রাজনীতিতে নতুন সংযোগ এবি পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর চার কাহন

লাল তারা রঙমঞ্চ: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ভাবে যোগ হয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি(এবিপি)।বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এককালের কিংবদন্তী ছাত্রনেতা বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মজিবুর রহমান মঞ্জুর উদ্যোগে চলমান করোনাকালে এ পার্টি জন্মলাভ করেছে।অনেক দিন থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক শূন্যতা,দেউলিয়া ও দুর্বৃত্তপণা চলছে।বুর্জুয়া আর আদর্শিক দল গুলো সেই শূন্যতা কাটিয়ে উঠতে পারছে না।বরঞ্চ রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয় ক্রমশ। এ ধরনের সংকটকালেই কোন এক জনপদে রাজনৈতিক স্থিরতার জন্য জনগণের কল্যাণেই নতুন নতুন দলের আবির্ভাব ঘটে।ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় আওয়ামীলীগ, জামায়াত , বিএনপি,জাতীয় পার্টি নামক দলগুলিও সংকট কালীন রাজনৈতিক শূন্যতা পুরণে ডকট্রিন অফ নেসাসিটির সুত্র ধরেই জন্মলাভ করেছে।সুতরাং এখনও নয়া নয়া দলের আবির্ভাব ঘটতেই পারে।অস্বাভাবিক কিছু নয়।তবে বিষয় হল ইহা জন আকাঙ্ক্ষা পুরণ করতে পারবে কিনা অথবা জনগণের লালায়িত স্বপ্নসাধ পুরণ হবে কি? এটা এখন বলা কঠিন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু।ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন।দলে যাকে জীবন্ত শহীদ বলা হত।সারাদেশের মধ্যে ছাত্রশিবিরের প্রভাবশালী আস্তানা চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুঃসময়ে তিনি সভাপতি ছিলেন।সন্ত্রাসের ভয়াল জনপদ সেই চিটাগাংয়ে তিনি জীবন বাজি রেখে কাজ করেছেন।বার বার নির্যাতন ভোগ করেছেন।মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন।সেই স্কুল থেকেই সংগঠন করার কারণে বাড়ী থেকে বহিষ্কার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার , কারা নির্যাতন, বিরোধী পার্টি কর্তৃক শারিরিক আঘাত,মৃত ভেবে তাকে ফেলে যাওয়া,২৮ অক্টোবরের নারকীয় তান্ডবে মারাত্মকভাবে আঘাতের কারণে মরণের সম্মুখীন হয়েছেন।প্রতিবারই আল্লাহ তাকে বাঁচিয়েছেন।ছাত্রশিবিরে থাকা অবস্থায় সারাদেশে শৃংখলা ছিল।অসাধারণ প্রভাব বিস্তারকারী সম্মোহনী শক্তির এক বিরল নেতা তিনি।
আমার মনে পড়ছে তিনি কেন্দ্রীয় সভাপতি। আমরা রেল ষ্টেশনে গিয়েছিলাম প্রায় ১৫ টি মোটর সাইকেল নিয়ে।তিনি মাইন্ড করেছেন।১৫ টি গাড়ীর কমপক্ষে ১৫ লিটার জ্বালানী ব্যয়ের দায়ভার কে নেবে প্রশ্ন করেছিলেন সদস্য বৈঠকে।তিনি বলেছিলেন বায়তুল মাল যখন নেতার কোষাগার হবে তখনই বিপর্যয় ঘটবে।ইসলামের ইতিহাস তাই বলে।তিনি একজন নির্লোভ, নিরহংকার ও সাধারণ মনের মানুষ। তাঁর কোন উচ্চাভিলাষী আচরণ কিংবা দলীয় অর্থ লোপাট করে বড় হওয়ার কোন অভিলাষ আমরা দেখিনি।আমরা দেখেছি তিনি একজন নির্যাতিত দুঃখী মানুষ। অভিজাত বনেদী পরিবারের সন্তান হয়েও একদম সাধারণ চলাফেরায় অভ্যস্ত এক বিরল প্রতিভার মানুষ তিনি।অকুতোভয়, দুরদর্শী, ধী শক্তিধর প্রখর মেধাবী এক নেতা।
