শনিবার বেলা ১১টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ১ নং নাহার খাসিয়া পুঞ্জিতে খাসিয়াদের উপর হামলার প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে আদিবাসী সম্প্রদায়ের নেতারা উপরোক্ত অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ওই মানববন্ধনে বক্তারা নাহার চা বাগান মালিককে ইঙ্গিত করে বলেন, তার প্ররোচনায় গত ৩০ মে বহিরাগত ও চা শ্রমিকরা খাসিয়াদের উপর আক্রমণ করে। ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে চা বাগানের ম্যানেজারের নেতৃত্বে প্রায় আড়াইশ থেকে তিনশ ভাড়াটিয়া লঠিয়াল বাহীনি লাঠি-সোটা নিয়ে তাদের নেহার পুঞ্জিতে খাসিয়াদের উপর হামলা করে। এতে দিল সুমের (৪৫), পুঞ্জির হেড ম্যানের স্ত্রী আসরীন পসহাট (২৮), দায়মান লামিন (৪০), কিমেন খংস্তিয়া (৩০) ও টুইস মোল্লা (৩০) গুরুত্বর আহত হন। এ সময় খাসিয়া পুরুষরা জুমের –
পরে পুঞ্জি আক্রমণের খবর পেয়ে তারা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। পরে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ওই সংঘর্ষের পর থেকে খাসিয়া পুঞ্জিতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, ঘটনার পর বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার পর থেকে পুঞ্জির লোকজন আতঙ্কে রয়েছে। আবার হামলার আশঙ্কায় তারা দলবদ্ধভাবে পুঞ্জি পাহারা দিচ্ছে। গত কয়েক দিন থেকে পুঞ্জিতে পান উত্তোলন ও বেচাকেনা বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা স্কুল কলেজে যেতে ভয় পাচ্ছে। এমতাবস্থায় নাহার পুঞ্জির খাসিয়াদের জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- সিলেট প্রেস ক্লাব ফাউন্ডেশনের সভাপতি আল-আজাদ, সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নবনির্বাচিত কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল, ডেপুটি কমান্ডার আকরাম আলী, অ্যাডভোকেট শিরিন আক্তার প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ অদিবাসী ফোরাম সিলেট শাখার সভাপতি গৌরাঙ্গ পাত্র।
বাংলাদেশ অদিবাসী ফোরাম সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক বনিফাস খংলার পরিচালনায় মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন- খাসিয়া স্টুডেন্ট ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লভিং সন।
