ্রীমঙ্গল ইউপি চেয়ারম্যান সহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক সালিশবৈঠকে তাদের বাবা, চাচার ক্রয়কৃত সম্পত্তির মধ্যে ১২ শতক জমির মূল্য বাবদ তাদের ভাগ্নি আসফিয়া শাহরিন আচলকে ৪৮ লাখ টাকা পরিশোধের রায় হয়।

কিন্তু আচল টাকা না দিয়ে উল্টো তাদের নামে মিথ্যা মামলা ও বিভ্রান্তমূলক তথ্য উপস্থাপন করে সমাজে তাদের পরিবারের সুনাম নষ্ট করার পায়তারা করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক এ নেতা আরও অভিযোগ করেন, তার ভাই রাহিদ টাকার লোভে আচলের পিছু নেয়। বাবা-মা ও পরিবারের সবাইকে নিয়ে তারা একত্রে বসবাস করলেও তার ভাই রাহিদের অপকর্মের কারণে আজ পরিবার ও সমাজ থেকে তিনি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বলে তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেন।

উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাহিদের বড় ভাই নাহিদ,তাদের চাচতো ভাই হিমেলসহ অন্যান্যরা।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন রাহিদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।যোগাযোগ করা হলে উনি বলেন ভাই  তানভীর আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট করার জন্য মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করেছেন। আমি পরিবারের টাকা আত্মসাৎ করিনি।

তিনি আরো অভিযোগ করেন আমার ছোট ভাই তানভীর পৌর প্রেসক্লাব সংগঠনের নামে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে যাচ্ছেন।

পৌর প্রেসক্লাবের চাঁদাবাজির বিষয়ে পৌর প্রেসক্লাব সভাপতি আবিদ হোসেন তানভীর বলেন বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন রাহিদ পারিবারিক বিষয়ে পৌর প্রেসক্লাবের অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট।

ইউনিয়ন অফিসে ১৬ ফেব্রুয়ারী সালিশবৈঠক বিষয়ে আসফিয়া শাহরিন আচল বলেন ১৬ ফেব্রুয়ারী সালিশবৈঠকের পরে ১৮ফেব্রুয়ারী আমার নামে তিনটি সত্ত মামলার সমন আসে,পরবর্তীতে চেয়ারম্যন ভানুলাল রায়ের সাথে যোগাযোগ করলে ভানুলাল রায় জানান যেহেতু আদালতে মামলা হয়েগেছে সেহেতু আদালতের ক্ষমতাই সর্বোচ্চ।

You may also like

Leave a Comment