মজিবুর রহমান মঞ্জু জামায়াতের কেন্দ্রিয় মজলিসে শুরার সদস্য ছিলেন।ওপেন পলিটিক্স না করলেও দলের ইন্টেলেকচুয়াল কর্মগুলো তাঁর দ্বারা সম্পাদিত হত।দলীয় গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কাজের অজুহাত দেখিয়ে অসাংবিধানিক (তাঁর ভাষায়) ভাবে দল গতবছর তাঁকে বহিষ্কার করে।এটা দলের একটি আভ্যন্তরীণ ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফল।দল কাউকে বহিষ্কার করতেই পারে।এক্ষেত্রে বিধিবদ্ধ আইন অনেক সময়ই প্রতিপালন হয় না।আবার একজন লোক কে বহিষ্কার করলে তার ব্যাপারে ঐ দলের আর দায় থাকে না।
জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠা হওয়ার পরে দলের প্রথম দিকের নায়েবে আমীর উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা মনযুর নোমানী সহ বেশ কয়েকজন উচ্চ মানের নেতা বিভিন্ন কারণে বের হয়ে যান।৮০’র দশকের শেষের দিকে এদেশে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা ও পাকিস্তান জামায়াতের নায়েবের বিদগ্ধ আলেম মাওলানা আব্দুর রহিম বেরিয়ে যান।৮২’ সালে ছাত্রশিবিরের আভ্যন্তরীণ কোন্দলে ডাকসাইটে নেতা শিবিরের সভাপতি আব্দুল কাদের বাচ্চুর নেতৃত্বে এক দল ভাল মানের নেতা দল ছেড়ে চলে যান।গঠিত হয় ইসলামী ছাত্র মজলিস।জন্মলাভ করে খেলাফত মজলিস। ২০১০ সালে আবার কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রশিবির। তবে কেউ বেরিয়ে যায় নি।যদিও শিবির থেকে গণ পদত্যাগ হয়েছিল।২০১৯ সালে পদত্যাগ করেন জামায়াতের অন্যতম সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও দলের মুখপাত সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক।তাঁর পদত্যাগের পরের দিন বহিষ্কার হন মজিবুর রহমান মঞ্জু।জানা যায়,জামাতের নির্বাহী কমিটির মেম্বার সেলিম উদ্দিন ও ঢাকা মহামগর দক্ষিণের সেক্রেটারি মাসুদের কারণেই মঞ্জুর বহিষ্কারাদেশ ত্বরান্বিত হয়।ফলে এক বছর পর মজিবুর রহমান মঞ্জুরা নতুন রাজনৈতিক দলের জন্ম দিল।জন আকাঙ্ক্ষা পুরণে তারা কি করবে তা সময়ই বলে দিবে।
মাওলানা মওদুদী যখন দল গঠন তখন তাঁকে অনেক গালি শুনতে হয়েছে।বড় বড় গালি।মাওলানা মওদুদী জিহাদ সম্পর্কে দীর্ঘ ছয়শতাধিক পৃষ্টার বই ‘আল জিহাদু ফিল ইসলাম’ লিখা শেষ করে এই কথা বলেন, লিখা শুরু করছিলাম জাতীয় প্রয়োজনে জিহাদের অপব্যাখ্যা অপনোদন করে তার সবরুপ সঠিক চিত্র তুলে ধরতে।কিন্তু এখন দেখি এই কাজটি জাতীয় প্রয়োজনের চেয়ে দ্বীনী প্রয়োজন অধিক।
মজিবুর রহমান মঞ্জুর রক্ত,ঘাম,শ্রম,চেষ্টা,সময় ও অর্থ কোনটাই বৃথা যাবে না।ইতিহাসের পাতায় দুঃসাহসী নেতাগুলোর এমন চিত্র আমরা দেখতে পাই।সুতরাং এবি পার্টি কে সাধুবাদ জানানোর প্রয়োজন আছে।সাধুবাদ জানানো র মানে ঐ পার্টি কে সমর্থন করা নয়।এটা একটি রাজনৈতিক শিষ্টাচার। সামাজিক আচার।দিনশেষে খেলাফত মজলিসের মত এবিপিও জামায়াতের পাল্লায় আসতে পারে।বটে।
