বিশেষ সম্পাদকীয়ঃ গণমাধ্যমের আস্থা, বিশ্বাস ও ঐশ্বর্য ফেরাতে হবে

আবদুল কাদের তাপাদার:

মনে আছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর অত্যন্ত কাছের
সম্পাদক, সিনিয়র রথি মহারথী সাংবাদিকদের
সেদিন কী ভাষায় ভর্ৎসনা করেছিলেন?

ক্যাশিনো কান্ডে জড়িত রাজা মহারাজারা আটকের
পরে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে আমাদের স্পষ্টবাদী
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা খুবই আশ্চর্য হয়ে বলেছিলেন,
দেশে এতো বড় অপরাধের ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি
হলো অথচ কোনো মিডিয়াই সে খবর জানলো
না! আমরাই সেটা খোঁজে বের করলাম।

আপনারা তো সেটা নিয়ে কিছুই লিখতে পারলেন
না।

আমি সেদিন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন লাইভ
দেখছিলাম।
তিনি যখন তার সামনে বসা সাংবাদিকদের চোখে
আঙুল দিয়ে ক্যাশিনোর ভয়ংকর জগতের বর্ণনা
দিচ্ছিলেন, আমার মনে হয়েছে আমাদের প্রধানমন্ত্রীই
আসলে দেশের সবচেয়ে বড় অনুসন্ধানী সাংবাদিক
আর তার সামনে বসা সাংবাদিকরা গণমাধ্যমের
সাইনবোর্ড ব্যবহার করা কিছু অন্যরকম মানুষ!!
আমি সেসময় ফিরে গিয়েছিলাম সাংবাদিকতার

অতীতের সোনালী স্মৃতি মধুর যুগে।
যখন দেশের শাসকরা সমাজের ভেতরে ঘটে যাওয়া
নানা কাহিনি, জঠিল ও কঠিন বিষয়ের আসল তথ্য
জেনে নিতে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের
দ্বারস্থ হতেন।এমনকি গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন
অনেক ক্ষেত্রেই যেটা পারতে সক্ষমতার পরিচয়
দিতে ব্যর্থ হতেন, সংবাদমাধ্যম সেখানে সফল হতো
চরমভাবে।
সে সময়ে সংবাদমাধ্যমে সাধারণ মানুষের অসম্ভব আস্থা
ও বিশ্বাস ছিল। মানুষ অন্ধের মতো বিশ্বাস
করতো সাংবাদিকদের।

দেশের প্রভাবশালী শাসকেরা, মন্ত্রী, আমলা থেকে
শুরু করে রাজনৈতিক নেতারা তটস্থ থাকতেন
সাংবাদিকদের ভয়ে।কখন কার আমলনামা
প্রকাশ পায়। কখন ভেতরের লুকিয়ে থাকা
খবর বের হয়ে যায়!

আর এখন?
কী ঘটছে আমাদের চারপাশে?
দেশের ভয়ংকর এক অপরাধী,প্রতারকের
ভাগ বাটোয়ারার সংগী দেখি গণমাধ্যমে
জগতের রথি মহারথীরা।

যারা টেলিভিশনে,গণমাধ্যমে জাতিকে
নসিহত করেন প্রতিনিয়ত।

ছিঃ ছিঃ।
লজ্জায় আজ আমাদের মাথা হেট হয়ে
যায়।এ কী দেখছি আমরা!
এও কী সাংবাদিকতা,এও কী গণমাধ্যমের চিত্র!

আজ কী তাহলে গণমাধ্যম
অনেকটাই পথ হারিয়েছে।খেই হারিয়ে
ফেলেছে আমাদের সোনালী ইতিহাসের ঐশ্বর্যে
মোড়া সাংবাদিকতা? না। এসব অলক্ষুণে বিষয়
বিশ্বাস করতে চাই না আমি!

আমি বিশ্বাস করি,
এখনো গণমাধ্যম সাধারণভাবে গণমানুষের
আস্থা ও বিশ্বাস হারায়নি।
তা নাহলে সংবাদপত্রের লাখ লাখ কপি
বাজারে চলতো না।টেলিভিশনের সামনে
বসে মানুষ খবরের স্বাদ নিতো না।
অনলাইন পোর্টালে পাঠকেরা হুমড়ি খেয়ে
পড়তো না।

কিছু কিছু অতি লোভী, রাজনৈতিক ও ভুয়া
চেতনাধারী সাংবাদিক, লেজুড়বৃত্তিক কর্মকাণ্ডের
মাধ্যমে এই মহান পেশাকে আজ প্রশ্নবিদ্ধ করে
তুলেছেন।

প্রকৃত দেশপ্রেমিক, পেশাদার সাংবাদিকদের
আজ এ বিষয়ে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়ার
আহবান জানাই।

দয়া করে গণমাধ্যমেকে পিশাচ, লোভী
ও সাংবাদিক নামধারী অপ -সাংবাদিকদের
হাত থেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন।

আবদুল কাদের তাপাদার
সহ-সভাপতি
সিলেট প্রেসক্লাব
সম্পাদক, এখন সিলেট ডটকম।


Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*