সম্পাদকের অধিকার; Right to Editor

নিউজ ডেস্ক: সম্পাদক হচ্ছেন একটি সংবাদপত্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি। সংবাদ কক্ষের প্রধান ব্যক্তি তিনি। তিনি বিশেষ গ্রেডের পদবীধারী।হাউজের সকল সাংবাদিক, কর্মকর্তা -কর্মচারী তাঁর অধীন।
তাঁর নির্দেশ ব্যতিরেকে কোন সংবাদ প্রকাশিত হতে পারে না। আইনের নির্দেশে প্রকাশের বস্তু নির্ধারণের অধিকারী সম্পাদক। গণমাধ্যমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোন খবরের জন্য সম্পাদকই দায়ী থাকেন। মিডিয়ার উপর মামলা হলে তা হয় সম্পাদকের নামে। প্রকাশিত প্রতিটি শব্দের জন্য তাঁকেই আইনগত দায়ী করা হয়ে থাকে।
সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে মালিক কোনরূপ হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। মালিক যদি এমন চুক্তি করেন যে, তাঁর অনুমতি ও নির্দেশ ছাড়া পত্রিকায় কোনো কিছু প্রকাশ করা যাবে না তবে সেই ব্যাক্তি আর যাই হোন না কেন আইনের চোখে সম্পাদক হবেন না।
সম্পাদক একজন ভার্সেটাইল জিনিয়াস । সমাজতত্ত্ব, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, ইতিহাস, গণিত, ভূ-গোল, আইন, কলা, শিল্প ও রাজনীতি সহ যে কোন বিষয়ে তাঁর দখল তর্কাতীত। থাকতে হয় কারিগরি জ্ঞান। তিনি দেশ, পাঠক ও সংবাদের হৃদস্পন্দন অনুভব করার ক্ষমতা রাখেন।
সম্পাদকের ভূমিকা খিলানযুক্ত দালানের Key- Stone এর মত।স্থিতিবিজ্ঞানের নিয়মানুযায়ী তিনি key role এর ভূমিকা পালন করে থাকেন। অন্যদিকে তাঁর ভূমিকা pivot এর মত। এটা গতিশীলতার প্রতীক। নতুন নতুন আইডিয়া বা ভাবধারা গ্রহণ করে গণমাধ্যমে ডাইনামিজম বা গতিশীলতা তৈরী করেন।
সম্পাদক হলেন একজন ইন্টেলেকচুয়াল লিডার। তিনি কলম-পেষা চাকুরে মাত্র নয়। তিনি তাঁর হাউজের স্বল্প সংখ্যক কয়েকজন সাংবাদিকেরই যে নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন তা নয়। বরং গোটা সমাজ বা দেশের আপামর জনসাধারণের নেতৃত্ব দেন তিনি।
মনে রাখতে হবে, সাংবাদিকরা জাতির জাগ্রত বিবেক। সংবাদ কারবারিদের তৃতীয় নয়ন নামে আরেক চোখ আছে।তারা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের মানুষ। আবার গণমাধ্যম কে বলা হয়ে থাকে সমাজ ও জাতির দর্পণ। ইহা চতুর্থ রাষ্ট্র নামে অভিহিত। রাষ্ট্র ও সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ। যেখানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই কিংবা স্বাভাবিক কাজ বাধাগ্রস্ত হয় সেখানে গণতন্ত্র নেই বললেই চলে। এ ধরনের জনগুরুত্বপুর্ণ প্লাটফর্মের চূড়ায় অবস্থান করছেন সম্পাদক।
গণমাধ্যম হল জ্ঞানের ভান্ডার। সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। সমাজের মানুষ কে সঠিক তথ্য সরবরাহ করা, তাদেরকে শিক্ষিত করে তোলা, তাদেরকে বিনোদন দেয়া, জনমত সংগঠিত করে মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার সহ বহুবিধ কাজ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো করে থাকে। কোন কিছু সম্পর্কে ব্যখ্যা দান করা, কোন বিষয় সম্পর্কে পথ-নির্দেশনা দান বা পরিচালনা, বিজ্ঞপ্তি প্রচার কিংবা দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে তথ্য ও মন্তব্য দ্বারা সমৃদ্ধ করা প্রেস বা গণমাধ্যমের অন্যতম কাজ। সমাজের মানুষের সুখ-দুর্ভোগ, সুবিচার -অবিচার, সঙ্গতি-অসঙ্গতি সহ নানা বিষয়ের সুনিপুণ চিত্র অংকিত হয় গণমাধ্যমে।সর্বতোভাবে সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় সংবাদ মাধ্যম কাজ করছে। একজন সম্পাদকই প্রবলভাবে এ কাজগুলো চালিয়ে থাকেন সম্মিলিত ভাবে।
সম্পাদক, সম্পাদকের অধিকার, কার্যাবলী, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সম্পাদকের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত লেখার দাবী রাখে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*