এবিপির আহবায়ক সোলায়মান চৌধুরী।সরকারে সাবেক সচিব ও এনবি আর এর চেয়ারম্যান ও ছিলেন।ওয়াল ইলেভেনের জরুরী অবস্থায় তিনি ফেনী জেলার ডিসি ছিলেন।পত্রিকার পাতা খুললে দেখা যেত ফেনীতে সোলায়মানী শাসন চলছে।তিনি একজন প্রভাবশালী ও ডাকসাইটে আমলা ছিলেন।সন্ত্রাসের গডফাদার ফেনীর জয়নাল হাজারীকে এলাকা ছাড়াতে বাধ্য করেছেন।এই সেই সোলায়মান যিনি সিলেটে একটি মার্ডার মামলায় অভিযুক্ত শিবির নেতাদের মুক্তি দিয়েছিলেন।শিবিরের সাথে সংঘর্ষে সে সময় জাসদের মুনির,তপন,জুয়েল নামে তিনজন মারা যায়।এই বিভীষিকা ময় পরিস্থিতিতে একজন সরকারী কর্মকর্তা হয়েও শিবিরের পাশে ছিলেন।

আমলাগিরি শেষ করে তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ও দলের পেশাজীবীদের সংগঠন ‘জাতীয় পেশাজীবী ফোরাম’ র কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন।তাঁর ভাষ্যমতে তিনি কোন অন্যায় করেন নি।বরঞ্চ অন্যায় আবদার নিয়ে আসছিল তারা।আমি এটা রিজেক্ট করি।আমি বলেছি,আমাকে এটা বলে আপনারা শপথ ভংগ করেছেন,সংবিধান লংঘন করলেন।

মজিবুর রহমান মঞ্জু মাওলনা মওদুদীর মত সাহসী ,জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান লোক।মাওলানা মওদুদী সাংবাদিক ছিলেন।তিনিও সাংবাদিক। পেশাগত মিল আছে।
মজিবুর রহমান মঞ্জু রাজনীতিতে এক নতুন ধারার আবির্ভাব ঘটাতে চান।তার এই ধারা এখনকার মডেলে বা বিশ্বজনীন আদলে ইসলামী আন্দোলনের নতুন ধারা।উনিশ শতকের শেষ কিংবা বিশ শতকের গোড়ার দিকে ইসলাম ইসলাম বলে ইসলামিক ফোবিয়া তৈরী হয়েছিল তা থেকে মুক্ত রাজনৈতিক ধারা সৃষ্টিই তাদের রাজনীতির মুল লক্ষ্য। নামের ইসলাম নয়,কাজের ইসলাম ও ইসলামের শিক্ষা,সৌন্ধর্য ও ব্যবহারিক দিকটাই ফোকাস হবে এখানে।তাদের ইশতেহারে বলা হয়েছে আমাদের অনুপ্রেরণার উতস ইসলামের সাম্যের দর্শন,মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার।
জামায়াতে ইসলামী বর্তমান বিশ্বের প্রভাবশালী একটি রাজনৈতিক আন্দোলন।ইসলামের নামে এত বড় আন্দোলন পৃথিবীতে ইখওয়ানুল মুসলিমীন ছাড়া আর তৃতীয়টি নেই।সারা দুনিয়ার দেশে দেশে এর বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শাখা,প্রশাখা,সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষীরা আছেন।
ভারতীয় উপমহাদেশে প্রতিষ্ঠিত এ দলটি শুরুতেই সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর সহায়তা পেয়েছিল।নিছক রাজনৈতিক কারণে।জামায়াতে ইসলামী রুশ ভারতের বিরুদ্ধবাদী রাজনীতিতে সিদ্ধহস্ত। মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র এর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ইসলাম কে মোডারেট হিসাবে উপস্থাপনের কৌশল গ্রহণ করে।ব্রিটিশ ভারত থেকে পাকিস্তানের স্বাধীনতা লাভ কিংবা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ কোনটিতেই জামায়াত অংশগ্রহণ করে নি।তবে পাকিস্তান আন্দোলনে মাওলানা মওদুদী বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন করেছেন।এবং পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর জামায়াত ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু করে।পাকিস্তানের বিভক্তি ও বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা আমেরিকা খুব ভাল চোখে দেখে নি।
