‘বাংলাদেশ বন্ধু সমাজ’ কর্তৃক ঘোষিত ২৩ নভেম্বর ‘হিংসামুক্ত বিশ্ব সম্প্রীতি দিবস’ বাংলাদেশ থেকে শুরু করে পৃথিবীর সকল মানুষ যদি সকল ভেদাভেদ ভুলে উৎসবমুখর পরিবেশে অন্তত: একটা দিন অতিবাহিত করে তা’হলে পৃথিবীতে সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের যুুগের আগমন ঘটতে এবং প্রতিষ্ঠিত হতে পারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ‘বাংলাদেশ বন্ধু সমাজ’ যে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তা সত্যি বিস্ময়কর। আমার মতে এই দিবসটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সবারই পালন করা উচিত। গত সোমবার (২৩ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ’হিংসামুক্ত বিশ্ব সম্প্রীতি দিবস’ উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ বন্ধু সমাজ’ কর্তৃক আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট বিভাগের কৃতি সন্তান বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফায়েজী উপরোক্ত মত প্রকাশ করে বলেন, সভাপতির সূচনা বক্তব্যে ৩১ ডিসেম্বর ‘কৃতজ্ঞতা প্রকাশ দিবস’ পালনের ঘোষণাটিও ঐতিহাসিক। ‘বাংলাদেশ বন্ধু সমাজ’র এ সিদ্ধান্তকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এর উদ্যোগতাকে আমি স্যালুট জানাই।
উৎসবমুখর বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, ‘বাংলাদেশ বন্ধু সমাজ’র সভাপতি এফ. আহমেদ খান রাজীব। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জাতীয় দৈনিক পুনরুত্থান পত্রিকার সাবেক প্রধান সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক, হিংসা ও অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী লড়াকু কলমযোদ্ধা লিয়াকত আলী খান। স্বাগত বক্তব্যে কলমযোদ্ধা লিয়াকত আলী খান বলেন, দেশব্যাপী সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা অনেকটাই অশুভশক্তির নিয়ন্ত্রণে। যার ফলে সরকারের আন্তরিক চেষ্টা সত্তে¡ও দেশ ও সমাজের অনাচার-পাপাচার আর দুর্নীতি-দুর্বৃত্তপনা নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছেনা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, দৈনিক ভোরের সময়ের প্রধান সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান, দৈনিক পুনরুত্থান পত্রিকার প্রকাশক সাইফুল ইসলাম সবুজ, সাবেক মন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদের ছোটভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুরুল হক, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফাউÐেশনের সভাপতি এইচএম মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ ননক্যাডার পুলিশ কল্যাণ এসোসিয়েশনের আহŸায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আব্দুল ওয়াহেদ, যুগ্ম আহŸায়ক সাব ইন্সপেক্টর মোশাররফ হোসেন, গ্রীন পার্টির চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ খান ও রাজশাহীর বন্ধু হাবিবুর রহমান।
ঢাকার জনপ্রিয় দুই উপস্থাপক মঞ্জুর হোসেন ঈশা ও টি-মণি খানের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক ভারপ্রপাÍ প্রধান বিচাপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞার ছোটভাই ইরফান আলী, বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক নেতা ডিএম আমিরুল ইসলাম অমর, দৈনিক পুনরুত্থান পত্রিকার সহ. সম্পাদক আরিফা সবুজ, হবিগঞ্জের বন্ধু মুজিবুর রহমান খান, সাংবাদিক সুরাইয়া আক্তার সেলিনা প্রমুখ। বন্ধু সমাজ এর গণসংগীত যৌথভাবে পরিবেশন করেন, রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত সংগীত শিল্পী মো. শরীফুল ইসলাম ও সংগীত শিল্পী আজগর খান।
সভাপতির বক্তব্যে ‘বাংলাদেশ বন্ধু সমাজ’র সভাপতি এফ. আহমেদ খান রাজীব বলেন, ‘মানুষের মাঝে বন্ধুত্ব ও স¤প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি করাই হচ্ছে ‘বাংলাদেশ বন্ধু সমাজ’র মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, হিংসা-বিদ্বেষ-অহংকার পরিত্যাগ করে ভ্রাতৃত্ব-বন্ধুত্ব-সৌহার্দের মিশ্রণে স¤প্রীতি ও বন্ধুত্বের দেশ গড়তে পারলেই দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। বিশ্বব্যাপী বন্ধুত্বের বলয় সৃষ্টির আহŸান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশ ও জাতির উন্নয়নে সকল ভেদাভেদ ভুলে সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন। পরিবেশ যদি শান্তিময় হয়, তাহলে সকল কাজ যথাযথ হয়। আর পরিবেশ যদি সহিংসমূলক হয় সে ক্ষেত্রে সকল কাজ নিষ্ফল হয়। এজন্যই সকলের মধ্যে সু-সম্পর্কের জন্য ‘বাংলাদেশ বন্ধু সমাজ’র সভাপতি হিসেবে ২০১২ সাল হতে আজ অবধি ব্যক্তি দায়বোধ থেকে নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে সংগঠনটির সার্বিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছি।
ইতোমধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিবসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ও বিভিন্ন নীতিনির্ধারকদের নিকট ‘হিংসামুক্ত বিশ্ব স¤প্রীতি দিবস’ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে উদযাপনের আহŸান জানিয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালের ন্যায় এবছরও আজ (২৩ নভেম্বর) বাংলাদেশসহ পৃথিবীবাসীকে ‘হিংসামুক্ত বিশ্ব সম্প্রীতি দিবস’ উদযাপনের মাধ্যমে এই আহŸান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, চলমান সময়ে যুগের প্রয়োজনে সকল সংঘাত ও সন্ত্রাসমুক্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের পরিবেশ সৃষ্টির সহযোগিতায় বন্ধু সমাজকে সকল পক্ষের সেতু-বন্ধন বিবেচনায় মানবাধিকার কমিশন, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ন্যায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সহযাত্রী স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন হিসেবে সাংবিধানিক বৈধতাসহ জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি প্রদান অথবা জাতীয়করণ করার জন্য শান্তিকামী দেশবাসীর পক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ সকল নীতি-নির্ধারক মহোদয়গণকে অনুরোধ করছি।
রাজীব খান আরো বলেন, কলহ-দ্ব›দ্ব-সংঘাত ও সন্ত্রাসসহ সকল অনৈতিক কর্মকান্ড রোধে মানুষের মাঝে পাপবোধ জাগ্রত করতে কোনো এক পক্ষকে বন্ধুত্বের বলয়ে আবদ্ধ হয়ে দেশের বিপদগামী মানুষকে সু-পথের আহবান করা জরুরি। এ সময় তিনি মানবজাতির পক্ষে মহান আল্লাহ ও রাসূল (সা.) এর উদ্দেশে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ-বীরঙ্গণাসহ স্বাধীনতা উত্তরকাল থেকে সব সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানগণের ভালো কাজের জন্য ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার ‘আইডিইবি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তন’-এ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘কৃতজ্ঞতা প্রকাশ দিবস’ পালনের ঘোষণা দেন। আগামী বছর থেকে এই ‘কৃতজ্ঞতা প্রকাশ দিবস’-এ ভালো কর্মের জন্য দেশবরেণ্য ৫০জন ব্যক্তিকে ‘কৃতজ্ঞতা সম্মাননা পদক’ উপহার দেওয়ার প্রত্যাশাও করেন তিনি। বিজ্ঞপ্তি
