সিলেট-০৫ আসনে আ’লীগের একাধিক প্রার্থী, বিএনপি-জামায়াতে বিরোধ

by News Room

জুনায়েদুর রহমান : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট-০৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসন পুনরুদ্ধার করতে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। বিগত ০৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এককথায় আসনটি আওয়ামীলীগ জাতীয় পার্টিকে উপহার দিয়েছিল। কিন্তু এবার আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতাকর্মী এই আসনটি কোনোভাবেই ছাড় দিতে রাজি নয়।

অপরদিকে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে এই আসনটি নিয়ে রয়েছে বিরোধ। বিগত ২০০১ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জামায়াতের অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। এরপর ২০০৮ সালেও চার দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী ছিলেন অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন, তিনি পেয়েছিলেন ৭৭ হাজার ৬৪৩ ভোট। এর আগে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন এই জামায়াত নেতা। ঐতিহ্যগত ভাবে এই আসনে জামায়াতের প্রভাব বহুদিনের পুরোনো।

কিন্তু এসব আমলে না নিয়ে বিএনপি এই আসন থেকে এবার তাদের প্রার্থী দিতে চায়। কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী নিজেকে ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। এসব নিয়ে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, জামায়াতকে এই আসনটি আমরা অনেক দিন যাবৎ ছাড় দিয়ে এসেছি। এবার সময় এসেছে আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়ার।

আওয়ামীলীগের দলীয় সূত্রে জানা যায়, এবার আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক প্রার্থী মাঠে কাজ করছেন। তাদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন মনোনয়নে এগিয়ে রয়েছেন। বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল, পরে জাতীয় পার্টির সাথে আসন ভাগাভাগিতে মাসুক উদ্দিন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন। আবার এ আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হতে চাইছেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আহমদ আল কবির, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী সাবেক ছাত্রনেতা এডভোকেট মোস্তাক আহমদ। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটির কাউন্সিলর রমনা শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল মুনির চৌধুরী নামে আরেক আওয়ামীলীগ নেতা মনোনয়নের জন্য মাঠে রয়েছেন।

অন্যদিকে এক জরিপে এ আসনের সাধারণ জনগণের সাথে কথা বললে তারা আওয়ামীলীগের সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ আহমদ মজুমদারের কথা বেশী উচ্চারণ করেন। তৃণমূলের কথা বিবেচনা করে দল চাইলেও এবার আর প্রার্থী হচ্ছেন না প্রবীণ এ রাজনীতিববিদ। সর্বশেষ তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে ১ লাখ ৯৫৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। হাফিজ মজুমদার বলেন, আমার পা এখন কবরের দিকে। এখন নির্বাচন করার বয়স আছে নাকি? নির্বাচন করার মোটেই বাসনা নাই। এ কারণে গত বছরও নির্বাচন করিনি।

তবে এখান থেকে আওয়ামীলীগের যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক না তৃণমূলের নেতাকর্মী তার সাথেই কাজ করার কথা জানান।

এদিকে আসনটিতে বিএনপির প্রার্থীতা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জামায়াতের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। জামায়াতের নেতাকর্মীরা বলছেন, সর্বশেষ কানাইঘাট উপজেলা নির্বাচনে আশিক চৌধুরীকে সমর্থন দিতে গিয়ে জামায়াতের অধ্যাপক আব্দুর রহিমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। জামায়াতের ভোটে আশিক চৌধুরী উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে জামায়াতের প্রার্থীর বিরুদ্ধেই প্রার্থী হওয়ায় বিষ্ময় প্রকাশ করেন তারা।

এ ব্যাপারে আশিক চৌধুরীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, জামায়াত কোনো নিবন্ধিত দল নয়। এক্ষেত্রে বেগম জিয়া জেল থেকে ছাড়া পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে দলের কাছে আমি মনোনয়ন চাইবো। পরে আশিক চৌধুরীর কাছে প্রশ্ন করা হয়, জোট যদি অধ্যক্ষ ফরিদ চৌধুরীকে সমর্থন দেয় তখন আপনার অবস্থান কি হবে? এতে তিনি বলেন, আমি দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিবো।

You may also like

Leave a Comment