জামায়াত কে অনেকে ইসলামী দল হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নারাজ।এটা তাদের ভ্রান্ত চিন্তার অসারতা ছাড়া কিছু নয়।ইসলাম কে রাজনৈতিকভাবে তুলে ধরতে জামায়াত ই অগ্রণী ভুমিকা রাখছে।ট্রাডিশনাল ইসলামী দল কিংবা আলেমসমাজ তার সিকিভাগও করতে পারে নি।কিছু কিছু ক্ষেত্রে জামায়াত অতিমাত্রায় রাজনীতি করলেও সর্বোপরি ইহা একটি আদর্শবাদী আন্দোলন।জামায়াতের নতুন আমীরের বক্তব্যে তাই ফুটে উঠেছে।

“খারাপ কাজ করলে আমার মেরুদণ্ড ভেংগে দিবেন।”-ডাঃ শফিক
এ যেন আমিরুল মুমিনীন কিংবা খলিফাতুল মুসলিমীনদের কালজয়ী দুঃসাহসী উক্তির দ্বিধাহীন পুনরাবৃত্তি।

ডাঃ শফিকুর রহমান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল। একজন প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ। সুবক্তা, দক্ষ সংগঠক এবং তৃনমুল থেকে বেড়ে উঠা একজন ধীমান ও চৌকষ নেতা হিসেবে সর্বমহলে পরিচিতি আছে তাঁর। সম্প্রতি তিনি ২০২০-২০২২ সাল পর্যন্ত তিন বছরের জন্য জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমীর নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি জামায়াতের চতুর্থ নির্বাচিত আমীর। তৃতীয় সারির তৃতীয় প্রজন্মের এক জন নেতা হিসেবে এমন এক সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এ (জামায়াত) সংগঠনের মূল নেতৃত্বের হাল ধরেছেন যখন তাঁর দল স্মরনাতীতকালের ভয়াবহ সংকট অতিক্রম করছে। দেশী, বিদেশী ও আভ্যন্তরীন নানামুখী ষড়যন্ত্র এবং শাসকদলের অত্যাচার নিপীড়নে বিপর্যস্ত এ সময়ে দলের যোগ্য কান্ডারী হলেন ডাঃ শফিকুর রহমান। তিনি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে এক গর্বিত সন্তান। সম্ভবতঃ তিনিই জামায়াতের প্রথম আমীর যার সাথে মুক্তিযুদ্ধকালে সারাদেশে সংগঠিত মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডের কোনোও আচঁড় নেই। শফিকুর রহমান একজন উজ্জল রাজনৈতিক নক্ষত্র। স্থানীয় ও জাতীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তাঁর রয়েছে বিরাট ভূমিকা। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এ নেতা পেশায় চিকিৎসক হলেও পরবতীর্তে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন এবং সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিগণিত হন। তিনি দলীয় দায়িত্ব কাঁধে নিতে ১৯৮৬ সালে দলীয় সিন্ধান্তেই সরকারী চাকুরী ত্যাগ করেন। এটা একটি বিরল ঘটনা।

ডাঃ শফিক ভাইয়ের সাথে আমার সম্পর্ক অনেক পুরনো, অনেক দিনের। আমি সাধারণত রাজনৈতিক কোনো ষ্ট্যাটাস দেই না। আজকের এই লিখাটিও রাজনৈতিক নয়, স্মৃতিচারনমূলক মাত্র। কলেজ জীবনে (১৯৯৫-১৯৯৬) আমি জনপ্রিয় শিশু- কিশোর পত্রিকা (সারা দেশের মাঝে সর্বাধিক প্রচারিত) মাসিক নতুন কিশোর কন্ঠের পাঠক ও সংগঠক ছিলাম। সেই সুবাদে ডাঃ শফিক ভাইয়ের শাহ্জালাল উপশহর এ বøকের বাসায় প্রায়ই যাতায়াত করতাম। শফিক ভাইয়ের ভাতিজা মেধাবী স্কুল ছাত্র মাহফুজুর রহমান বেলাল, শফিক ভাইয়ের দুই মেয়ে প্রতিভাবান স্কুল ছাত্রী