চিকিৎসা না পেয়ে দুই নবজাতকের গাড়িতেই জন্ম, গাড়িতেই মৃত্যু: দায় কার?

by News Room

সিলেটের খবর ডেস্ক:৬ ঘন্টায় তিন হাসপাতালে দৌঁড়ঝাপ করেও চিকিৎসা না পেয়ে দুই নবজাতকের মৃত্যুর দায় কার?

অটোরিক্সায় অপরিণত দুই নবজাতকের জন্ম। তারপর ৬ ঘন্টায় তিনটি হাসপাতালে এনআইসিইউ’র জন্য দৌঁড়ঝাপ। বেড খালি না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যায় দুই জমজ শিশু। দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দায় কার? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নাকি এনআইসিইউ সঙ্কট?

সোমবার সকালে প্রসব বেদনা শুরু হলে স্ত্রীকে নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিক্সায় করে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হন আবুল কালাম। পথেই জন্ম নেয় একটি শিশু। এরপর, মুগদা ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সামনে জন্ম হয় আরেকটি শিশুর।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সকাল ৮.৪০ মিনিটে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গাইনি বিশেষজ্ঞকে জরুরি কল করে হাসপাতালে আনা হয়। প্রায় আধাঘন্টা পর চিকিৎসক এসে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানান, নবজাতকদের আইসিইউ দরকার।

ঢাকা শিশুহাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, শিশু দু’টিকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালে পৌঁছে বেলা ১১টা ৪৯মিনিটে। ৪৫ মিনিট এনআইসিইউতে ভর্তির চেষ্টা করে ১২টা ৩৪ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যালের দিকে রওনা দেন তারা।

শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের এনআইসিইউতে বেড ১৪টি। প্রতিদিন অন্তত ৫০টি নবজাতকের জন্য সিরিয়াল থাকে হাসপাতালটিতে। তাই সঙ্গে সঙ্গে এনআইসিইউতে বেড দেয়া কখনোই সম্ভব হয় না।

শিশু হাসপাতাল থেকে দুপুর সোয়া দুইটায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হলে, অ্যাম্বুলেন্সে থাকতেই সেখানকার এনআইসিইউ বিশেষজ্ঞ নবজাতকদের মৃত ঘোষণা করেন। সেখানেও এনআইসিইউতে বেড মাত্র ২৯টি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের ৪০টি সরকারি হাসপাতালে স্বপ্ল পরিসরে এনআইসিইউ রয়েছে। যা দরকারের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। আর বেসরকারি হাসপাতালের এনইউসিইউ সেবা খুবই ব্যয়বহুল।

নবজাতক নিবীড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা এনআইসিইউ সঙ্কটে প্রতিদিন কতো শিশুর মৃত্যু হচ্ছে এর কোন পরিসংখ্যান নেই। আর এর দায়ও যেন নেই কারোরই।

You may also like

Leave a Comment