প্রবাসীদের কর্মক্ষেত্রে ফেরা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেগময় চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনাকালিন সময়ে দেশে আসা প্রবাসীদের কর্মক্ষেত্রে ফেরা নিয়ে ভোগান্তি লাগবের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেগময় খোলা চিঠি লিখেছেন শাহজালাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী মোজাম্মেল হোসেন রুবেল। এটি এখন সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ঘুরছে।

সিলেটের খবর ২৪ডটকম এর পাঠকদের জন্য খোলা চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
দেশে আটকেপড়া প্রবাসীদের প্রতি সদয় হোন, আল্লাহ আপনার প্রতি সদয় হবেন।

জাতির পিতার যোগ্য উত্তরসূরী,
পত্রের শুরুতেই আমার সালাম নিবেন। দেশর সামগ্রীক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রবাসীদের কল্যাণে আপনার সরকারের ভূমিকা খুবই প্রসংশনীয়। কিন্তু এই করোনাকালিন সময়ে দেশে আসা প্রবাসীরা নিজেদের কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে শুরু হয়েছে চরম ভোগান্তি। এই ভোগান্তির একটা শেষ প্রয়োজন। এজন্য আজই প্রথম আপনার কাছে আমার এই খোলাচিঠি। জানিনা এই চিঠি আপনি পর্যন্ত পৌঁছবে কি না? তার পরও লিখলাম। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন চাইলে আপনি পর্যন্ত আমার এই লেখা পৌঁছানো অসম্ভব কিছু নয়।

ঘটনা-১
বাহরাইন প্রবাসী আব্দুস সালাম (ছদ্মনাম) ছুটিতে এসেছিলেন করোনায় যথা সময়ে ফেরত যেতে পারেননি। ভিসার মেয়াদ ২৫ জুলাই শেষ, অপরদিকে কফিল বলেছে দ্রুত ফেরত না গেলে ভিসা বাতিল। যে বিমানের ফিরতি টিকেট ছিল তারা ফ্লাইট শুরু করেনি।
নতুন টিকেটের জন্য অনেক চেষ্টা তদবির। শেষ পর্যন্ত পেয়েছেন কিন্তু দাম ১লাখ ৬০হাজার টাকা, এত টাকা কোথায় পাবেন? জমি বন্ধক, স্ত্রীর গহনা বিক্রি, কর্জ সবকিছু মিলিয়ে ব্যবস্থা হয়েছে ১লাখ ১০হাজার টাকার, কিন্তু বাকি টাকা ছাড়া ট্রাভেল এজেন্সী টিকেট দিতে অপারগ। বাধ্য হয়ে ৬০হাজার টাকার হালের গরু ৪৫হাজার টাকায় বিক্রি করে গত ২৩ জুলাই আমিরাত এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে দেশ ত্যাগ করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীগণ সাধারণত বছরে ১ মাসের ছুটি পান। কিন্তু প্রতি বছর ছুটি দেননা নিয়োগকর্তা, বাধ্য হয়ে ২/৪ বছর পর একবার ছুটিতে আসেন। এমনিতে সামান্য বেতন তারপর টানাপোড়েনের সংসার দুইয়ের সমন্বয় ঘটাতে দিনরাত হাহাকার। পরিবার পরিজনের কথা চিন্তা করে গাধারমত খেটেই যাচ্ছেন। অনেক আবেগ আর ভালবাসা বুকে নিয়ে যখন এসকল মানুষ কয়েকটি দিনের জন্য দেশে আসেন তখন অনেক বিড়ম্বনার শিকার হন।
বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীতে যে সকল প্রবাসীগন দেশে এসে আটকা পড়েছেন তাদের অবস্থা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। বিগত দিনগুলোতে পরিবার নিয়ে চলতে গিয়ে সহায় সম্বল সব শেষ। এমনকি প্রিয়জনের গহনাগাঁটি অনেকে বিক্রি করে ফেলেছেন। এখন ফেরত যাওয়ার জন্য টিকেটের প্রয়োজন, এয়ারলাইনসগুলো পুরাতন টিকেটে ভ্রমনের সুযোগ দিচ্ছেনা। নতুন টিকেটের মূল্য আকাশচুম্বী।
মধ্যপ্রাচ্যার দেশ বাহরাইনের ২৫-৩০ হাজার টাকার বিমান ভাড়া ১লাখ ২৮হাজার থেকে ১লাখ ৬৫হাজার টাকা। দুবাই আবুধাবির ২৫হাজার টাকার ভাড়া এখন ৫৬হাজার থেকে ১লাখ ৭হাজার টাকা। এগুলি বাদই দিলাম, কাতার এবং ওমানের ফ্লাইট শুরু হলে কি হবে আল্লাহ ভাল জানেন।
এছাড়াও সাধারণ মানুষ যেখানে ২০০ টাকায় করোনা পরীক্ষার ফি দেন সেখানে প্রবাসীদের জন্য সাড়ে ৩হাজার টাকা। শুধু টাকা দিয়েই শেষ নয় তাদেরকে তিন দিনই দৌড়াতে হয় বিভিন্ন জায়গায়। এদিকে, আগামী ১লা আগষ্ট থেকে আবার যুক্ত হচ্ছে নতুন ট্যাক্স, এ যেন মরার উপর খাড়ার গা।
এমতাবস্থায় দিশেহারা এসকল প্রবাসীদের জন্য নিম্নবর্ণিত উদ্যোগগুলো নেয়া অত্যন্ত জরুরী বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি।
১। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত দূতাবাসগুলো সে দেশের সরকারের সাথে দ্রুত ও ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে প্রবাসীদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহন।
২। যাদের ফিরতি টিকেট রয়েছে তাদেরকে সেই টিকেটে বিনা চার্জে ফ্লাইট দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহন।
৩। নতুন টিকেটের ক্ষেত্রে সহনীয় পর্যায়ে মূল্য নির্ধারণ। প্রয়োজনে বিমান বাংলাদেশের বিশেষ ফ্লাইট চালু করে কর্মস্থলে প্রেরন করুন।
৪। করোনা পরিক্ষার ফি সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা নির্ধারন করে অনলাইনে নিবন্ধন ও সার্টিফিকেট গ্রহনের সুযোগ প্রদান।
৫। ১-২ বছরের জন্য বিনা সুদে ১লক্ষ টাকা ঋন প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বিভিন্ন সেক্টরে বিপুল পরিমান প্রনোদণা দিয়ছেন। দেশের রাজস্বের একটি বড় অংশ আসে ফরেন রেমিট্যান্স থেকে। এজন্য দয়া করে এসব অর্ধমৃত প্রবাসীদের দিকে তাকান, উনাদের সহজে নিজেদের কর্মক্ষেত্রে ফিরে যেতে সাহায্যের হাত প্রসারিত করুন।
আরশের মালিক আপনাকে নেক হায়াত এবং দুনিয়া ও আখেরাতে উত্তম বদলা দান করুন।
মোজাম্মেল হোসেন রুবেল
ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী
চেয়ারম্যান, শাহজালাল ফাউন্ডেশন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*