সালওয়া ও সাবরীন কিশোরকন্ঠের পাঠক ছিল। ডাঃ শফিক ভাইয়ের একমাত্র ছেলে (নামটা ভুলে গেছি) সেই সময় খুবই ছোট ছিল। আমার মনে পড়ে একবার স্কুলে গিয়েছিলাম কিশোরকন্ঠ) বিলি করতে। সেই সময় ঐ খানে দেখা হলো ডাঃ শফিক ভাইয়ের সাথে। তিনি তাঁর ছেলেকে আনতে গিয়েছিলেন। কিন্তু, হাসপাতালে তার একটি জরুরী কাজ থাকায় আমাকে তাঁর ছ্ট্টো ছেলেকে বাসায় পৌঁছে দিতে সহযোগিতা চাইলেন। এভাবে তাদের হাত কিশোরকন্ঠ তুলে দিতাম আমরা।
২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় প্রায় ৬ মাসেরও অধিক কাল কুলাউড়ায় ছিলাম। ডা: শফিকুর রহমান সেখানে চারদলীয় জোট থেকে ইলেকশন করছিলেন। সে সময় তাঁর সাথে অনেক বার দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। কুলাউড়া উপজেলার সেই ইউনিয়নের জলে-স্থলে আমাদের বিচরন আর শফিক ভাইয়ের আকষর্ণীয় সম্মোহনী বক্তব্য সবাইকে বিমোচিত করে তুলত। অনেক স্মৃতি, অনেক ঘটনা, অনেক গল্প, হারিয়ে যাওয়া সেই দিনগুলি হৃদয়ে বার বার নাড়া ও দোলা দিয়ে যায়। কুলাউড়ার মানুষজন শফিক ভাই পরিচালিত মা-মনি হাসপাতালে আসলেই আমাকে খেঁ^াজ করত। শফিক ভাই তাঁর চিরাচরিত কন্ঠে ল্যান্ড ফোনে কল করে বলতেন, “-। তোমার মানুষ আইছইন। তাড়াতাড়ি আসো”। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো শফিক ভাই আমাকে তাঁর মায়াবী কন্ঠে কখনও -বলে ডাকেন, আবার কখনও -বলেও ডাকেন। অথচ -নামটি আমার গ্রামের মানুষ ছাড়া আর কেউই ডাকে না। অথচ আজ থেকে ২৭ বছর আগে যখন গ্রাম ছেড়ে শহরে প্রবেশ করেছিলাম তখন – নামটি পেছনে পড়ে গিয়েছিলো। মাঝে-মধ্যে পুরো নামের সাথে কেউ ডাকলেও আলাদা করে এই ডাকে নাম উচ্চারণ করার লোক আমার শহুরে জীবনে বিরল। মধুর ও ¯েœহময়ী কন্ঠে অনুজদের ডেকে কথা বলা লোক এ সমাজে আর নেই। সেই শ্রদ্ধাস্পদ অগ্রজ আর খোঁজে পাওয়া যায় না এখন। সামগ্রিক ভাবে আমরা হয়েছি ইট-পাথরের দালানের মতো শক্ত, হারিয়েছি জলমিশ্রিত সিমেন্টের সেই নরম গাথুঁনি।
ডা: শফিকুর রহমান একজন জাতীয় নেতা। সম্প্রতি সিলেটে (২১শে নভেম্বর’১৯ বৃহস্পতিবার) তাঁর সাথে দেখা হয়েছিল এবং একসাথে সান্ধ্যকালীন নাস্তাও করেছি। তাঁর মুখ থেকে রাজনীতি, কুটনীতি, দেশ, ধমর্, দেশে দেশে মুসলিম নিপীড়ন ও বর্হিঃবিশ্বে ইসলামের পূর্ণজাগরণ সহ অনেক স্মৃতি-বিস্মৃতি আশা জাগানিয়া কথা শুনেছি। জানা-অজানার এক ফাঁকে আমি প্রশ্ন করেছিলাম, আরো অনেকেই অনেক কিছু জানতে চেয়েছিলেন। বলেছিলাম আমার দুটি প্রশ্ন যা হলো:
১. জনাব, বহিঃবিশ্বের ইসলামী আন্দোলন ও রাজনীতি সম্পর্কে আমাদের কিছু বলুন? বিশেষ করে সাম্প্রতিক কালে আপনি মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাজ্য, ইউরোপের আরো কয়েকটি দেশসহ দুনিয়ার বিভিন্ন এলাকা ও জনপদ সফর করেছেন। সে জন্য সে সকল দেশের সমাজ ও রাজনীতি সম্পর্কে একটু বলুন। আমরা উপকৃত হব।
২. আরেকটি বিষয় জানতে চাই, তুরস্ক এবং মালয়েশিয়ার শাসক দলের সাথে আপনার ও আপনার দলের সম্পর্ক ও যোগাযোগ কেমন? পাশাপাশি চীনদেশের সাথে আপনার দলের কোনো কুটনৈতিক সম্পর্ক আছে কিনা, থাকলে কোন পর্যায়ের কতটুকু?
ডাঃ শফিকুর রহমান তাঁর স্বভাব সূলভ ভঙ্গিতে বললেন -র প্রশ্ন গুলো পুরোপুরি কুটনৈতিক। তিনি আরববিশ্ব সহ বিশ্বরাজনীতি ও তাঁর দলের অবস্থান সম্পর্কে সবিস্তারে বর্ণনা করলেন। আমি সেদিকে এগুতে চাই না। এক পর্যায়ে ডাঃ শফিক ভাই আবেগঘন বক্তব্যে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ কথা ব্যক্ত করলেন যেগুলো তাঁর দল ও দলীয় নেতা কর্মীদের জন্য বর্তমানকালে অত্যান্ত সময়োপযোগী, কারণ জামায়াত ও জামায়াতের কর্মীরা এখানেই দোদুল্যমান, এতে তারা হোঁচট খান বার বার। তাই তাঁর মহামূলবান অভিব্যক্তির চুম্বক অংশগুলো পাঠকের কাছে তাঁরই ভাষায় তুলে ধরলামঃ

১. সিলেট মেডিকেল কলেজ থেকে এম.বি.বি.এস পাশ করে মেডিকেল অফিসার হিসেবে সুনামগঞ্জের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে (জামালগঞ্জ কিংবা দিরাই বললেন) সরকারী চাকুরী করছি। সিলেট জেলা আমীর আমাকে চিঠি পাঠালেন মজলিশে শুরার বৈঠকে আসতে। আমি যথারীতি মজলিশে শুরার অধিবেশনে যোগ দিতে সুনামগঞ্জের সেই অজপাড়া গাঁয় থেকে রওয়ানা দেই। দিনটি ছিল ২৬শে মার্চ ১৯৮৬ ইংরেজী। রাস্তার দুরত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতমানের ছিল না বিধায় সিলেট পৌঁছাতে আমার দেরী হলো। এসে পেলাম মিটিং সবেমাত্র শেষ হয়েছে। সভার সদস্যগণ তখনও স্থান ত্যাগ করেন নি। তৎকালীন জেলা আমীর সবাইকে বললেন মিটিং যদিও শেষ তারপরও আমরা একটু বসি। শুরু হলো আবার মিটিং। আমাকে বলা হলো আপনাকে আমরা সিলেটে চাই। বললাম, কিভাবে চান? চাকুরী সহ না চাকুরী ছাড়া। জেলা আমীর বললেন, সেটা আপনার ইচ্ছা। আমি কিছু সময় ভাবলাম, বললাম ১০মিনিট সময় দেন আমাকে। আমি ভাবলাম চাকুরীযুক্ত থেকে এই দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। তাই কিছুক্ষন পর একটি রেজিগনেশন জবংরমহ) লেটার জেলা আমীরের হাতে তুলে দিলাম। বললাম, এটা ডিজি হেলথ্ কে দিতে হবে। তৎক্ষনাৎ জেলা আমীরের মোটর সাইকেলে (সম্ভবত ৫০/৮০ মডেল) চড়ে তিনি সহ সরকারী দপ্তরে সেটি দিয়ে আসলাম। এই যে দলের ডাকে সংগঠনের শুরার বৈঠকে আসলাম, আর কখনও ফিরে যাই নি সুনামগঞ্জের আমার প্রিয় সেই কর্মস্থলে। ফিরেও তাকাই নি সেদিকে। আমার কাপড়-চোপড়, ব্যাগ এন্ড বেগেজ সব কিছুই পড়ে থাকল সেখানে। আড়াই বছর পর আমার ছোট ভাই ফখরুল সহ আমার এক চাচা সেগুলো সুনামগঞ্জ থেকে নিয়ে আসেন। জেলা আমীর ঐ দিন তাঁর বাসার একটি কক্ষে আমাকে নিয়ে গেলেন এবং বললেন এইখানে তুমি ও মিনু (আমার ওয়াইফ) থাকবা। আমি বললাম এটা কার রুম। আমাকে বলুন। তিনি বললেন, সেটা বলা যাবে না। তোমরা এখানে থাকবে। আমি বললাম, এটা যার বিছানা তিনিই এখানে থাকুন। আমরা বরঞ্চ অন্য কোথাও থাকি। এটা বরং বেটার হবে। তিনি ধমক দিয়ে বললেন, আমি জেলা আমীর না তুমি জেলা আমীর। এই ছিল অধস্থনদের প্রতি একজন জেলা আমীরের মায়া-মহব্বত ও ভালোবাসা। সেদিন জেলা তাঁর নিজের বিছানা ছেড়ে দিয়ে ভ্রাতৃত্ব বোধ ও ভালোবাসার চরম পরাকাটা দেখিয়েছেন। বন্ধুগন, আমাদেরকে এই জায়গায় ফিরে আসতে হবে। নতুবা আমরা বারাকা পাব না। যদি আমরা পুনরায় এখানে (ভ্রাতৃত্ববোধ ও ভালোবাসা, ত্যাগ স্বীকার) ফিরে আসতে পারি তাহলে আমরা দুনিয়া ও আখেরাতে বিজয়ী হব। কোনো শক্তি আমাদেরকে আটকাতে পারবে না। স্মৃতি চারনের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ১৯৮৭ সালে সিলেটের উত্তপ্ত রাজনৈতিক ময়দানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের জন্য জেলা প্রশাসন সমঝোতা বৈঠকের আহŸান করে। জেলা প্রশাসকের অফিসে আহুত মিটিংয়ে যোগ দিতে জিন্দাবাজারে আহত হন তৎসময়ের জেলা আমীর প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ অধ্যাপক ফজলুর রহমান। সন্ত্রাসীদের গুলি যখন লক্ষ্যচুত হলো তখন তারা রিবলবারের বাট দিয়ে তাঁর মাথা ভেঙ্গে দিল। আমি তাঁকে হাসপাতালে পাঠিয়ে খুবই হন্তদন্ত হয়ে ডিসি অফিসে গেলাম। তৎকালীন ডিসি-এসপি আমার দিকে লক্ষ্য করে বললেন কি, কেউ নিহত হয়েছে? আমি বললাম এই অবস্থা। তৎক্ষনাৎ সভা স্থগিত করে তাঁরা (ডিসি-এসপি) হাসপাতালে আমার নেতাকে দেখতে এলেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা সে দিন বলেছিলেন, আমাদের আহŸানে সাড়া দিয়ে সবাই যোগ দিতে এ ধরণের ঘটনা, মেনে নেয়া যায় না। একই দিনে প্রতিপক্ষ ৭২ জন কে গ্রেফতার করল প্রশাসন।
পরিস্থিতি ক্রমে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে গেল। সিলেট শহরে থাকার জায়গা ছিলো না। পায়ের নিচে মাটি নেই, এমন অবস্থা। আমরা হাউজিং স্ট্যাট আফতাব চৌধুরীর বাসায় জায়গা নিলাম। সেখানে ৩ দিন থাকার পর একদিন রাত্রে তাঁর স্ত্রী ভিতর থেকে চিরকুট পাঠিয়ে সংবাদ দিলেন- “আমার স্বামী জরুরী কাজে ঢাকায় চলে গেছেন। আমি হার্টের রোগী, দয়া করে ঘরটি ছেড়ে দিলে ভালো হয়।” আমরা নিরূপায় হয়ে কীনব্রীজ পার হয়ে নদীর ও পাড়ে চলে গেলাম। সেদিন সুরমা নদীতে আমাদের ফোঁটা ফোঁটা অশ্রæ বিসর্জিত হয়েছিল। ফলে সিলেট শহরে অনেক ভাইকে গ্রামের বাড়ী-টাড়ী বিক্রি করে জায়গা জমি কিনতে উৎসাহিত করলাম।
২. আমাদের কিছু ভাই (জন আকাঙ্খাকে ইঙ্গিত করে) মতের পার্থক্যের দরুন আজ একটু দুরে সরে গেছেন। আমরা তাদেরকে ফুলের পাঁপড়ি দিয়েও একটি আঘাত করব না। আমরা সু-সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। আমাদের কিছু ফেসবুক বোদ্ধা এমন বিস্ত্রি ভাষায় তাদের গালি-গালাজ করেন যা আমাদের দলের কোন পরিভাষো তো নয়ই এবং ইসলামেও এটি এলাও করে না। তারা কি মেসেজ দিচ্ছে তা একটু খেয়াল করুন। তাদেরকে দরদভরা মন নিয়ে দোয়া করুন। তারা কোনো কষ্ট পায় এমন কিছু করা আমাদের জন্য শোভনীয় নয়। লক্ষনীয়, আমরা দায়িত্বশীলরা যেখানে নীরব সেখানে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের এক্ষেত্রে আরো দায়িত্ববান হতে হবে।
৩. আমাদের ব্যাক্তিগত আচার-আচরণ, লেনদেন ও পারিবারিক দায়িত্বপালনে আরো যতœশীল হতে হবে। এতে উদাসীন হলে চলবে না।
৪. মনে রাখতে হবে, আমরা সবাই মানুষ। ধর্ম ও দল-মতের পরিচয়ের উর্ধ্বে উঠে মানবিকতার দায়িত্ব পালন করতে হবে। সংকীর্ণ দলীয় মানসিকতা পরিহার করে চলতে হবে। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। আমাদের বড় পরিচয় আমরা মানবজাতি। মানবজাতির কল্যানের জন্যই আমাদের সৃষ্টি। এখানে কোন ভেদাভেদ নাই, দলীয় পরিচয় নেই। আল-কোরআনে আসে মানুষও মানবজাতিকে উদ্দ্যেশ্য করেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
৫. বন্ধুগন, আমি আপনাদের এক ভাই। আমার দুর্বলতা সম্পর্কে আল্লাহ এবং আমি ছাড়া আর কেউ ভালো করে জানবে না। ইলমী এবং আমলী যোগ্যতায় আমি একজন ফকিরমাত্র। আমাকে আপনারা ভালবাসেন বলেই এই গুরু দায়িত্ব আমার উপর অর্পন করেছেন। এখানে আমার কোন ইচ্ছা বা অভিলাষ নাই। এ দায়িত্ব অভিনন্দিত কিংবা অভিষিক্ত হওয়ার নয়। অথবা মোবারকবাদ পাওয়ার মতো নয়। আমার দুইটা অনুরোধ। এ দায়িত্বের অবহেলায় অতীতে অনেকের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। আমি চাই না আমার দ্বারা শহীদের রক্তভেজা এ সংগঠন কালিমালিপ্ত হোক। আমি যদি কোনো খারাপ কাজ করি তাহলে আপনারা আমার মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিবেন। এটা করলে আমার জন্য ইনসাফ হবে। আর যদি এটা আপনারা না করেন তাহলে আপনারা আমার হক (অধিকার) নষ্ঠ করলেন। আর আপনারা আমার জন্য দোয়া ও সহযোগিতা করবেন।
ডাঃ শফিকুর রহমানের শেষোক্ত বক্তব্যটি আমিরুল মোমেনিন কিংবা খলিফাতুল মুসলিমীনদের দায়িত্বভার গ্রহন পরবর্তীকালে উম্মুক্ত জনসমাবেশে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণকে স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি যেন পূর্বসুরী সত্যানুসারী নেতৃত্বের কালজয়ী সেই দুঃসাহসী কথাগুলো দ্বিধাহীন চিত্তে পূণর্ব্যক্ত করলেন। ডাঃ শফিক ভাই জামায়াতের নতুন রাজনৈতিক প্লাটফরমের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সময় ও সুযোগমত সুবিধাজনক সময়ে এটার আত্মপ্রকাশ ঘটবে। অনেক কাজ এগিয়েছে। স্ট্রাটেজিক্যাল প্লান ইতো মধ্যে অনেকাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, আমি মনে করি চূড়ান্ত ফায়সালা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসবেই। আমি কিংবা আপনাকে শুধু চেষ্টাটা করে যেতে হবে। আমরা সিরাতুল মুশতাকিমের পথে থাকবোই। আর কুরআন-সুন্নাহর পথই হচ্ছে এ পথ। তিনি হযরত ইয়াকুব (আ:) এর ইতিহাস টেনে বলেন, তিনি তাঁর পুত্রদেরকে ভিন্ন ভিন্ন দরজা দিয়ে প্রবেশের কথা বলেছিলেন। কিন্তু, কোন কাজ হয় নি। তবে আমরা কারো চাপে কিছু করবো না, আবার আমরা কোন কিছু উপেক্ষা ও করব না।
ডাঃ শফিক ভাই কথা প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের দেশে কার্যত কোন রাজনীতি এখন আর নেই। রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা ভেঙ্গে পড়েছে। দেশে এক ব্যক্তির শাসন চলছে। খোদ আওয়ামীলীগ ও যেখানে ঠিকমত রাজনীতি করতে পারতেছে না, সেখানে বি.এন.পি সহ বাকী রাজনৈতিক দলগুলোর কথা আর কি বলব?
তিনি বিশ্ব রাজনীতি সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে তুরস্ক কে মুসলিম বিশ্বের ত্রাণকর্তা উল্লেখ করে বলেন, তুরষ্কই একমাত্র দেশ যাহা বিশ্বব্যাপী মুসলিম নিপীড়নের বিরুদ্ধে দঃসাহসী ও সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি এরদোয়ান ও তাঁর দলের নেতৃত্বকে লিবারেল জাতীয়তাবাদী টাইপ লিডারশীপ অভিহিত করে বলেন, দেশ, মুসলমান ও ইসলামের জন্য তাদের অগ্রণী ভ‚মিকা ও অবদান ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।
“খারাপ কাজ করলে আমার মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিবেন।” -ডাঃ শফিক
(এ যেন আমিরুল মোমেনিন কিংবা খলিফাতুল মুসলীমিনদের কালজয়ী দুঃসাহসীদের উক্তির দ্বিধাহীন পুনরাবৃত্তি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*